মৎস্যচাষ

পুকুরের জলের কি কি রাসায়নিক গুণ থাকা দরকার মাছ চাষের জন্য?

নিউজ ডেস্ক: মাছের বৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করে যে জলের মধ্যে মাছ থাকছে সেই জলের উপর।তাই মাছ চাষ করার আগে জানতে হবে যে যেই জলে মাছ চাষ করা হবে সেই জলটি মাছের জন্য উপযুক্ত কি না। পুকুরে জলের গুণাগুণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-ভৌত গুণাগুণ,রাসায়নিক গুণাগুণ। এর মধ্যে আমরা আলোচনা করবো রাসায়নিক গুণাগুণ সম্পর্কে। রাসায়নিক গুনাগুন অনুযায়ী কি কি গুণ থাকা প্রয়োজন পুকুরের জলের।  

দ্রবীভূত অক্সিজেন: পুকুরে বসবাসকারী মাছ এবং অন্যান্য প্রাণী অক্সিজেন দ্বারা শ্বাসকার্য চালায়। এই জন্য মাছ চাষের জন্য পুকুরের জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকা অত্যন্ত জরুরী। প্রধানত জলের মধ্যে থাকা ফাইটোপ্লাংকটন ও জলজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় যে অক্সিজেন তৈরি করে তা পুকুরের জলের মধ্যে দ্রবীভূত হয়। এছাড়াও বায়ুমণ্ডল থেকে কিছু অক্সিজেন জলের  উপরের স্তরে মিশ্রিত হয়। এই অক্সিজেনের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়  মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণি এ অক্সিজেনি দিয়ে শ্বাসকার্য চালায়।

 রাত্রের বেলায় যেহেতু  সূর্যের আলোর পাওয়া যায় না সেই জন্য জলের মধ্যে সালোকসংশ্লেষ তৈরি না হওয়ার ফলে জল মধ্যে অক্সিজেনও তৈরি হয় না। এই কারনেই সকালের দিকে জলের মতো অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকে এবং বিকালের দিকে বেশি থাকে। মাছের শ্বাস কার্য চালানোর জন্য পুকুরের জলে অক্সিজেনের মাত্রা কমপক্ষে 5 মিলিমিটার থাকা অতি

অত্যন্ত জরুরি।

* দ্রবীভূত কার্বনডাই অক্সাইড: পুকুরের জলে দ্রবীভূত কার্বন-ডাই-অক্সাইড থাকাও জরুরি কারণ মাছের খাদ্য ফাইটোপ্লাংটন উৎপাদন করার জন্য এই উপাদানটি প্রয়োজন। কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড  মাছের পক্ষে ক্ষতিকারক। কার্বনডাই অক্সাইডের মাত্রা ১২ মিলিলিটারের নিচে থাকলে তা মাছ ও চিংড়ির পক্ষে ক্ষতিকারক নয়। তবে পুকুরের জলে ১ থেকে ২ পিপিএম কার্বনডাই অক্সাইড থাকা মাছের ভালো  উৎপাদনের পক্ষে  উপযুক্ত।

* ফসফরাস: পুকুরের জলে স্বল্প পরিমাণে ফসফরাস উপাদানটি থাকা প্রয়োজন। কারণ  ফসফরাস ফসফেটে রূপান্তরিত হয়।এই ফসফেটের উপস্থিতিতে প্রচুর পরিমাণ মাছের খাদ্য ফাইটোপ্লাংটন জন্মায়।

* পিএইচ: মাছ চাষের জন্য জলের পিএইচ এর মাত্রা সঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ পিএইচ এর মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া যেমন মাছের পক্ষে ক্ষতিকারক ঠিক তেমনি অতিরিক্ত কমে যাওয়া আমার পক্ষে ক্ষতিকারক। মাছ চাষের জন্য উপযুক্ত পিএইচ এর মাত্রা হলো ৬.৫ থেকে ৮.০।পিএইচ মাত্রা  ৬.৫ এর নিচে গেলে তা মাছের বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটায়।এছাড়াও  পিএইচ ৪ এর নিচে বা ১১ এর উপরে হলে  মাছ মারা যায়। তাই জলে পিএইচ এর মাত্রা কমে গেলে পুকুরে চুন (১ থেকে ২ কেজি) প্রয়োগ করতে হবে। আবার পুকুরের জলে পিএইচ এর মাত্রা বেড়ে গেলে পুকুরে  এমোনিয়াম সালফেট বা তেঁতুল  পুকুরে প্রয়োগ করা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *