আন্তর্জাতিক

নিজের বোনকে গর্ভবতী করেছিলেন কোন দেশের রাষ্ট্রপতি জানেন?

নিউজ ডেস্ক সকলেই সাদাসিদে অর্থাৎ সাধারণ জীবন যাপন করতে পছন্দ করেন। যেখানে নিজের পরিবারকে নিয়ে সুখে থাকবেন সকলে। কিন্তু প্রাচীন যুগের রাজ রাজাদের আমলে সিংহাসনের অধিকারে পরিবারের সদস্য এবং শত্রু হয়ে উঠত পরিবারের।  ঠিক সেইভাবেই একজন সাধারন যুবক তাঁকে নিশংস রাজা পথে এগিয়ে ছিলেন ইদি আমিন।  তার নিশংস তার গল্পই বিস্তারিত ভাবে লেখা হয়েছে প্রতিবেদনে।  এমনই নৃশংসতার সাক্ষী হয়েছিল উগান্ডা।  

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় সভ্যতা আসার আগে স্বীকার করে খাওয়া মানবজাতি এখনো বসবাস করে উগান্ডাতে। মূলত উগান্ডার বান্টু ভাষাভাষী জনগণ মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে দক্ষিণাংশে বসবাস শুরু করেছিল আজ থেকে প্রায় আনুমানিক দু’হাজার বা পনেরোশো বছর আগে।  এই সম্প্রদায়ের মানুষদের মূল পেশা ছিল লোহার কাজ।  সেই কাজ করে দেশের অর্থনীতিও রাজনৈতিক সংগঠনের কাঠামো করেছিলেন তারা ।  ১৪-১৫ শতকে  দেশের রাজত্ব বিস্তার করেছিল কিতারা সাম্রাজ্য। কিন্তু সেই সাম্রাজ্যের পতন ঘটতেই দেশের অবনতি ঘটে।  দেশের অন্যান্য যে সংগঠনগুলি ছিল যেমন বুনিইওরো  কিতারা, বুগান্ডা সহ  একাধিক সংগঠন।  যদিও পরবর্তীতে অর্থাৎ উনিশ শতকে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের আগমন ঘটে দেশে।  তখন তাদের রাজত্বে আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠে বুগান্ডা ও বুনিয়োর। 

পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে  উগান্ডা সাম্রাজ্যটি ব্রিটিশ প্রজেক্টরেটে পরিণত হয়।  সেটি কিছুদিন চলার পর ১৯৬২ সালে  ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পায় উগান্ডা।  এরপরই শুরু হয় আসল খেলা।  ১৯৭০-১৯৮০ সালের মধ্যে দেশে ইদি আমিন ও মিল্টন অবত ওবোতের মোটর স্বৈরশাসনকারীদের মধ্যে শিকার হয়। যার মধ্যে জয়লাভ করে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও হিংস্র ইদি আমিন।   দ্য বুচার অফ উগান্ডা  নামে সমধিক পরিচিত ইদি আমিন দাদা বিশ্বের অন্যতম স্বৈরাচারী শাসক ছিলেন। তিনি ১৯৭০ দশকের উগান্ডার সামাজিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শাসনে আসেন।  এরপরই দীর্ঘ আট বছর ধরে গোটা দেশের উপর তাণ্ডব চালায় ইদি আমিন। যার মধ্যে তিনি এক লক্ষের বেশি মানুষ হত্যা করেছেন। নাবালিকা বহু তরুণীকে গণধর্ষণ করেছেন। মানুষরূপী পশু ইদি আমিন। 

তবে একজন নিরীহ শিশুটিকে হিংস্র শাসক হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে কিছু লুকায়িত রহস্য।  জানা যায় ওবোতের সাথে  একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল ইদি আমিনের। কিন্তু তার বন্ধুত্ব কে কাজে লাগিয়ে তলে তলে সামরিক ক্ষমতা ও প্রভাব বৃদ্ধির জন্য ব্রিটিশ ও ইসরায়েল গুপ্তচরদের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন ইদি আমিন।  যদিও পরবর্তীতে এমন বিশ্বাসঘাতকতার কথা জানতে পেরেছিলেন ওবোতে। এরপরই দুই বন্ধুত্বের মধ্যে শেষ হয় সম্পর্ক।  বিশ্বাসঘাতকতার কারণে আমিনকে গৃহবন্দী করেন ওবোতে। কিন্তু ততদিনে আমিনের এতটাই প্রভাব-প্রতিপত্তি হয়ে গিয়েছিল যে তাকে ঘরবন্দী করে রাখবো করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।  মূলত এই সুযোগটাই খুজছিলাম ইদি আমিন।   ১৯৭১ সালের ২৫শে জানুয়ারি দেশের ক্ষমতা দখল করে নিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করেন  ইদি আমিন।  এসকল ঘটনায় হয়েছিল ওবোতের  আড়ালে। তখন তিনি রাষ্ট্রীয় সফরে সিঙ্গাপুর পাড়ি দিয়েছিলেন।  আর সেই সুযোগেই নিজের কাজ হাসিল করে নিয়েছিলেন ইদি আমিন।  

ক্ষমতায় আসার পরই দেশের ঘোল বদলে দেয় ইদি আমিন। দেশের শাসনভার গ্রহণ করার পরেই প্রশাসন ভেঙে দেয় তিনি।  পুলিশের বদলে সেখানে নিজের কিলার বাহিনী গঠন করেন।  এরপরই গোটা দেশবাসীর পাশাপাশি  ওবোতের অনুগামীদের উপর চালায় পাশবিক অত্যাচার।  তবে একজন দেশ নায়ক হওয়ার পাশাপাশি তার চরিত্র ছিল বড়ই খারাপ।  গোটা দেশের বহু নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছিলেন তিনি।  এমনকি তাদের গর্ভবতীও করে দিতেন। তবে নারীসঙ্গ ভোগ করতে করতে এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছেন যে নিজের বোনের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করে তাকেও অন্তঃসত্ত্বা করে দিয়েছিলেন ইদি আমিন। এরপরে পরিবারের কলঙ্ক মুছতে বোনকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তবে গোটা দেশের জন্য কলংক হিসেবেই পরিচিতি রয়েছেন ইদি আমিনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *