থাই সরপুঁটি মাছ সহজেই চাষ করুন

নিউজ ডেস্ক: স্বল্প সময় ও স্বল্প খরচে যদি মাছ চাষ করতে চান তাহলে তার উপযুক্ত মাছ হল থাই সরপুঁটি।এই ধরনের মাছ প্রতিকূল পরিবেশে কম অক্সিজেনযুক্ত বেশি তাপমাত্রার জলে বেঁচে থাকতে পারে।এই জন্য এই মাছগুলোকে পুকুর বা ডোবায় চাষ করা সম্ভব। এছাড়াও এই ধরনের মাছ   কম খরচে  সহজতর কিছু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে   কম সময়ে  বেশি উৎপাদন দেয়।তাই অতি অল্প সময়ে বেশি মুনাফা  অর্জনের ক্ষেত্রে  থাই সরপুঁটির  জুড়ি মেলা ভার।কিভাবে করবেন এই মাছের চাষ জেনে নিন?

৫ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ   আয়তনের একটি পুকুর লাগবেন তবে এর থেকে কিছুটা পরিমাণ বেশি হলে সমস্যা নেই কিন্তু পরিমাণটা যেন এক একরের কম থাকে।

 ১.৫ মিটার থেকে ২ মিটার পুকুরের গভীরতা এই মাছ চাষের জন্য উপযুক্ত।

পোনা ছাড়ার আগে পুকুরটি চাষের উপযুক্ত করে নিতে হবে।তারজন্য শুকনো মৌসুমে পুকুরের  সমস্ত জল নিষ্কাশন করে নিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে পুকুরের তলার মাটি রোদে শুকাতে হয়। তারপর  লাঙল দ্বারা ওই মাটিকে  কর্ষণ করে নিতে হবে। যদি পুকুরটিকে শুকানো না যায় সেক্ষেত্রে ওই পুকুরে থাকা রাক্ষুসে মাছ ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণীকে মেরে ফেলতে হবে। পুকুরটিকে চাষের উপযুক্ত করার জন্য  পাথুরে চুন  প্রতি শতাংশে এক কেজি হারে প্রযোগ করতে হবে।

 চুন প্রয়োগের করার দিন সাতেক পর   শতাংশ প্রতি ৪ কেজি গোবর, ১৫০ গ্রাম টিএসপি, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া  ইত্যাদি সার   পুকুরের তলার মাটির ওপর ছড়িয়ে দিয়ে কোদালের সাহায্যে মাটির সাথে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে। তারপর ওই পুকুরে মধ্যে তাড়াতাড়ি  জল  ভরে দিতে হবে।

পর্যাপ্ত পরিমানে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য প্লাঙ্কটন যাতে পুকুরে তৈরি হয় তা সুনির্দিষ্ট করা।

এরপর পুকুরে ১.৫ ইঞ্চি থেকে ২ ইঞ্চি থাই সরপুঁটির পোনা ৬০-৬৫টি ছেড়ে দিতে পারেন।

প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি সম্পূরক খাদ্য প্রয়োজন হয় মাছের এইজন্য পুকুরে থাকা মাছের সংখ্যা এবং তাদের ওজনের শতকরা অনুযায়ী চার থেকে ছয় ভাগ হারে চালের কুড়া বা গমের ভুসি প্রতিদিন দিন দুবার সকাল ও বিকেলে মাছেদের খেতে দিতে হবে।মাছের গড় ওজন যত বাড়বে সেই অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে এর জন্য প্রতি মাসে একবার করে জাল দিয়ে মাছের গড় ওজন দেখতে হবে। 

যদি কখনো পুকুরের মাছের খাদ্যের ঘাটতি দেখা যায় তাহলে তৎক্ষণাৎ  শতাংশ প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ওই পরিমাণ টিএসপি সার প্রয়োগ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই মাছগুলো  নরম ঘাস খায়।এইজন্য   ক্ষুদে পানা, টোপা পানা, নেপিয়ার ঘাস, কলাপাতা ইত্যাদি খাদ্য হিসাবে নিয়মিত পেলেই এই মাছেরও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

 পাঁচ-ছয় মাস পর যখন দেখবেন  এক একটি মাছের ওজন ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম হয়েছে। তখন বুঝবেন যে এই মাছ  বাজারজাতকরনে উপযুক্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.