বিনোদন

“এই খারাপ লাগাটা আমার বেশি হচ্ছে তোমার কম হচ্ছে ওরকমভাবে বিচার করা যায় না “- সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়

সুমিত, কলকাতাঃ “দিল বেচারা”, ছবিটার নাম শুনলেই সবার আগে মাথায় আসে একটি নাম। সুশান্ত সিং রাজপুত। বলিউডের স্বজনপোষণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দিক নিয়ে গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম উত্তাল। তবে সুশান্তের শেষ ছবি নিয়ে মানুষের কিন্তু কৌতূহল কম ছিলনা। শেষমেশ ছবিটা রিলিজ হওয়ার পর এক অন্য মাত্রা পেয়েছে তা বলতেই হয়। সুশান্তের শেষ ছবিতে বাংলার অভিনেতা এবং অভিনেত্রীদের এক বিরাট ভূমিকা রয়েছে। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সাথে সুশান্তের এটি দ্বিতীয় কাজ ছিল। এই ছবি নিয়েই একাধিক কথা শেয়ার করলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।

প্রঃ পাতাললোকে তুমি বলেছিলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোম্পানি যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু “দিল বেচারা” অনেক বড় মাপের এবং বড় ব্যানারের ছবি। বলিউডে এরকম এতো বড় ব্যনারের ছবিতে তোমার সুযোগ কিভাবে আসল?

“মুখেশ ছাবরা যোগাযোগ করে ছিলেন কাস্টিং এর জন্যে। আমি অডিশান দিয়েছিলাম তারপর আই গট সিলেক্টেড”। 

প্রঃ সুশান্তের সাথে এই নিয়ে তোমার দ্বিতীয় কাজ। ব্যোমকেশের পর। কিরকম লাগলো? বা সেটে কতোটা আনন্দ হয়েছিল? শ্যুটিং প্যারিসের মতো জায়গায় হয়েছে। ইন্সটাতে শেয়ার করেছো। শ্যুটিং কতোটা মজা করেছিলে?

খুবই ভালো লেগেছিল কাজ করে। আমার মনে হয়েছে বা আমি বিশ্বাস করি যে সুশান্ত খুবই হাম্বেল খুবই ডাউন টু আর্থ একজন মানুষ। আর ব্যোমকেশের সময় ওকে যতটা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কাজ নিয়ে ভাবতে দেখেছিলাম দিল বেচারার সময়ও দেখেছি। কিন্তু অবশ্যই একজন মানুষ যখন তাঁর তিন নম্বর ছবিতে কাজ করে আর সে যখন তাঁর দশ নম্বর ছবিতে কাজ করে তখন তাঁর তো তখন কনফিডেন্স লেভেলটা অনেক বেশি বেড়ে যাবে এবং তাঁর নিজের দক্ষতার উপর বিশ্বাস থাকবে অনেক বেশি। আর সেই পরিবর্তনগুলি সব অভিনেতাদের থেকেই কাম্য, মানে আমি ৫ বছর আগে যেরকম কাজ করেছি আমি ৫ বছর পরেও একইরকমভাবে কাজ করব সেটা তো হওয়া উচিত নয়। একজন ভালো দক্ষ অভিনেতা হিসাবে সুশান্ত সিং রাজপুত মধ্যে আমি সেই সব গুন দেখেছি কাজ করার সময়।   

প্রঃ সুশান্তের সাথে দ্বিতীয় এবং বলতেও খারাপ লাগছে যে শেষ কাজ। সেই ব্যাপারে কি বলবে?

এটা আর কি বলার আছে। অর্থাৎ এই খারাপ লাগা বা মন খারাপটা তো যারা ওর সাথে কাজ করেছে তাদেরও হচ্ছে, যারা ওর ফ্যান বা ফলোয়ার্স তাদেরও হচ্ছে। যারা ওকে চিনত বা ওর পরিচিত তাদেরও হচ্ছে। আর যারা ওকে কোনোদিন দেখেনি চোখের সামনে থেকে তাদেরও হচ্ছে। এই খারাপ লাগাটা তো মানে আমার বেশি হচ্ছে তোমার কম হচ্ছে ওরকমভাবে বিচার করা যায় না। এই খারাপ লাগাটা নিয়েই থাকতে হবে এবং চলতে হবে।  

প্রঃবলিউডে নেপটিসম বহু বছর ধরে চলছে। আজ সুশান্তের জন্য হয়ত এটা সবার গোচরে এসছে। এবং এই নিয়ে এতোবেশি সমালোচনা বা ধিক্কার চলছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু যদি ভালো করে দেখা যায় এই সংবাদমাধ্যম এই স্বজনপোষণের জন্য বিরাট অংশে দায়ী। কারন স্টার কিডরা কি করছে? সেই দিকে ফোকাস করতে ব্যস্ত থাকে টি আর পি তোলার জন্য। আজ সুশান্তের সাথে এটাই হচ্ছে টি আর পি তোলার জন্য খবর করছে। কিছুদিন পর আবার শুরু হয়ে যাবে সেই স্টার কিড দের নিয়ে খবর। সেই ব্যাপারে তুমি কি বলবে সংবাদমাধ্যমকে?

দায়িত্বজ্ঞানহীন এই একটাই কথা বলবো। আর শুধু  টি আর পি বাড়ানোর জন্য নেপটিসম নিয়ে সংবাদ মাধ্যম যে কাণ্ডটা ঘটাচ্ছে সেটা নিয়ে কেন শুধু বলবো? সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে বা সংবাদমাধ্যম কি করল? এটা কি কোনো দায়িত্ব জ্ঞান থাকার পরিচয় দেওয়া হয় কি? তাঁর মৃতদেহের ছবি চারদিকে ছড়িয়েছে সংবাদমাধ্যমের মধ্য দিয়েই। তাঁর সমস্ত ডাক্তারের সাথে তাঁর কি আলোচনা হত তাঁর সমস্ত তথ্য যে যেখান থেকে পেরেছে সেখান থেকে নিয়ে খবর করেছে। যে চলে গেছে সে চলে গেছে তাঁর বয়স্ক বাবা তাঁর দিদি তাঁর বোন তাঁর পরিবারের লোক বন্ধুবান্ধব তারা তো সবাই বেঁচে আছে।

তাদের কথা ভেবেও কি এই নোংরামোটা করার কি খুব প্রয়োজন ছিল? কেউ তো থামল না। এক মাসের উপর হয়ে গেছে, এইসব নোংরামো তো চলতেই থাকছে। প্যারানর্মাল অর্গানাইসেশানের লোকজন তো সুশান্তের আত্মার সাথে কমিউনিকেট করে বুঝেছে যে আসলে কি হয়েছিল। এই খবরগুলো আমাদের কাছে পৌছাচ্ছে  কি করে? প্যারানর্মাল অ্যাক্টেভিটি লোকজন তো আর খবরটা করে ছাপছে না। খবরগুলো আমাদের কাছে পৌছাচ্ছে সংবাদমাধ্যমের মধ্য দিয়েই। সেটা করছে কেন সংবাদমাধ্যম?

আমি তো মনে করবো সংবাদ মাধ্যমে যারা কাজ করে তারা শিক্ষিত। ভূত প্রেত, আত্মা, প্ল্যানচেট, প্যারানর্মাল অ্যাক্টেভিটি, এইগুলো কি শিক্ষিত সমাজের পরিচয়? এইগুলো কি কোনো দায়িত্বশীল হওয়ার পরিচয়! নাকি এগুলো সুস্থতার লক্ষন? তার বাড়ির লোককে নিয়ে কেউ ভাবছে? তার বাড়ির লেকেরা কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই বা তাদের বাড়ির লোকেদের বাড়িতে কি টিভিও নেই? তারা নিউজ ও দেখে না তারা খবরও পড়ে না?

তারা তো দেখছে যে প্রতিনিয়ত এই নোংরামোগুলো তাদের বাড়ির ছেলের মৃত্যু নিয়ে হচ্ছে। আর ফেসবুকেও এত এত পোর্টাল, হেডলাইনগুলো দিচ্ছে সুশান্তের মৃত্যু থেকে বেরল চাঞ্চল্যকর তথ্য । পড়তে গিয়ে দেখা যাবে যে একই কাসুন্দি, কোনো নতুন তথ্য কোথা থেকে উঠে আসবে না। যারা তদন্ত করে তারা কি তদন্তের সমস্ত রিপোর্ট ছড়িয়ে রেখে দেবে আমজনতার পড়ার জন্য? নিশ্চয় সেটা কেউ করবে না।      

প্রঃ বলিউডে স্বজনপোষণ নিয়ে কথা চলার পর টলিউডে ও কাঁদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে কিছুদিন আগে। সেখানে দাড়িয়ে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কি বলবে? বলিউডের নিরিখে টলিউডে কতোটা স্বজনপোষণ হয় বলে তোমার মনে হয়?

আমার একটাই প্রশ্ন, এই স্বজনপোষণটা আর অন্য কোনো ইন্ডাস্ট্রিতে হয় না? সব সময় ফোকাসটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উপর কেন হয়? ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেই সব কিছু ঘটছে বাকি আর কোনো ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু হয় না? আমদের কাছে কি এই তথ্য আজানা! বসের সাথে যার ভালো সম্পর্ক যার সক্ষতা বেশি তার তাড়াতাড়ি প্রোমোশান হয়। আর চারটে আরও লোক যারা সারা বছর গাধার খাটুনি খাটছে তাদের প্রোমোশানও হয় না। ফুড  ইন্ডাস্ট্রি, সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি, কর্পোরেট ইন্ডাস্ট্রি কোনো জায়গায় কোনো স্বজনপোষণ হয় না? শুধু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেই হয়! সব জায়গাতেই হয়। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সবসময় এটাতে হাইলাইটড হয়ে যায়। সব জায়গাতেই হয়। স্বজনপোষণ তো সমস্ত জায়গাতেই আছে। কোথাও কম আছে কোথাও বেশি আছে, কোথাও তার এফেক্ট কম কোথাও তার এফেক্ট বেশি। হয় না বলাটা ভুল।                 

প্রঃ একটা সুশান্তের এই ঘটনা বলিউডকে ভীত নারিয়ে দিয়েছে বলা চলে। কিন্তু এই স্বজনপোষণ কি কমবে তোমার মনে হয়?

মানুষে ৬ মাস পড়ে ভুলে যাবে। কারন মানুষের মেমোরি ভীষণ শর্টেজ। কাল যদি বড়ো ক্যালামেটি হয় এই যে মানুষে এখন যেই উন্মাদনা। এই উন্মাদনাটা পুরোটা কিন্তু শিফট করে যাবে ওই নতুন ক্যালামেটির উপরে। শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে তো এতো জল ঘোলা হয়েছিল মিডিয়াতে যে ওনার মৃত্যু নিয়েও তো প্রচুর প্রশ্ন উঠেছিল ওনার কি ফ্যান ফলোয়িং কম? না ওনাকে ভালোবাসার মানুষ কম! ওনার মৃত্যুকে ঘিরেও এই একইরকম নোংরামো আর কাদা ছোড়াছুড়ি হয়েছিল। তারপরে আর লাস্ট এক বছরে দুবছরে আমরা আর সেটা নিয়ে কথা বলি আমরা সেটা মনে রেখেছি? ভুলে গেছে মানুষ। মানুষ আর চেঁচামেচি করছে নোংরামো করছে না। এইগুলো শিফট হতে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *