বিপদ সংকেত ছাড়াই পৃথিবী থেকে হারিয়েগেছে যে ৪ টি বিমান

নিউজ ডেস্ক –   বর্তমানে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সবচেয়ে কম সময় ব্যায়ের   পরিবহন পরিষেবা হলো বিমান। খুব অল্পসময়ের মধ্যেই নিজেদের ইচ্ছামত দেশে পৌঁছে দেয় এই পরিবহন ব্যবস্থাটি‌। তবে মাঝেমধ্যে আকাশের পরিস্থিতি খারাপ হলে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হয় বা মাঝেমধ্যে ক্রাশ হয়ে যায়। যদিও তার পেছনে থাকে যথেষ্ট কারণ। তবে এমন পাঁচটি বিমান রয়েছে যেগুলি অজ্ঞাত কারণে উধাও হয়ে যায়। এর নেপথ্যে কোনরকম যুক্তিযুক্ত কারণ আজব খুঁজে পায়নি পরিষেবকরা। আজ সেই সকল রহস্যময়ী গল্প নিয়ে লেখা হয়েছে প্রতিবেদনটি। 

১) প্যান আম ফ্লাইট ৭ – আকাশে প্রাথমিক দিকে স্বাভাবিকভাবেই চলছিল বিমানটি। কিন্তু হঠাৎই মাঝ আকাশ থেকে উধাও হয়ে যায়। পরবর্তীতে বোয়িং ৩৩৭ বিমানটির বহুদিন ধরে চিরুনি তল্লাশি করে তার ধ্বংসাবশেষের খোজ মেলে প্রায় এক সপ্তাহ পরে। এই প্লেন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ৪৪ জন যাত্রীর। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেকে শরীরের থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস পাওয়া যায়। অথচ বিমান পরিচালকেরা কোন বিপদ সংকেত পায়নি পাইলটদের কাছ থেকে। যদিও এর নেপথ্যে লুকায়িত রহস্যটি আজও  অধারা রয়েছে বিশেষজ্ঞদের কাছে। এই সম্পূর্ণ ঘটনাটি ঘটেছে ১৯৫৭ সালের সময়কালে।

২) ফ্লায়িং টাইগার ফ্লাইট ৭৩৯ – এই প্লেনটি  মূলত ১০৭ জন সেনাবাহিনী সহ রসদ নিয়ে যাত্রা করছিল ১৯২৬ সালের ১৫ই মার্চ। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ভিয়েতনামর সাইগনে যাত্রাকালীন  গুয়াম অঞ্চলেই কিছু পরিমাণ জ্বালানি নেওয়ার জন্য নামে প্লেনটি‌। কার্যত এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বিমানের। গোটা প্লেনের ১০৭ জন সেনাসহ দিন দাহারে উড়ে যায় আস্ত একটি প্লেন। পরবর্তীতে অবশ্য বহু গবেষকরা প্লেনটি খোঁজ করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু প্রত্যেকবারই তারা বিফলে যান। 

৩) ইউএসএয়ার ফ্লাইট ৪২৭ –  আর পাঁচটি প্লেনের মতো এই প্লেনটিও  ১৯৯৪ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর প্রায় ১৩২ জন যাত্রী সহ শিকাগো থেকে পিটসবার্গে যাত্রা করছিল। কিন্তু আচমকাই ইউএসএয়ার ফ্লাইট ৪২৭ ভূমিষ্ঠ হওয়ার মাত্র ৮ মিনিট  আগে ৩০০ মাইল গতিতে ভূমিতে আছড়ে পরে বিমানটি। তবে হঠাৎ এমন বিমান দুর্ঘটনা কারণ জানতে দীর্ঘ চার বছর ধরে এর পরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘদিনের এই পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী গবেষকদের মতে বিমানের রাডারে সমস্যা থাকায় পাইলট অভিজ্ঞ হওয়া সত্বেও বিমান দুর্ঘটনা এড়িয়ে যেতে পারেননি তিনি। 

৪) টিডব্লিউএ ফ্লাইট৮০০ – অন্যান্য বিমানের মত এই বিমানটি ও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বিনষ্ট হয়ে যায়। পাইলটদের মতে ১৯৯৬ সালে  ২৩০ জন যাত্রী নিয়ে প্যারিসগামী বিমানটি নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডয়ের তীরবর্তী অঞ্চলে আসতেই মধ্য আকাশে হঠাৎই বিস্ফোরিত হয়। তবে‌ এর  সঠিক কারণ বর্তমানেও অধরা গবেষকদের কাছে। অনেকে অনুমান বিমানটি মিসাইল ছুঁড়েছিল, আবার অনেকের অনুমান আকাশের কোন উল্কার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়ে বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু এর আসল কারণ জানতে দীর্ঘ চার বছর ধরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিজ্ঞানীরা। এরপরেই তারা অনুমান  করেন বিমানটি আকাশে ওড়ার সময় মাত্র ১২ মিনিটের মাথায় তারের গোলযোগের কারণে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়।৫) এয়ার ফ্রান্স ফ্লাইট ৪৪৭ –  ২২৮ জন যাত্রী সহ রিও ডি জেনেরিও থেকে ফ্রান্সে ফেরার পথে আচমকা উধাও হয়ে যায় বিমানটি। তবে বহু খোঁজাখুঁজির পরে অবশেষে পাওয়া গিয়েছিল সেটি। বিমানের মধ্যে থাকা সকল যাত্রীদেরই মৃত্যু হয়েছিল। ২০০৯ সালের ঘটায় এই বিমানটি দুর্ঘটনার  বিষয়ে বিগত চার বছর ধরে গবেষণা করেছিল গবেষকরা। এর পরই গবেষকরা একটি ২০১২ সালে রিপোর্ট তৈরি করে। যেখানে লেখা ছিলো কারিগরি ত্রুটি, অদক্ষ চালক ও খারাপ আবহাওয়ার জন্য প্লেন দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.