ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম। তামার পাত্রে জল পান করার অসাধারন কিছু উপকারিতা

নিউজ ডেস্ক –  একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে একজন ব্যক্তি খাদ্য ধরা দুই-তিন দিন থাকতে পারলেও জল ছাড়া এক মুহূর্ত বাঁচা অসম্ভব।  সেই কারণেই জলের অপর নাম জীবন বলে আখ্যায়িত করা হয়। তবে উন্নতি সমাজের সঙ্গে সঙ্গে এখন বাজারে এসেছে কাঁচের গ্লাস। জেটিতে জল খেলে মানুষের একটা স্ট্যান্ডার বজায় থাকে। কিন্তু এখানে স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে সকলের। কিসের জল খাওয়া উচিত এবং কি সে উচিত নয় সেই বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন চিকিৎসকরা। 

চিকিৎসা পরিভাষা অনুযায়ী তামার পাত্র কিংবা মাটির পাত্রে জল খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব উপযোগী।  কারন একটি তামার গ্লাসে সারারাত জল রেখে দিলে সেটি সকালবেলা উঠে খালি পেটে খেলে শরীরে নিরাময় হয় বহু রোগের। যদিও আজ থেকে প্রায় বহু যুগ আগে অর্থাৎ প্রাচীনকালে তামার পাত্র এবং মাটির পাত্রের প্রচলন ছিল। যদি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়ে এখন কাঁচের গ্লাস  কিংবা স্টিলের গ্লাসে এসে দাঁড়িয়েছে।  কিন্তু অধিকাংশ বাড়িতে উঁকি দিলে দেখা যায় সেই আদি নিয়ম এখনো প্রচলন রয়েছে কিছু বাড়িতে।  কারণ তামার পাত্র কিংবা মাটির পাত্র দলে থাকা জীবাণু মারতে সক্ষম হয়। কারণ তামাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি কারসিনোজেনিক এবং  অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরির বৈশিষ্ট্য বর্তমান। তা ছাড়াও বেশকিছু উপকারিতা রয়েছে তামার পাত্রে।  যেমন — 

১) ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম তামা  – ক্যান্সার রোগের মূল কারন হচ্ছে রেডিক্যাল এবং তাদের ক্ষতিকারক প্রভাব। তবে তামাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় সেটি ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে।  এছাড়াও তামাতে মৌলানি উপাদান থাকায় সে দিল তক এবং চোখের বর্ণ দেওয়ার পাশাপাশি সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে মানব দেহকে রক্ষা করে।  

২) উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহকারী  তামা  —    আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি অনুসারে তামা কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা হ্রাস করতে অত্যন্ত সহায়ক।  যে সকল ব্যক্তিদের শৈশব থেকেই শরীরের ঘাটতি দেখা দিয়েছে তাদের ক্ষেত্রে হাইপোটেনশন বিকাশের দিকে পরিচালিত করে তবে প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে যদি তামার ঘাটতি থাকে তাহলে উচ্চ রক্তচাপের  সমস্যা হতে পারে।  তামা ট্রেস পরিবহন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। 

৩) থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে উপকারি তামা  — তামার মধ্যে সেই গুন আছে যেটি মানবদেহের থাইরয়েড গ্রন্থির  অসংলগ্নতা ব্যালেন্স করতে পারে।  তবে এ শরীরে তা আমার অভাব এর ফলে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যগত বাধাপ্রাপ্ত হয়। তবে কোন ব্যক্তির শরীরে অধিক মাত্রায় থাইরয়েড গ্রন্থি বৃদ্ধি পেলে সেদিন হাইপার বা হাইপোথাইরয়েডিজমে  পরিণত হয়।  

৪) রক্তাল্পতা প্রতিরোধে ব্যবহার হয় তামা  – রক্তাল্পতা একটি ভয়ঙ্কর রোগ।  কিন্তু তামার সহজেই হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করার জন্য রক্তাল্পতা নিয়ন্ত্রণে আসে।  তবে অনেকাংশে দেখা গিয়েছে মানব শরীরে তামার ঘাটতি থাকলে হেমাটলজিক্যাল ডিজঅর্ডার হতে পারে যার ফলে শ্বেত রক্তকণিকা কমে যায়। কিন্তু নিয়মিত তামার পাত্রে জল খেলে সেই রোগ থেকে নিরাময় পাওয়া সম্ভব।  

৫) আর্থারাইটিস ও ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে তামা  — কোথাও কেটে গেলে বা খুব গভীর ক্ষত হলে তামা সেটি সহজে নিরাময় করতে পারে। তামাতে বিশেষ ধরনের অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল গুন বিদ্যমান।  সেই কারণে তারা দ্রুত ক্ষত নিরাময় করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি আর্থারাইটিস এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হলে হার্ট দুর্বল হয়ে যায় মানুষের। তবে তামা হাড় মজবুত করতে সহায়তা করে।  

৬) পাচন প্রক্রিয়ায় সহায়ক তামা  –  প্রাচীন যুগ থেকে অর্থাৎ রোম সভ্যতার সময়কাল থেকে ভারতীয় আয়ুর্বেদে বর্তমান পর্যন্ত তামার উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে পেটের জীবাণু মেরে ফেলার জন্য ভিত্তিক ওষুধ লেখা রয়েছে রোমান পুঁজিপথিতে।   তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে টিম বিশ্বাস করেন যে তামার পাত্রে জল পান করলে সেটি পেটে ডিটক্সফাই এবং পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অনেক পেটের রোগ যেমন আলসার বদহজম এবং পাকস্থলী সংক্রমণে সহায়তা করে তামা।  

৭) কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে সহায়তা করে  – তামা হার্টে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করতে এবং পাক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।  তাই শরীরের রক্ত সঞ্চালন করতে ব্যাপক প্রয়োজনীতা তামা। তবে বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে তেমন ঘাটতির কারণে হৃদপিন্ডের পেশী কর্মহীন হয়ে পড়তে পারে। 

৮) ওজন হ্রাস করে তামা — বর্তমানে শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন সকলেই। একটুখানি চর্বি জমলে সেটি কিভাবে কমানো যায় তা নিয়ে চিন্তিত বহু মানুষ। কিন্তু বর্তমানে তা আমার শরীরে অতিরিক্ত চর্বি কি দ্রবীভূত করে এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে।  কারণ যখন মানুষ বিশ্রাম করে তখন তামা নিজের কাজ শুরু করে অর্থাৎ তখন শরীরের অতিরিক্ত চর্বি দহন করতে সহায়তা করে।  একটা কথা মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত তামা শরীরের ভেতরে গেলে সেটি বিষক্রিয়ারও কাজ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.