লোকোমুখি প্রচলিত সূর্যোদয়ের দেশ জাপান, আদেও কি সত্য এই প্রবাদ

নিউজ ডেস্ক –  সূর্য ছাড়া যেমন চাঁদের নিজস্ব কোন অস্তিত্ব নেই ঠিক সেরকমই চীন ছাড়া জাপানের অস্তিত্ব অত্যন্ত নগণ্য। তবে দীর্ঘ বছর ধরে প্রচলন হয়ে আসা সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত জাপান কি আদেও সত্যিকারের দেশ!  এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এক একজন এক এক মতামত পোষণ করেছেন। একপক্ষের মতে ভৌগোল, ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় কিছু কারণের জন্যই জাপানকে সূর্যোদয়ের দেশ বলা হয়। যদিও অপর পক্ষের মতে সঠিক পদ্ধতিতে সার্বিক দিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যাবে প্রশান্ত মহাসাগরের রিপাবলিক অফ কিরিবাতি নামের একটি ছোট্ট দ্বীপদেশ রয়েছে, যেটি সূর্য উদয়ের দেশ হিসেবে সাক্ষী বহন করে চলেছে। তবে শুধুমাত্র মুখের কথায় নয় আসলে সূর্যোদয়ের দেশ কোনটি তার সঠিক বিশ্লেষণ করেছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রথমত, যারা মনে করেন জাপান হল সূর্যোদয়ের দেশ তাদের মতে – মূলত তিনটি কারণের জন্য জাপানকে সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে মনে করা হয়। ভৌগলিক,ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয়।  যথা – 

১) ভৌগলিক :- ভূ-মানচিত্রের মতে চীনের পূর্ব দিকে অবস্থান করে জাপান। এবং সূর্যোদয় পূর্বদিক থেকে হওয়ায় প্রথম সূর্যের কিরণ পরে জাপানে। সেই দিক বিবেচনা করেই চীনারা জাপানকে সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন।

২) ঐতিহাসিক :- চীনের বিভিন্ন নথি, সাহিত্যে জাপানের কথা বলা হলে তাকে নিপ্পন বা সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবেও বর্ণনা করা হতো। জাপানের সম্রাটদের নথিতেও এরূপ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।

৩) ধর্মীয় :- জাপানিদের পর অনেক ধর্মের নাম সিন্থ। সেই ধর্মতেও একই বিষয়ে উল্লেখ করা রয়েছে। ধর্মগ্রন্থের লেখা অনুযায়ী জাপানের সম্রাটগণ সূর্য দেবতা আমাতেরাসুরের বংশধর এবং স্বর্গ থেকেই তারা জাপানের শাসনকর্তা হিসেবে নির্বাচিত। সেই জন্য জাপানকে সূর্যোদয়ের দেশ বা Land of Rising Sun বলা হয়। 

অন্যদিকে, সঠিক বিশেষণ মতে জাপান সূর্যোদয়ের দেশ নয় বলে যারা মনে করেন তাদের কথা অনুযায়ী – একাধিক দেশ জাপানকে সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে মানলেও সেখানকারী কিছু বাসিন্দা রয়েছে যারা এই বিষয়ে অমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের বুকে অনেক ছোট ছোট দ্বীপদেশ আছে যারা সূর্য উদয়ের প্রথম প্রভাত উপভোগ করে। তাঁদের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের রিপাবলিক অফ কিরিবাতি নামের একটি ছোট্ট দ্বীপদেশ সূর্য উদয়ের প্রথম সাক্ষী।  এছাড়াও ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যাবে ১৬৪০ খ্রিষ্টাব্দে একদল ওলন্দাজ নাবিক সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসীমা প্রদক্ষিণ করে। তখন থেকে অস্ট্রেলিয়াকে সবচেয়ে পূর্বের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হত। তারও প্রায় ১৩০ বছর পর ক্যাপ্টেন জেমস কুক ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেন। অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার হওয়ার অনেক পরে প্রায় ১৮ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ধীরে ধীরে ছোট ছোট অনেক দ্বীপদেশ  আবিষ্কৃত হয়েছে। বহু পরে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসায়  জানা গিয়েছে নিউজিল্যান্ডের পিট আইল্যান্ড ভারত মহাসাগরের একেবারে পশ্চিম গোলার্ধে এন্টারটিকার কাছাকাছি অবস্থিত। তাই এই দ্বীপটিও জাপানের চেয়েও চার ঘণ্টা আগে সূর্যোদয় হয়। এছাড়াও দ্যা রিপাবলিক অফ কিরিবাতি প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে পূর্বের দেশ হওয়াতে সেখানেই সূর্য প্রথম উদিত হয়। অর্থাৎ জাপান নয় সঠিকভাবে বলতে গেলে সূর্যোদয়ের দেশ হিসাবে পরিচিতি হওয়া উচিত দ্যা রিপাবলিক অফ কিরিবাতি দ্বীপের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.