কত দাম দিয়ে বিক্রি হয়েছিল গান্ধীজীর সোনার পাত বসানো চশমা?

নিউজ ডেস্ক –  গোটা দুনিয়া জানে ভারতবর্ষকে স্বাধীনতার স্বাদ দেওয়ার জন্য নিজের বুকে গুলি পর্যন্ত খেয়েছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি, অর্থাৎ সকলের গান্ধীজী বা  বাপু। কিন্তু সম্প্রতি গান্ধীজীর ব্যবহৃত গোল্ড প্লেটেড ফ্রেমের চশমা নিলামে উঠেছিল দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের হ্যানহ্যাম-এর ইস্ট ব্রিস্টল অকশনে। কিন্তু কোথা থেকে আসলো এই চশমা!   বিরাট বড় আকার নিয়েছে প্রশ্ন?  

অকশনের তরফে এক নিলামকারী অ্যান্ডি স্টোয়ি জানিয়েছেন, একদিন হঠাৎ অকশন হাউসের লেটার বক্সের মধ্যে  একটি খামের মধ্যে থেকে পাওয়া গিয়েছিল এই চশমাটা। প্রাথমিকভাবে এটিকে তথ্য মনে করলেও পরবর্তীতে এর ইতিহাস খতিয়ে দেখলেই জানতে পারা যায় এটি মহাত্মা গান্ধীর ব্যবহৃত চশমা। অর্থাৎ খামের মধ্যে থেকে চশমার সঙ্গে  পাওয়া গিয়েছিল একটি চিঠি। যেখানে লেখা ছিলো  “চশমাটির কোন গুরুত্ব না থাকলে ফেলে দিতে পারেন”। তবে অকশন হাউসের কর্তৃপক্ষের দাবি  যে ব্যক্তি এরকম  কাজ করেছে তিনি চশমাটির গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত নন। 

অকশন হাউসের কর্তৃপক্ষের দাবি নতুন বছরে আগস্ট মাসে নিলামে তোলা হয়েছিল গান্ধীজির চশমাটিকে। ইতিমধ্যেই সারা দেশ বিদেশি  ঠিকই চশমাটি কেনার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। যেখানে বাদ পড়েনি ভারত।  বর্তমানে   ব্রিটেনে চশমাটির মূল্য দাঁড়িয়েছে  ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার পাউন্ড অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় এর মূল্য দাড়াবে ৯ লক্ষ ৮০ হাজার থেকে ১৪ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে আবার অনলাইন নিলামের মাধ্যমে চশমাটির দাম দাড়িয়েছে ৬ হাজার পাউন্ড।

প্রসঙ্গত, সকলের জানা মতে  ১৯০০ শতকে সোনার পাত বসানো  এই চশমাটি মহাত্মা গান্ধী কি উপহার করেছিলেন তার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু।  গান্ধীজীর মনোভাব অনুযায়ী তিনি তার অব্যবহৃত জিনিস গরিব মানুষের মধ্যে কিংবা প্রয়োজনকরি মানুষদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। সুতরাং সেই ক্ষেত্রে এই চশমাটি ১৯১০-১৯৩০ সালের মধ্যে  দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামে কাজ করার সময়ে  এক ব্যক্তিকে দিয়েছিলেন গান্ধীজী।  পরবর্তীতে সেই চশমাটি হস্তান্তর হয়ে ইংল্যান্ডের এক ব্যক্তি তার কাকার কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন। সুতরাং এই ভাবেই গান্ধীজীর থেকে পাওয়া যায় তার প্রথম জীবনে ব্যবহার্য ও বিরল চশমাটি।  

Leave a Reply

Your email address will not be published.