১৯৭০ এর দশকে ভারত-জার্মানি মিলে বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান তৈরি করতে চেয়েছিল। রাশিয়া আর আমেরিকার কলকাঠি নেড়েছিল

নিউজ ডেস্কঃ রাশিয়া এমন এক দেশ যা ভারতকে সুবিধা এবং অসুবিধায় সাহায্য করে গেছে। এবং এর প্রধান কারন হল আমেরিকা এবং ব্রিটেনের নোংরা রাজনীতি। আর এই নোংরা রাজনীতির স্বীকার হয়েছে ভারতবর্ষ। সবঠিক থাকলে ভারতবর্ষ হয়ত আজ কোনও দেশের কাছ থেকে এতো পরিমাণে যুদ্ধবিমান ক্রয় করত না। নিজেই যুদ্ধবিমান তৈরি করে অপরদেশকে রপ্তানি করার জায়গায় থাকতে পারতো।

HAL HF 73 বা Marut Mk III

HF-73 হ’ল একটি যৌথ ভারত-পশ্চিম জার্মান প্রকল্প। যা তখনকার সময় (70 এর দশকের গোড়ার দিকে) একটি উন্নত 2 ইঞ্জিন বিশিষ্ট DPSA ( 2 Engined Deep Penetration Strike Aircraft) যুদ্ধবিমান ছিল। প্রাথমিকভাবে মারুত এমকে-III (Marut Mk-III) নামে পরিচিত। এটি মারুত যুদ্ধবিমানের দুটি যুগের ইঞ্জিন জেট বিকল্প (একটিকে দিয়ে অন্যটি পরিবর্তন) ছিল যা এর আগে ভারত বিকাশ করেছিল।

দুর্ভাগ্যক্রমে, বিশ্ব রাজনীতি এই প্রোজেক্টে হস্তক্ষেপ করেছিল। অ্যাংলো-আমেরিকান চাপ পশ্চিম জার্মানিকে প্রকল্পটি ছাড়তে বাধ্য করেছিল। কারন সেইসময় ভারত একটি সোভিয়েত মিত্র দেশ ছিল। যে ইঞ্জিনটি দিয়ে জেটটি চালিত হতে চলেছিল, সেটি ব্রিটিশ ইঞ্জিন ছিল, যা তারা সরবরাহ করতে অস্বীকার করে। তথ্য অনুযায়ী ভারত একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছিল, তবে বিমানটি ফ্লাইট টেস্টের সময় ক্রাশ করে ও পাইলট প্রান হারায়, তারপর প্রোগ্রামটি বাতিল হয়ে যায়।

আশ্চর্যের বিষয় হল, এইচএফ -73 ব্রিটিশ পানাভিয়া টর্নেডোর সাথে খুব মিল ( পারফরমেন্স ও ডিজাইন উভয়েই) ছিল যা 70 এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল। সবচেয়ে মজার বিষয় হ’ল, এই যে পশ্চিম জার্মানির MBB Company , টর্নেডো প্রকল্পের অন্যতম অংশীদার ছিল, এই জার্মান সংস্থাই Marut MK-III ডেভলপমেন্টের অংশীদার ছিল। অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞদের দাবি টর্নেডো আসলে এইচএফ -73 নিজেই উপর ভিত্তি করে ছিল। পরে ভারত জাগুয়ার স্ট্রাইক যুদ্ধবিমান ক্রয় করে।

অর্থাৎ ভারত ব্রিটিশ-আমেরিকান পলিটিক্স আর সোভিয়েত (রাশিয়ান) লবির শিকার, যার থেকে ভারত আজও বেরতে পারেনি। যদি HF-73 প্রোগ্রাম সফল হত তাহলে ভারতের এভিয়েশন টেকনোলজি ও ইন্ড্রাস্টি আজ অন্য লেভেলে থাকত এমনটাই মনে করেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *