নিজের দাদার স্ত্রীকে কেন বিয়ে করেছিলেন রামায়নের প্রধান চরিত্র সুগ্রীব?

নিউজ ডেস্কঃ সুগ্রীব যিনি রামায়নের অন্যতম প্রধান চরিত্রদের মধ্যে একটি ছিলেন। সুগ্রীব যিনি রামকে সাহায্য করেছিলেন সীতাকে উদ্ধার করতে। তাই আপনারা সুগ্রীব রামকে সাহায্য করার কথা জানেন। কিন্তু আপনারা কি জানেন যে সুগ্রীব তার দাদার স্ত্রীকে বিবাহ করেছিলেন। এই রকম কেন করেছিলেন সুগ্রীব? জানুন কেন এই কাজ করেছিলেন সুগ্রীব।

সুগ্রীব এবং বালি ছিলেন দুই ভাই।বালী ঋক্ষরজার মৃত্যুর পর কিষিন্ধ্যার রাজা হন। তার স্ত্রী ছিলেন তারা এবং সুগ্রীবের স্ত্রী ছিলেন রুমা।একদিন মায়াবী নামক এক অসুরের সাথে বালীর যুদ্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।তারপর এই মায়াবী অসুর কিষ্কিন্ধায় এসে বালীকে যুদ্ধে আহ্বান করলে।যার ফলে বালী এবং সুগ্রীব এই  যুদ্ধে অগ্রসর হন। এরপর মায়াবীরকে হত্যা করার জন্যে বালী তাকে ধাওয়া করে।তখন মায়াবী একটি  গুহার  ভেতরে ঢুকে যায় এবং বালীরও ওই গুহার মধ্যে প্রবেশে করে।বালী গুহার মধ্যে প্রবেশ করার পর দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও বালীর কোনো রকম শব্দ পান না সুগ্রীব এরপরে আবার সুগ্রীব দেখেন যে  গুহার ভেতর থেকে রক্তের স্রোত বইতে থাকে।এটি দেখে সুগ্রীব ভেবেছিলেন যে  মায়াবী  তার ভাই বালীকে হত্যা করেছে। তখন সুগ্রীব ওই গুহার মুখটি পাথর দিয়ে করে দেয় যাতে মায়াবী গুহার ভেতর থেকে বেরোতে না পারে এবং গুহাতে আটকে  মৃত্যুবরণ করে। এরপরে  সুগ্রীব তার  রাজ্যে ফিরে এলেন।

তারপর সেখানের রাজা হন সুগ্রীব। তখন তিনি তার দাদা অর্থাৎ  বালির পত্নী তারাকে বিবাহ করেন।কিছুদিন পরে বালী  মায়াবী অসুরকে হত্যা তার রাজ্যে ফিরে আসেন।এবং সেখানে এসে তিনি যখন সব ঘটনা জানতে পারেন তখন সুগ্রীবকে  রাজ্য থেকে বিতারিত করেন এবং সুগ্রীবের স্ত্রী রুমাকে অধিকার করেন। এরপর সুগ্রীব তাঁর সহচর বানরদের নিয়ে ঋষ্যমুক পর্বতের মাতক্মুনির আশ্রমের কাছে আশ্রয় নেন এবং তখন সুগ্রীবের সাথে রাম এবং লক্ষনের সাথে বন্ধুত্ব হয়।তারপর সুগ্রীব সীতাকে উদ্ধার করার জন্যে সাহায্য করে।তখন রামও বালীকে হত্যার করার জন্যে সুগ্রীবকে সাহায্য করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন। এরপরেই সুগ্রীব ও বালী যুদ্ধ করেন।অবশেষে রামের সহায়তায় সুগ্রীব বালীকে হত্যা করে।এবং বালীর মৃত্যু হয়।তারপর  সুগ্রীব আবার তার রাজ্য ফিরে পান এবং তার সাথে তার নিজ স্ত্রী রূমা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.