ব্রাহ্মস মিসাইল মোতায়েন। চীনের বিরুদ্ধে মিসাইল ঘাঁটি তৈরি করছে ফিলিপিন্স
দীর্ঘদিন ধরে চীন পাকিস্তানকে ভারত বিরোধীতার জন্য অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য করে আসছে। চীন পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী সংগঠন তৈরি করার জন্য সাহায্য করছে যাতে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালানো যায়। চীনের লক্ষ্য এভাবে ভারত পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যস্ত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কোনও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবেনা। ভারতও এবার চীনকে চীনের ভাষাতেই জবাব দিয়েছে। এবার ভারতও চীনের শত্রুকে শুধু যুদ্ধাস্ত্র দেয়নি বরং সেখানে পরিকাঠামো নির্মানও করেছে। সম্প্রতি উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে ফিলিপিন্স একটি মিসাইল ঘাঁটি তৈরি করেছে। এখানে ফিলিপিন্সের ব্রাহ্মস মিসাইল রয়েছে। ফিলিপিন্সের লুজন দ্বীপপুঞ্জে ব্রাহ্মস মিসাইলের জন্য বিশেষ ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে। ২০২১-২২ এও লুজন দ্বীপপুঞ্জে সেনাবাহিনীর কোনও ঘাঁটিই ছিলনা, মাত্র দুবছরেই এখানে ব্যাপক পরিকাঠামো নির্মান করেছে ফিলিপিন্স এবং ব্রাহ্মস মিসাইলও মোতায়েন করেছে। ভারত ও রাশিয়ার যৌথভাবে তৈরি ব্রাহ্মস মিসাইল ভারত ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেছে ফিলিপিন্সকে। এই চুক্তি ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোর মধ্যে একটি ছিল।
দক্ষিন চীন সাগরে অবস্থিত ফিলিপিন্স সহ বেশ কিছু দেশের সাথেই চীনের দক্ষিন চীন সাগরকে কেন্দ্র করে বিবাদ রয়েছে। দক্ষিন চীন সাগরের অন্যান্য দেশের মতো ফিলিপিন্সকেও হুমকী দেয় চীন, যার জন্য ফিলিপিন্সের দরকার ছিল নিরাপত্তা। ভারত ফিলিপিন্সকে সেই নিরাপত্তাই দিয়েছে ব্রাহ্মস মিসাইলের রূপে। চীন ভারতের অন্যতম প্রধান শত্রু। সীমান্ত সমস্যা ছাড়াও ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক বিভাগে ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত চীন। ভারতের বিরুদ্ধে চীন সাইবার আক্রমনের চেষ্টাও করে যেমন মুম্বাইয়ের পাওয়ার গ্রিডেও চীন সাইবার আক্রমন করেছিল বলে মনে করা হয়। তাছাড়া পাকিস্তানকে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠন পরিচালানাতেও সহায়তা করে চীন। এছাড়া ভারত মহাসাগর অঞ্চলে মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কার মতো দেশে সামরিক ঘাঁটি তৈরির মাধ্যমে ভারতকে চাপে রাখার চেষ্টা করে চীন। এই জন্যই ফিলিপিন্সের মতোন চীনের শত্রুদেশকে সহায়তা করা স্ট্রাটেজিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভারতের জন্য। দক্ষিন চীন সাগর বিশ্ব রাজনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন কেন্দ্র। বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ সমুদ্র বানিজ্য এইপথেই হয়। চীন, জাপান সহ বিভিন্ন দক্ষিন এশিয়ান দেশে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন পথ এই দক্ষিন চীন সাগর। দক্ষিন চীন সাগর দিয়ে প্রতিবছর কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের বানিজ্য হয়। তাছাড়া দক্ষিন সাগরে সামুদ্রিক মাছ, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার রয়েছে। তাই চীন এই দক্ষিন সাগর জোর করে দখল করলে বিশ্বের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সমূহ সম্ভবনা রয়েছে।
জাতিসংঘের সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী কোনও দেশের সমুদ্র উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০ কিলোমিটার অঞ্চল সেই দেশটির এক্সক্লুসিভ ইকোনোমিক জোন বা ইইজেড। কিন্ত দক্ষিন চীন সাগরে ফিলিপিন্সের ২০০ নটিক্যাল মাইল অঞ্চল চীন মানেনা। চীন দাবী করে তাদের নাইন ড্যাশ লাইন তত্ত্ব অনুযায়ী দক্ষিন চীন সাগরের ৯০ শতাংশ এলাকাই তাদের। ফিলিপিন্স ছাড়াও জাপান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়ার মতোন দেশের সাথেও সমুদ্রসীমা নিয়ে বিবাদ রয়েছে চীনের। তবে দক্ষিন চীন সাগরে ফিলিপিন্সের সাথেই সবচেয়ে বড় সমস্যা রয়েছে চীনের। ফিলিপিন্সের স্পার্টলি দ্বীপ সহ বেশ কিছু দ্বীপও চীন তাদের বলে দাবী করে। চীনের জেলেরা ফিলিপিন্সের সীমানায় প্রবেশ করে। চীনের নৌবাহিনী মাঝে মধ্যেই ফিলিপিন্সের সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করে। চীনের উপকূল রক্ষীবাহিনী দক্ষিন চীন সাগরে ফিলিপিন্সের নৌবাহিনীর সাথে সমস্যা করে। এমনকী চীনের নৌবাহিনী ফিলিপিন্সের জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। এই জন্য ফিলিপিন্স তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ভারত থেকে ব্রাহ্মস মিসাইল কিনেছে ফিলিপিন্স। ব্রাহ্মসের রেঞ্জ ২৯০ কিলোমিটার। যদিও বর্তমানে ব্রাহ্মসের রেঞ্জ বাড়িয়ে ৪৫০ কিলোমিটার করা হয়েছে কিন্তু ভারত ফিলিপিন্সকে ২৯০ কিলোমিটার রেঞ্জের ব্রাহ্মস মিসাইলই দিয়েছে। ব্রাহ্মসের অনেক প্রকার ভার্সন রয়েছে তবে ভারত ফিলিপিন্সকে ব্রাহ্মসের অ্যান্টিশিপ ভার্সন দিয়েছে কারন ফিলিপিন্সের প্রধান সমস্যা চীনের নৌবাহিনী। তবে শুধু ভারতই নয় বিশ্বের প্রায় সমস্ত শক্তিশালী দেশই দক্ষিন চীন সাগরে তাদের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। আমেরিকা, ব্রিটেনের ক্যারিয়ার ব্যাটেল গ্রুপ রয়েছে দক্ষিন চীন সাগরে। আমেরিকা ফিলিপিন্সে মধ্যম পাল্লার মিসাইল সিস্টেমও ইনস্টল করেছে। আমেরিকা জাপান থেকে ফিলিপিন্স অবধি চীনের বিরুদ্ধে পুরো মিসাইল ওয়াল তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে। আমেরিকা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে তারা আশা করছে ভারতও তাদের এই প্রচেষ্টায় যোগ দেবে।
