“বাড়িতে কাজ না করে বসে থাকলে মানুষিক সমস্যা বাড়তে থাকে, তবে সেটা আমার হয়না” কন্যাকুমারিকা চন্দ মুখোপাধ্যায়
সুমিতঃ অতিমারি বা মহামারীতে প্রান কেড়ে নিয়েছে বহু মানুষের। সারা পৃথিবী জুড়ে আজও মানুষ লড়ে যাচ্ছে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ওষুধ আসলেও তা এখন সহজলভ্য নয়, আসলে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে মানুষের সবথেকে বড় ওষুধ হল মানুষের শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা। আর সেই প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে ভাল খাওয়াদাওয়া, শরীরচর্চা এবং মন ভাল রাখা। তবে মন ভাল রাখলে একটা আলাদা শক্তি পাওয়া যায়। সাধারন মানুষের মন ভাল রাখতে সিনেমা, সিরিয়াল দেখা থেকে শুরু করে নতুন কেনাকাটা করে থাকেন। তবে কখনও ভেবে দেখেছেন যারা আমাদের বিনোদন দিয়ে মন ভাল রাখেন, তারা কিভাবে মন ভাল করে রাখেন? অর্থাৎ শহর কলকাতার তারকারা কিভাবে মন ভাল রেখেছেন?
অভিনেত্রি কন্যাকুমারিকা চন্দ মুখোপাধ্যায়। তিনি এই লকডাউন কিভাবে কাটাচ্ছেন? বা কিভাবে তিনি মন ভাল রেখেছেন এই পুরো লকডাউনে?
আংশিক লকডাউন চলছে, কমবেশি সকলেরই মন খারাপ। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের উচিৎ মন ভালো রাখা, কারন মন ভালো থাকলেই একটা পসিটিভ এনার্জি পাওয়া যায়। তুমি মন ভালো রাখতে কি কি করছো?
কখনওই চুপচাপ বসে না থেকে নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখতে চাই। আমরা মেয়ে ছোট তাই ওর কাজ গুলো করতে করতে অনেকটা সময় কেটে যায়। অনেকসময় এতটা কাজ থাকে যে নিজেকে ক্লান্ত লাগে, যদিও সেটা ভাল। কারন কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখার ফলে মনে হয় যে আমি একটা প্রডাক্টিভ দিন কাটাচ্ছি। তবে সবথেকে বড় ব্যাপার বাড়িতে কাজ না করে বসে থাকলে মানুষিক সমস্যা বাড়তে থাকে, তবে সেটা আমার হয়না।
বাড়িতে বসে কাজ করলে বিরাট একটা সময় থেকে যায় যখন বসে থেকে কাটাতে হয়। তখন বেশিরভাগ মানুষ সিনেমা দেখার কথা ভাবে বা ওয়েব সিরিজ। তুমি কি কি ছবি দেখলে বা ওয়েব সিরিজ?
আমি বই পরতে খুব ভালবাসি। পাশাপাশি এখন ওয়েব সিরিজের অপশান প্রচুর। গতবছর বেশ কিছু ওয়েব সিরিজ দেখেছিলাম। যেগুলোর এখন সেকেন্ড সিজেন আসছে। তবে সম্প্রতি আমার দেখা একটি ভাল ওয়েব সিরিজ হল “আউট অফ লাভ সিজেন ২”, “ফ্যামিলি ম্যান সিজেন ২” দেখছি। তবে ফাকা সময়ে সিনেমা দেখার পাশাপাশি ভীষণভাবে বই পড়ি।
এখন যা অবস্থা তাতে শরীরচর্চা খুব জরুরী। শরীরচর্চার জন্য তুমি কি করছ? মানে প্রানায়াম যোগা বা ব্যায়াম!
এখন বলে নয়, শরীর নিয়ে আমি সর্বদাই সচেতন। মেপে খাই। বরাবর হাটা আমার অভ্যাস তাই সকালবেলা হাটি। আর এই শরীরচর্চা করার ফলে আমাদের মধ্যে একটা পসিটিভ দিক কাজ করে। যার ফলে আমাদের সারাদিন ভালোভাবে কাটে।
এখন একটা জিনিসের চাহিদা বিরাটভাবে বাড়ছে তা হল গেমিং। অর্থাৎ ঘরে বসে গেম খেলছেন প্রচুর মানুষ। তুমি কি গেম খেলছো? বা কত সময় গেমের পেছনে দিচ্ছ?
না আমি গেইমিং এর মধ্যে নেই। এর সঙ্গে আমার কোন যোগাযোগ নেই।
অনেকসময় মন খারাপ হয় শুধু ঘরে বসে থেকে। আগে মন খারাপ হলে বেরিয়ে বা ঘুরে বা রেস্তরাঁতে গিয়ে সময় কাটানোর ব্যাপার ছিল এখন সেই অপশান নেই। মন খারাপ হলে কি কর?
লকডাউনের ফলে অনেক মানুষের শরীর খারাপ হয়েছে, অনেক মানুষ প্রিয় মানুষদের ছেরে চলে গেছে। তারপরেও আমি বলব মন খারাপকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিৎ নয়, মন যেভাবে ভাল থাকে সেটাই করা উচিৎ আমাদের। আমি যেমন মন খারাপ লাগলে ওয়েব সিরিজ দেখি, বই পড়ি। সময় পেলে বন্ধুবান্ধবদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি।
