ভগবান বিষ্ণুকে কেন শূকরের রূপ নিতে হয়েছিল?

নিউ ডেস্কঃ ভগবান বিষ্ণু হলে এই জগত সংসারের সৃষ্টি কর্তা।যিনি যুগে যুগে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়ে ছিল দুষ্টদের দমন করতে।তাই তিনি একেক সময়ে একেক রূপ নিয়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন।তার মধ্যে অনেকরুপের কথায় আমরা জানি।কিন্তু বেশিভাগ মানুষ যে রূপটির কথা জানেন না সেটি হল   ভগবান বিষ্ণুর  বরাহ রুপের কথা। বরাহ রুপ অর্থাৎ শূকরের রূপ । কেন এমন ধরনের রূপ ধারন করেছিলেন ভগবান বিষ্ণু।জেনে নিন তার আসল কারন।

ভগবান বিষ্ণুর জয় ও বিজয় নামে দুই  দ্বাররক্ষী ছিলেন।তারা  দুইজনই বিষ্ণুদেবের পরম  ভক্ত ছিলেন।একবার বিষ্ণুদেবের সঙ্গে কয়েকজন ঋষি, বালকের ছদ্মবেশ ধারন করে দেখা করতে আসেছিলেন।তখন ওই দুই  দ্বাররক্ষী   জয় ও বিজয় বালকরুপী ঋষিদের বিষ্ণুদেবের দেখা করতে দেন না।যার জন্য ঋষিগন ক্রুদ্ধ হয়ে যান এবং তাদের অভিশাপ দেন যে, তোমরা শ্রীবিষ্ণুর চরণ থেকে বঞ্চিত হবে, তোমাদের দেবত্ব লোপ পাবে এবং পৃথিবীতে মনুষ্য রূপে জন্মগ্রহণ করবে।এই শুনে ওই দুই ভাই বিষ্ণুদেবের শরণাপন্ন হলে।তখন বিষ্ণু বলেন যে ঋষিদের অভিশাপ ব্যর্থ হবে না।

কিন্তু এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া দুটি পথ আছে।একটি হল তারা সাতবার পৃথিবীতে মানুষ হলে জন্ম গ্রহণ করবে তারপর তারা বিষ্ণুলোকে ফিরতে পারবে। আর অপরটি হল তারা তিনবার পৃথিবীতে ভগবান বিষ্ণুর শত্রু হিসাবে জন্ম গ্রহণ করবে এবং তিনি নিজে তাদের হত্যা করবেন।তখন  জয় ও বিজয় দ্বিতীয় পথটিকে বেছে নেন।তারপর জয় ও বিজয় পৃথিবীতে রাক্ষস বংশে হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপু রূপে জন্মগ্রহণ করেন। যার ফলে তাদের অত্যাচারের শিকার হয় পৃথিবীবাসী।

তারপর রাজা হয়ে হিরণ্যাক্ষ লোভ আরও বেড়ে যায়। তখন হিরণ্যাক্ষ  স্বর্গ মর্ত্য পাতালের অধীশ্বর হতে চান এর জন্য পিতামহ ব্রহ্মার তপস্যা করেন।তার  দীর্ঘ ও কঠোর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা তার সামনে আবির্ভূত হয়ে।তখন হিরণ্যাক্ষ তার কাছে বর চান যে দেব, দানব, মানব ও অন্যান্য প্রণীর নাম উল্লেখ করে বলেন এরা কেউ যেন তাকে পরাজিত করতে না পারেন।আর সেই বরই ব্রহ্মা দান করে হিরণ্যাক্ষ।যার ফলে  হিরণ্যাক্ষ অত্যাচার আরও বেড়ে যায়। এমন কি হিরণ্যাক্ষ ব্রহ্মার দেওয়া বরে সমগ্র পৃথিবীকে দখল করে তাকে সমুদ্রের অতলে লুকিয়ে রাখেন। আর এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সকল দেবতাগন ভগবান বিষ্ণুর স্মরনাপন্ন হন।হিরণ্যাক্ষ সমস্ত  প্রাণীর নাম উল্লেখ করলেও বন্য শূকরের নাম উল্লেখ করতে ভুলে যান। যার ফলে  বিষ্ণুদেবকে বরাহের রূপী ধারন করতে হয় হিরণ্যাক্ষকে বধ করার জন্য।তারপর শুরু হয় বরাহের রূপ ধারণ করে বিষ্ণুদেবের সাথে হিরণ্যাক্ষের যুদ্ধ।সেই  যুদ্ধটি চলে ছিল এক হাজার বছর ধরে।অবশেষে  বরাহ রূপী বিষ্ণু হিরণ্যাক্ষকে হত্যা করেন। এবং বিশাল দুই দাঁতে করে পৃথিবীকে সমুদ্রের তলা থেকে তুলে আনেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.