অফবিট

বাংলার মুসলিমদের বঞ্চনার কথাই আবারও শোনা গেল ওয়েস্ট বেঙ্গল মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে

২০১৬ সালেই নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছিলেন বাঙালি মুসলিমদের যথেষ্ট বঞ্চনা সহ্য করতে হয়। অতীতে সাচার কমিটির রিপোর্টে দেখা যায় বাম আমলে রাজ্যে মুসলিমদের যথেষ্ট দুর্দশা ছিল। এই রিপোর্টের উপর মুসলিম ভোটকে তাদের পক্ষে এনে তৃনমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু ২০১৬ সালেই স্ন্যাপ, গিল্ড ও প্রতীচীর রিপোর্টে বলা হয় বাম জামানার পরবর্তী সরকারেও মুসলিমদের অবস্থার তেমন কোনও পরিবর্তন আসেনি। অমর্ত্য সেন তখন বলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষজনের বেশীর ভাগটাই মুসলিম। তিনি আরও বলেছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছু মানুষ আর্থিক ভাবে উচ্চ শ্রেনির কারনে সুযোগ সুবিধা পেলেও জমিহীন, শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা গরিব মুসলিমদের তেমন কিছু উপকার হবেনা। সামাজিক ক্ষেত্র, ব্যাবসা, সরকারি সাহায্য, জমি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে মুসলিমদের বঞ্চনার কথা সেসময় শোনা গিয়েছিল অমর্ত্য সেনের কন্ঠে। এবার সেই অমর্ত্য সেনের কথাই যেন আবারও শোনা গেল ওয়েস্ট বেঙ্গল মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে। গত ২৯ মে, কলকাতার প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট বেঙ্গল মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে সরকার ও সমাজের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে মুসলিমদের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির বিষয়েই আলোচনা হয় এবং সংরক্ষন নিয়ে রাজনীতিরও সমালোচনা করা হয়।

সম্মেলনের প্রথমেই সাচার কমিশনের কথা প্রসঙ্গে বলা হয় আঠারো বছর আগেই সাচার কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছিল ভারতের মুসলিমদের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়েছে বাঙালি মুসলিমরা কিন্ত সাচার কমিটির রিপোর্টের এত বছর পরেও বাঙলার মুসলিমরা বোঝেনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাতে কেন স্কুল, কলেজের সংখ্যা কম। ওবিসিতে দশ শতাংশ সংরক্ষন থাকা সত্বেও সরকারি চাকরিতে মুসলিমদের সংখ্যা দুই থেকে চার শতাংশ এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সম্মেলনে সাধারন মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বলা হয় তারা আজও হাতে না মেরে ভাতে মারা বোঝেনি। এমনকী মুসলিমদের দুধেল গাই, রসালো আম বলার পরেও চুপ করে থাকা এবং মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার প্রকৃত সংজ্ঞা না বুঝতে পারারও সমালোচনার করা হয় সম্মেলনে। সম্মেলনে বলা হয় মুসলিমরা ইমাম ভাতা, হজ হাউস, মাদ্রাসা, ইফতার পার্টি, কবর ঘেরা, ইদের সভা নিয়েই ব্যস্ত আছে, বিশেষত শাহজাহান, আরাবুল, জেলখানা, মারা ও মরা, হিজাব, ধর্মের নামে শুড়শুড়িতেই ব্যস্ত মুসলিমরা মনে করে এভাবেই বেহশত যাবে।

সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে পশ্চিমবঙ্গে ২০১০ সালের পর থেকে হওয়া সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করে দেওয়া হয়েছে যাতে ৭৭টি মুসলিম জনজাতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। হাইকোর্টের দাবী সঠিক আইন মেনে ওবিসি তালিকা তৈরি হয়নি। এই পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে রাজ্য সরকারের শুধুমাত্র সস্তা ভোটের জন্য সঠিক উপায়ে ওবিসি তালিকা না তৈরির সমালোচনা করা হয়। সম্মেলনে বারো বছর পর কোর্টের রায়ে ওবিসি তালিকা বাতিল ঘোষনার প্রসঙ্গে বলা হয় “ খেলা হল। ভোট হল। আম হল। আমের আঁটিও হল। গাই হল। গাইয়ের দুধ হল। চা খেল। যথাসময়ে ভাঁড়টি ডাস্টবিনে গেল! “

কলকাতার প্রেস ক্লাবের সম্মলনে সরকারের উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়া হয় স্বাধীনতার এত বছর পর আদৌ সংরক্ষনের কোনোও প্রয়োজনীয়তা আছে কীনা! এছাড়া সাচার কমিশন, মন্ডল কমিশন, রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের মাধ্যমে কেরালা, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানায় অহিন্দুদের সংরক্ষন নিয়ে রাজনীতির ব্যাপারেও প্রশ্ন তোলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *