স্ত্রীর নাক ডাকার থেকে সুরঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যেতেন স্বামী। কোথায় ঘটেছিল এই ঘটনা?
নিউজ ডেস্ক– রাতের বেলায় একজন স্বামী-স্ত্রী এক ঘরে রাত কাটাবে বিষয়টা খুব একটা অবাক করার নয়। কিন্তু একজন স্বামী আছেন যিনি স্ত্রীর কারণে রাতে তার সঙ্গে এক ঘরে থাকতে পারেন না। কারণ শুনলে অবাক হবে সবাই।
একটি নিবন্ধনের প্রকাশ হওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায় পাটসি কে নামের এক ব্যক্তি রাত্রে বেলা স্ত্রীর সঙ্গে শোয়ার সময় তার অর্ধাঙ্গিনী এত জোরে নাক ডাকেন যে রাতে ঘুমানো প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছিল পাটসির কাছে। তাই বাধ্য হয়েই রাত্রি যাপন করার জন্য এমন একটি পথ বের করেছিল যা শুনলে অবাক হবে সবাই।
জানা গিয়েছে বিছানার স্বামী নিজের ঘরের বেডরুমের বিছানায় থেকে স্থানীয় একটি মদের দোকানের বাথরুম পর্যন্ত সুরঙ্গ পথ তৈরি করেছিল। যার দূরত্ব ছিল প্রায় ৮০০ মিটার। তবে পাটসির কাছে এই অভিনব পরিকল্পনাটি এসেছিল একটি মুভি থেকে। ১৯৯৪ সালে স্টিফেন কিংয়ের লেখা গল্পের ভিত্তিতে নির্মিত শশাঙ্ক রিডেম্পশন মুভি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এই কাজ করেছিলেন তিনি। তিনি নিজের তৈরি করার সুরঙ্গ পথ দিয়ে রোজ রাতে মদের দোকানে গিয়ে মদ খেয়ে আবার ওই পথ ধরেই বাড়ী চলে আসত। যার কারণে সকালবেলা উঠে তার স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে মদের গন্ধ রহস্য খুঁজে পেতেন না। এমনকি মদের দোকানদারও বুঝতে পারতেন না রোজ রাতে এই কাস্টমার কিভাবে তার দোকানে পৌঁছাতে। তিনি মূলত সুড়ঙ্গ তৈরি করতে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। পাটসির মুখ থেকে শোনা যায় তার স্ত্রীর শপিংয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে বাড়িতে থাকা কাঁটা চামচ, ড্রিল মেশিন সহ একাধিক ধারালো সরঞ্জাম এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবৎ মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে ২০০৯ সালে সফলতা পেয়েছিলেন তিনি। তবুও বাংলায় প্রবাদ বাক্যে রয়েছে চোরের দশ দিন তো গৃহস্থের একদিন।
অর্থাৎ দীর্ঘ দিনের এই পরিকল্পনা একটি দিন ভেস্তে গিয়েছিল পাটসির।যদিও এই রহস্য উদঘাটনের জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর পর। জানা যায় যে ড্রেন সংলগ্ন জায়গা থেকে তিনি সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলেন সেই ড্রেন পরিষ্কার করতে গিয়ে কর্মচারী সেখানে ফটোল দেখতে পায়। যার কারণে এই দুঃসাধ্য রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছিল। যদিও অভিযুক্ত স্বামীর এই ব্যাপারে কোনো আক্ষেপ নেই। স্ত্রীর সামনে রহস্য উন্মোচন হয়ে যাওয়ায় তিনি রীতিমতো হাসতে হাসতেই বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছিলেন।
