পৃথিবীর জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা কি? পৃথিবীর প্রথম ডিজিটাল মুদ্রা কি?

নিউজ ডেস্কঃ বিগত কয়েক বছরে ক্রিপ্টোকারেন্সির জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়েছে আর সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজারে এসেছে আরো নানান নতুন ক্রিপ্টো। ক্রিপ্টো, বিনিয়োগের নতুন সুযোগ এনেছে ঠিকই তবে নিত্য নতুন ক্রিপ্টোর মধ্যে সঠিকটি বেছে নেওয়াও নেহাত সহজ কাজ নয়। একইসঙ্গে, অপেক্ষাকৃত নতুন হওয়ায় বিনিয়োগের আগে ক্রিপ্টোর আলাদা আলাদা প্রকৃতি ও বিভাগ বোঝাটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সহজ ভাবে বললে ক্রিপ্টোর রয়েছে মূলত দুটি বিভাগ: বিটকয়েন এবং আল্টকয়েন। এর মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক থেকে বেশি এগিয়ে বিটকয়েন। ব্লকচেইন প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি বৃহত্তম এই ক্রিপ্টোর জনপ্রিয়তার বৃদ্ধি পেতেই বাজারে আবির্ভাব ঘটেছে ইথেরিয়ামের মতো বিভিন্ন নতুন ক্রিপ্টো কয়েনের। ইথেরিয়ামের মত বাকি এই অল্টারনেটিভ কয়েনগুলোই পরিচিত অল্টকয়েন নামে।

এই অল্টকয়েনগুলিও বিটকয়েনের মতো একই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও প্রতিটি অল্টকয়েনে রয়েছে নিজস্ব বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার।

বিটকয়েন কি?

২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে প্রস্তাবিত এবং পরের বছর জানুয়ারিতে চালু হওয়া বিটকয়েন হলো পৃথিবীর প্রথম ক্রিপ্টোকারেন্সি।  “সাতোশি নাকামোটো” ছদ্মনামধারী এক ব্যক্তি বা উক্ত নামের এক দলের দ্বারা উদ্ভাবিত বিটকয়েন এমন এক পিয়ার-টু-পিয়ার ডিজিটাল মুদ্রা যার লেনদেনের যাবতীয় হিসাব পাবলিক লেজারে সকলের জন্য উপলব্ধ থাকে। বিটকয়েন লেনদেনের জন্য সাধারণ স্টক মার্কেটের মতো ব্যাংক বা তৃতীয় কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন পড়ে না।

অল্টকয়েন কি?

বিটকয়েন ব্যতীত, অন্যান্য সমস্ত ক্রিপ্টো কয়েনকে একত্রে সাধারণ ভাষায় বলা হয় “আল্টকয়েন” অর্থাৎ বিটকয়েনের বিকল্প। একটি মার্কেট রিসার্চ অর্গানাইজেশনের মতে এই মুহূর্তে কয়েন মার্কেটক্যাপে মোট ১১,০০০ টিরও বেশি ক্রিপ্টোকয়েন তালিকাভুক্ত রয়েছে আর এর মধ্যে সবগুলিই হলো অল্টকয়েন।

কিভাবে তারা বিটকয়েনের থেকে আলাদা?

বিটকয়েনের সাফল্যের উপর নির্ভর করে এই  বিটকয়েনেরই নিয়মকানুনে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করতে তৈরি করা হয় অল্টকয়েন। যেমন এই হালফিলেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি নামে পরিচিত এথেরিয়াম, “স্মার্ট কন্ট্রাক্টস” নামক এক নতুন ধারণার প্রবর্তন করেছে। এই স্মার্ট কন্ট্রাক্টসগুলি আসলে এমন কিছু কোড যেগুলো কেবলমাত্র পূর্ব নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলেই কাজ শুরু করে। ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই কোডগুলো দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি স্থাপন করে ফলে, ক্রিপ্টোর নতুন নতুন অ্যাপ্লিকেশনে বিকাশের সম্ভাবনা থেকে যায়।

ক্রিপ্টোর বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে মার্কেট ধরে রাখার জন্য অল্টকয়েনগুলি নিজেদের কার্যকারিতা,লেনদেন সব কিছুতেই ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। তবে, সহজ ভাবে বলতে গেলে বিটকয়েন হল প্রথম ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং বিটকয়েন ছাড়া বাকি সবই হল “আল্টকয়েন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.