অফবিট

এবারের লোকসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বড় অঘটন উত্তরপ্রদেশে বিজেপির সবচেয়ে বড় ধাক্কা। কি এমন সমীকরণ রয়েছে এর পেছনে?

চলতি লোকসভা নির্বাচনে ফল প্রকাশকে ঘিরে সম্পূর্ন বিপরীত চিত্র লক্ষ্য করা গেল সকাল থেকে। সমস্ত এক্সিট পোলেই জানানো হয়েছিল বিজেপি মোটামুটি ৩৫০+ আসন নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। কিন্তু গননা শুরু হতেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইন্ডিয়া জোট রীতিমতো টেক্কা দেওয়া শুরু করে বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ জোটকে। যেখানে নির্বাচনের শুরু থেকে বিজেপি ৪০০ আসনের দাবী করছিলো সেখানে সময় গড়ানোর সাথে সাথে এনডিএর ৩০০ আসন পাওয়ার সম্ভবনাই ক্ষীন হয়ে আসে। যদিও শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এনডিএ জোট ২৯৫ টি আসনে এগিয়ে থেকে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে কিন্ত ২০১৪ ও ২০১৯ সালের মতোন একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্থাৎ ২৭২টি আসন জিততে পারেনি বিজেপি বরং বিজেপি ২৪১টি আসনে জয়লাভ করেছে। এরকম ফলাফল খোদ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও যে আশা করেনি তা বলার অপেক্ষা রাখেনি। এবারের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সবচেয়ে বেশী ধাক্কা খেয়েছে।

ভারতীয় রাজনীতিতে বলা হয় উত্তরপ্রদেশ যার কেন্দ্রও তার। উত্তরপ্রদেশে দেশের সবচেয়ে বেশী ৮০টি লোকসভা কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু এবারের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশেই সবচেয়ে বড় চমক লক্ষ্য করা গেল। উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বে সমাজবাদী পার্টি সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। দিনভর গননার শেষে দেখা যায় সমাজবাদী দল উত্তরপ্রদেশে ৩৭টি আসনে জয়লাভ করেছে, বিজেপি সেখানে ৩৩টি আসনে জয়লাভ করেছে। উত্তরপ্রেদেশে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে বিজেপি দ্বিতীয় বারের মতোন বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করলেও সেই উত্তরপ্রদেশেই বিজেপির এমন বেহাল দশা অবাক করেছে দেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদেরও। এই উত্তরপ্রদেশেই গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ৬২টি আসন পেয়েছিল এবং সমাজবাদী পার্টি ৫টি আসন পেয়েছিল। বলা হচ্ছিল এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি উত্তরপ্রদেশে অন্তত ৭০টি আসন পাবে যার প্রধান কারন রাম মন্দিরের স্থাপনা। 

১৯৮০ সাল থেকেই বিজেপি রাম মন্দিরের কথা প্রচার করে আসছিলো। এবছর জানুয়ারি মাসে রাম মন্দির স্থাপনা হয় কিন্তু তারপরেও উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সমাজবাদী পার্টির থেকে পেছনে রয়েছে। এর অন্যতম কারন বলা হচ্ছে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের জোট। বলা হচ্ছে এবারের নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে “ইউপি কে লেড়কে” স্লোগান কাজ করে গিয়েছে। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদব “ইউপি কে লেড়কে” স্লোগান শুরু করেছিল কিন্তু নির্বাচনে বিজেপি ৩০২ আসন নিয়ে প্রায় তিন চতুর্থাংশ আসনে জয়লাভ করে৷ কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি মাত্র ৪৭টি আসন পেয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের একটি বড় সিট আমেঠি, সেখানে বরবারই রাহুল গান্ধী নির্বাচন লড়ে। ২০১৯ সালে স্মৃতি ইরানি রাহুল গান্ধীকে আমেঠিতে পরাজিত করে। এবারে রাহুল গান্ধী আমেঠি ছেড়ে দিয়ে রায়বেরিলিতে প্রার্থী হয়৷ রাহুল গান্ধীর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও আমেঠিতে কংগ্রেস প্রার্থী কিশোরী লাল ১,৬৭,১৯৬ ভোটে স্মৃতি ইরানিকে পরাজিত করে। যার জন্য বলা হচ্ছে এবারে “ইউপি কে লেড়কে” স্লোগান এবারে কার্যকরী হয়ে গেছে। উত্তরপ্রদেশে চারটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়, বিজেপি, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টি। কিন্ত মায়াবতীর নেতৃত্বে  বহুজন সমাজবাদী পার্টি এবারে উত্তরপ্রদেশে ভোটে দাঁড়াতেই পারেনি, যার সরাসরি লাভ হয় সমাজবাদী পার্টির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *