ফিচার আর্টিকেল

হামাসের পর ইয়ামেনে হুথীদের বিরুদ্ধেও হামলা শুরু করলো ইসরায়েল

গত ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলা ইসরায়েল হামাস যুদ্ধে নতুন মোড় তৈরি হল। এবার ইসরায়েল ইয়ামেনে হুথী বিদ্রোহীদের উপর মিসাইল হামলা করছে। গত নয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে গাজা উপত্যকাতে হামাসকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে ইসরায়েল। বারবার গাজায় সেনা অভিযান করে, এয়ারস্ট্রাইক করে প্রচুর হামাস সদস্যদের হত্যা করেছে ইসরায়েল। হামাসের বড় নেতারা কাতারে পালিয়ে গিয়েছে ভয়ে। এবার ইসরায়েলের নজর গিয়ে পড়েছে হুথীদের উপর। ইসরায়েল বহুদিন ধরেই অপেক্ষা করছিলো একটা সুযোগের কখন ইয়ামেনের উপর আক্রমন করা যাবে। এবার সেই সুযোগ পেয়ে গিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স জানিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইয়ামেনে হুথী বিদ্রোহীদের অঞ্চলে বিমান হামলা করেছে। গৃহ যুদ্ধের কারনে ইয়ামেন দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। ইয়ামেন সরকার নিয়ন্ত্রন করছে ইয়ামেনের কিছু অংশ অন্যদিকে হুথী বিদ্রোহীরা ইয়ামেনের লাল সাগর সংযুক্ত বেশ কিছু অংশে নিয়ন্ত্রন করছে। হুথী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এই অঞ্চলেই বিমান হামলা করেছে ইসরায়েলি বায়ুসেনা। গত শনিবার অর্থাৎ ২০ জুলাই হুথী বিদ্রোহীরা একটি ড্রোন হামলা করে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আভিবে। এই হামলায় একজন ইসরায়েলি নাগরিকের মৃত্যু হয়। এরপরে ইসরায়েলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উপর হুথীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করা হচ্ছিল এবং যার কারনে ইসরায়েল হুথীদের উপর আক্রমন শুরু করে। ইসরায়েলের ইতিহাসে যখনই কেউ ইসরায়েলি নাগরিকের উপর আক্রমন করেছে তখন যত সময়ই লাগুক ইসরায়েল আক্রমনকারীদের হত্যা করেছে। যেমন মিউনিখ অলিম্পিকে ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের হত্যাকারীদের ইসরায়েলি ইনটেলিজেন্স সংস্থা মোসাদ কয়েক বছর ধরে খুঁজে খুঁজে হত্যা করে। 

গত ৭ অক্টোবর হামাসের প্রায় ১৩০০ ইসরায়েলি নাগরিককে হত্যা করার বদলা নিতে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় ক্রমাগত বোম্বিং করে গেছে। হসপিটাল, স্কুল কিছু বাদ যায়নি ইসরায়েলের আক্রমন থেকে। জাতিসংঘ, রেড ক্রশের মতোন গুরুত্বপূর্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের বারন সত্বেও, এমনকী আমেরিকার বারবার যুদ্ধবিরতির অনুরোধ সত্বেও ইসরায়েল এখনও হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করনি। হুথীরা ইসরায়েলি নাগরিককে হত্যা করে ইসরায়েলকে তাদের উপর আক্রমনেরই সুযোগ করে দিয়েছে। 

ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান গত ২১ জুলাই ইয়ামেনের হুথীদের উপর কয়েক ঘন্টা ধরে বোম্বিং ও মিসাইল হামলা করে। ইয়ামেনের আল হুয়দায়দা বন্দরের উপর সবচেয়ে বেশী আক্রমন করেছে ইসরায়েল। এখানে হুথীদের বেশী তেলের সঞ্চয় রয়েছে। বন্দরের আশেপাশে থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েল। হুথী নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া সংস্থা আল মসিরা টিভিও ইসরায়েলি আক্রমনের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে বন্দরে থাকা ডিজেলের সঞ্চয় পুরো ধ্বংস হয়ে গেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে ও আহত হয়েছে। এয়ারস্ট্রাইকের পর বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হুথীদের হুমকী দিয়ে জানিয়েছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমন করার মতোন ভুল না করতে। হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হুথীরা এর আগেও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে মিসাইল, ড্রোন হামলা করেছিল হুথীরা, সেবার হমাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যস্ত থাকায় ইসরায়েল তেমন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি হুথীদের বিরুদ্ধে। ইয়ামেনে এয়ারস্ট্রাইকের মাধ্যমে ইরানকেও বার্তা দিল ইসরায়েল যে তাদের বিরুদ্ধে গেলে পরিনাম কী হতে পারে। 

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানই একমাত্র দেশ যে প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে হুমকী দিয়েছে। ইরান হামাস সহ ইয়ামেনের হুথীদের ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে অর্থ ও অস্ত্র সহয়তা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। ইরান এক প্রকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ করছে ঠিক যেমনটা পাকিস্তান সন্ত্রাসী গতিবিধির মাধ্যমে ভারতে নাশকতা করে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছেন ইয়ামেনে যে আগুন জ্বলছে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের দেখা উচিৎ। অর্থাৎ তিনি লেবানন, ইরানের মতোন ইসরায়েলের শত্রু দেশগুলোকে হুমকী দিলেন ইসরায়েলে আক্রমনের ফল কী হতে পারে এসম্পর্কে। এছাড়া কাতারকেও প্রচ্ছন্ন বার্তা দিয়েছে এরমাধ্যমে ইসরায়েল। কারন কাতারই হামাস শীর্ষ নেতাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং কাতারের উপর অভিযোগ রয়েছে হামাসকে অর্থ সহায়তা করার। কিছু দিন পরেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন হবে। এবারের নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর হেরে যাওয়ার পূর্ন সম্ভাবনা রয়েছে কারন ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জনমত গঠন হয়েছে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের আগে হামাস ও হুথীদের দমন করে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *