ভুবনেশ্বরের সুইংয়ে ভুবন জয়ের স্বপ্ন কোহলিদের

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: নিজের ২৬ বছরের সুদীর্ঘ রঞ্জি কেরিয়ারে মাত্র একবারই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন সচিন রমেশ তেন্ডুলকর। ২০০৮-০৯ মরশুমের ফাইনালে উত্তরপ্রদেশের বিরুদ্ধে। ডেলিভারিটি যাঁর, তিনি তখন মোটেই কোনো তথাকথিত নামী তারকা নন। সদ্য আগের বছরই রঞ্জি তথা প্রথম শ্রেণীতে অভিষেক। কিন্তু ওই একটি হাল্কা ইনসুইঙ্গারই যেন সমগ্র ক্রিকেট দুনিয়ার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল, অদূর ভবিষ্যতের চিত্রটা। সদর্পে ঘোষণা করেছিল সুইংয়ের এক নতুন রাজকুমারের আবির্ভাব। ভুবনেশ্বর কুমার; সতীর্থদের আদরের ভুবি।

কাট টু ২০১৫। ইতিমধ্যে সাত সাগর দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জলই। আইপিএলের কল্যাণে বছর দুয়েক আগেই দেশের নীল জার্সিতে অভিষেক ঘটে গিয়েছে সেদিনের সেই আনকোরা ভুবির। আর তারপরেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নজরকাড়া পারফরম্যান্স। কিন্তু তা সত্ত্বেও সিঁকে ছিঁড়েছে মাত্র একটি বিশ্বকাপ ম্যাচে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিরুদ্ধে গ্রুপ লিগের ম্যাচে। অজুহাত অবশ্য তৈরীই ছিল। সেই চিরাচরিত যুক্তির ধার ধেরে বলা হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সুইংয়ের চাইতে গতিটাই নাকি বেশি জরুরি। তাছাড়া, ডেথ ওভারে ভুবনেশ্বরের নাকি একেবারে ল্যাজে-গোবরে অবস্থা হয়, যেকারণে অধিনায়ক আগেই তাঁর স্পেল শেষ করিয়ে দেন— এ কথাটাও যে ভারতীয় ক্রিকেটমহলে তখন ডেঙ্গুর মতোই ছোঁয়াচে। অগত্যা চলে আসছি আরো চার বছর পর।

বর্তমান সময়ে, যেখানে আরো একটা বিশ্বকাপের সন্মুখে দাঁড়িয়ে ‘টিম ইন্ডিয়া’। সেদিন যেটা ছিল দুর্বলতা সেটাই আজ অন্যতম প্রধান শক্তি। ডেথ বোলিং। হবেই তো! গতি বাড়ার সুবাদে দুধারে সুইং করানোর পাশাপাশি ইয়র্কার-বাউন্সারেরর মতো ব্রহ্মাস্ত্রসমূহও যে এখন ভুবির ঝুলিতে। বলাই বাহুল্য, এর গোটা কৃতিত্বই তিনি আইপিএলকেই দেবেন। তা দিন তবে চমকপ্রদ হচ্ছে, গত বিশ্বকাপে মূলত যে কারণে পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি, এবারে সেই অতিরিক্ত সুইং নির্ভরতাই ১৫ জনের স্কোয়াডে তাঁর নামখানা পাকাপোক্ত করছে। ইংল্যান্ড যে সুইং বোলারদের আখড়া, এ আর কেই বা না জানে? ব্যাটটা কোনোকালেই খারাপ করতেন না। রঞ্জি ট্রফিতে একটা সেঞ্চুরির পাশাপাশি টেস্ট এবং একদিনের ক্রিকেট মিলিয়ে বেশ অনেকগুলি ৫০+ স্কোরই নামের পাশে লেখা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। ফিল্ডিংও ঠিকঠাক। এ হেন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় কপিল দেব না হোন কিন্তু অন্তত নিজের প্রধান দুই প্রতিপক্ষ— চোটপ্রবণতা এবং কঠিন সময়ে সঠিক লেন্থ বাছার ক্ষেত্রে খেই হারিয়ে ফেলার সমস্যাটির মিডল স্টাম্প ছিটকে দিন— বিশ্বকাপের প্রাক্কালে এর চাইতে বেশি আর কিই বা ভুবনেশ্বরের কাছে চাইতে পারেন শাস্ত্রী-কোহলি জুটি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *