শাশুড়ি বৌমার ঝামেলা নয়। নিজের সংসারের অনেক প্রশ্নের উত্তর দেবে “মুখার্জী দার বৌ”

সুমিত, কলকাতাঃ বোন যখন ক্লাস টুয়েলভে উঠে আরশোলা দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠে রান্না ঘর থেকে দৌড়ে নিজের ঘরে চলে গিয়েছিল ভীষণ রাগ হয়েছিল। রাগটা ভীষণ ফুঁসছিল নিজের মধ্যে, কিন্তু কিছু বলার সাধ্য ছিলনা। কারন আমার মা। আসলে এর আগে বোনকে বকাঝকা করায় আরশোলা দেখে ভয়ে ওর জ্বর চলে এসেছিল। তারপর থেকে ওকে আর সেইভাবে এই কারনে আর বকিনা বা কিছু বলিওনা।

শুধু একটাই চিন্তা হয় যে শ্বশুর বাড়ি গিয়ে ব্যাপারটা সামাল দিতে পারবে তো? শাশুড়ি যদি ব্যাপারটা নিয়ে ভীষণ ক্ষোভ প্রকশ করে? যদি না মানতে চায়? যদি বাড়িতে ফোন আসে, আর প্রশ্ন করে যে মেয়েকে কি শিক্ষা দিয়েছেন যে সামান্য এক আরশোলা কে ভয় পায়? এই সকল প্রশ্নের উত্তর মাত্র দু ঘণ্টায় পেয়ে গেলাম। এবং ছবিটা দেখার পর পরিচালক পৃথা চক্রবর্তীকে না পেলেও তাঁকে হোয়াটস অ্যাপে একটা মেসেজ করে জানিয়ে দিলাম যে তোমার এই ছবি আমায় অনেক এগিয়ে দিল। কয়েক বছর আর অপেক্ষা করতে হলনা। সংসারের অনেক ছোটো প্রশ্নের উত্তর দিল “মুখার্জী দার বৌ”। মুখার্জী দার বৌ হয়ত কোনও বাড়ির বৌ। কিন্তু আমার মতো এরকম প্রশ্ন যাদের মাথায় ঘুরছে তাদের তাদের উত্তর দেবে “মুখার্জী দার বৌ” ছবিটি।

৮ মার্চ উইমেন্স ডে তে রিলিজ করা এই ছবিটি অনেকেরই মন ছুঁয়ে গেছে। আর যাবেই না বা কেন বলুন তো? মানুষের নিজেদের সাংসারিক ঝামেলা বা প্রশ্নের উত্তর যদি দুই ঘণ্টার ছবিতে দেয় তাতে তো আখেরে লাভই বটে। ছবিটিতে হয়ত বৌমা এবং শাশুড়ির অনেক প্যাচ আছে। কিন্তু সেই প্যাচের উত্তরও আছে বটে। ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনুশুয়া মজুমদার এবং কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং সাইকোলোজিস্টের ভূমিকায় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

এই সাইকোলোজিস্টের চরিত্র লেখার আগে গল্পের লেখক সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায় একজন
সাইকোলোজিস্টের সাহায্য নিয়েছিলেন বলে তিনি জানান। আসলে তিনি ঠিক ট্র্যাকে যাচ্ছেন কিনা। তিনি প্রত্যকেটা জিনিস লেখার আগে বেশ ভালো করে সাইকোলোজিস্টের সাথে আলোচনা করে নিয়েছিলেন। এবং তাঁর এই লেখা চরিত্রের রুপ দিয়েছেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এবং পুরো ছবিটা দেখার পর একটা কথা বলা যেতেই পারে যে শাশুড়ি বৌমার ঝামেলা যেসব সংসারে লেগে আছে তারা একবার গিয়ে ছবিটি দেখে আসুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *