আমেরিকা ও চীনের মধ্যে কোনদিন যুদ্ধ সম্ভব! আগামী দিনে যুদ্ধ হলেও চীনের কি ক্ষমতা আছে আমেরিকাকে হারিয়ে দেওয়ার

নিউজ ডেস্ক –  দীর্ঘ সত্তর বছর ধরে চীন এবং আমেরিকার মধ্যেকার সম্পর্ক যে শত্রুতার সেই বিষয়ে অজানা নয় কারোরই। কিন্তু আগামী দিনে অর্থাৎ ভবিষ্যতে আমেরিকায় এবং চীনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে আদৌ কি আমেরিকাকে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে চীন। আমেরিকা এবং চীনের মধ্যে কার ক্ষমতা কতটা সেটি স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। 

আমেরিকায় এবং চীন এই দুটি দেশের মধ্যে দ্রুত লাগার আগে আগে নজর দিতে হবে দুটি দেশের যুদ্ধাস্ত্রের উপর।  প্রথমে আসা যাক আমেরিকায়, ওই দেশের  লেজার টেকনোলজি ভীষণ উন্নত ।এখন পর্যন্ত চারটি দেশ স্যাটেলাইট যুদ্ধাস্ত্র করতে সক্ষম হয়েছে। তারা হলো আমেরিকা ,রাশিয়া,চীন এবং ভারত। ২০১৯ সালে ভারত এএসএটি পরীক্ষা করে।ভারতের স্যাটেলাইট বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও আছে। তবে শুধুমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র নয় প্রতিবেশী দেশের সমর্থনের দিক থেকেও শিখরে রয়েছে আমেরিকা।  আমেরিকার পক্ষে রয়েছে অষ্ট্রেলিয়া ,কানাডা, ব্রিটেন ,ফ্রান্স ,জাপান ,দক্ষিণ কোরিয়া এবং  ইজরায়েল। সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনদিন চীনের সঙ্গে আমেরিকার সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে এই প্রতিবেশী দেশগুলি এক পায়ে খাড়া হয়ে যাবে আমেরিকার পক্ষে। তবে শুধুমাত্র স্থলে নয় এই যুদ্ধ পৌঁছাতে পারে মহাকাশেও। আমেরিকার কাছে আমেরিকান অ্যান্টি স্যাটেলাইট বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তারা চাইলেই  চীন ও রাশিয়ার স্যাটেলাইট ধ্বংস করে যোগাযোগ ও সমন্বয়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি লেজারের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে আক্রমণও করতে পারে। 

অন্যদিকে এবার দেখা যাক চীমের দৃশ্য। শুধুমাত্র আমেরিকা নয়  একাধিক দেশের সঙ্গে আদায় কাঁচকলা রয়েছে চীনের সম্পর্ক। কমবেশি প্রত্যেকটি দেশের সঙ্গে চীনের যুদ্ধ হওয়ায় বর্তমানে চীনের সঙ্গে মাত্র দুটি দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ১৯৩১ সালে চীন জাপান যুদ্ধ, ১৯৬১ সালে চীন ভিয়েতনাম যুদ্ধ ,১৯৬২ সালে চীন ভারত যুদ্ধ  এবং চীন কাম্বোডিয়া ও চীন তাইওয়ান দ্বন্দ্ব। এমনকি চীন রাশিয়া বিবাদও বেশ পুরোনো। ফলে চীনের ১৪ টি প্রতিবেশীর মধ্যে মাত্র দুটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে ড্রাগন দেশের।  আর সেই দুটি হল পাকিস্তান এবং উত্তর কোরিয়া।  যদিও এই দেশ দুটি গোটা বিশ্বে নিন্দনীয়।  এছাড়াও চীনের সমর্থনে রয়েছে রাশিয়া। সেক্ষেত্রে আমেরিকার তুলনায় চীনের সমর্থনকারী দেশের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। যার কারণে বর্তমানে আমেরিকান যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস রাসেল চীন ও তাইওয়ানের মধ্যবর্তী তাইওয়ান প্রণালীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে অথচ চীন তার কোন প্রতিবাদই করেনি। চীনের তরফ থেকে এই চুপ করে থাকা আমেরিকাকে ভয় পাওয়া নাকি আগামী দিনে কোন অশনি সংকেত সেটি এখন দেখবার।  

তবে যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের চীন এবং আমেরিকার যুদ্ধ হলে সেটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নামে পরিচিত হবে। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন কোন যুদ্ধ হয়নি যেখানে আমেরিকা পরাজিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে মাত্র দুটি প্রতিবেশী দেশের সমর্থনে আমেরিকার সামনাসামনি যুদ্ধে দাঁড়ানো চীনের পক্ষে একটু কষ্টকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.