কেমন হয় সার্নের ভুতুড়ে কণাগুলি! 

নিউজ ডেস্ক মহাকাশ জগতে প্রতিনিয়ত কোনো নতুনত্ব জিনিস ঘটেই চলেছে । যার কারণে বিগত কয়েকদিন আগে ঈশ্বরকণার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। এবার প্রমাণ মিলল ভুতুড়ে কণা নিউট্রিনোর। জেদি স্বয়ং প্রমাণ দিয়েছিল সার্নের গবেষণাগার। 

সার্ন গবেষণাগারের ফাসারনু  প্রকল্পের সহ-প্রধান আমেরিকার আরভিনে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা পদার্থবিজ্ঞানী জোনাথন ফেং বলেছেন,’ এর আগে কোন অপার্থিব উপ যুক্তিতেই নাগাল পাওয়া সম্ভব হয়নি এই ভূতুরে কাণার। এই কোন সংক্রান্ত যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর একটা ব্রেকথ্রু ফলাফলের মাধ্যমে  আগামী দিনে এই কণাদের খুঁটিনাটি আরো সঠিকভাবে জানা ও বোঝা যাবে।  তাদের ব্রহ্মান্ডের আদিমতম ইতিহাস জানার কাজটা সহজতর হতে পারে’। 

উল্লেখ্য, বিগত কয়েকদিন আগেই মহাজাগতিক দৃশ্য ধরা পড়েছিল ঈশ্বর কণা। এরপরই এবার প্রকাশ হলো ভুতুড়ে কণা। বিজ্ঞানীরা ইতিহাসের পাতায় ঘটনাটিকে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে একাধিক কনার আবিষ্কারের আগেই এলএইচসি জানান দিয়েছিল ১৪০০ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাং বা  মহা বিস্ফোরণের কারণে বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের বেশকিছু কণার জন্ম হয়েছিল। তবে কীভাবে কণাগুলো জন্ম হয়েছিল এবং কিভাবে সেটি বৃদ্ধি পেয়েছে কিংবা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে সেই সকল বিষয়ে এখনও অবগত রয়েছে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান।  তবে সকলের কাছে ব্যর্থ হলেও সার্নের  গবেষণাগারে প্রথম ধরা পড়েছিল ঈশ্বর কণা। এদিকে পদার্থ বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় “হিগস্-বোসন”। যেকি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটনের চেয়ে বহু গুণ ভারী।

কেমন এই ভুতুড়ে কণাগুলি! 

বিজ্ঞানী ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে এই নতুন কণাগুলোর কোন আঁধার নেই। ঘর প্রায় নেই বললেই চলে। সুতরাং ছোট ছোট কণা গুলির গতিবেগ আলোর সমান। সুতরাং সেই কারণে বিজ্ঞানী ভাষায় এদের বলা হয় নিউট্রিনো। গোটা বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কিন্তু দেখা মেলা প্রায় দুষ্কর। তবে এই ভূতুরে কণাগুলি তীব্রতা এতটাই বেশি যে তাদের পথ আটকানো ক্ষমতা নেই কারোর। সুতরাং যেই সামনে চলে আসবে কারন সেই বস্তুর এফোঁড়-ওফোঁড় হয় চলে যায় কণাগুলি।  অর্থাৎ  মহাকাশে আর কোন বস্তুর  অস্তিত্ব নেই বলেই মনে করে এই ভূতুরে কণাগুলি।  তবে পৃথিবীতে ঢোকার সময় বায়ুমন্ডলের কনারা নিউট্রিনোদের টোকা মারলে তা থেকে অন্য কণার সৃষ্টি হয়। তবে এটিই প্রথম নয় এর আগে ভুতুড়ে কনার চিহ্ন মিলেছিল আন্টার্টিকার  আইসকিউবে, জাপানের সুপার কমিউনকান্দে এবং  আমেরিকার ইলিনয় ফার্মিল্যাব-য়ের  মিনিবুন  যন্ত্রগুলোতে। যদিও সেই সকল জায়গায় মহাজাগতিক নিউট্রিনোর অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও তাদের ধরা সম্ভব হয়নি কিন্তু সেই অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছে সার্নের  এলএইচসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.