৯০০ বছর ধরে পুরনো আত্মারা বন্দী রয়েছে পৃথিবীর কোন হোটেলে?

নিউজ ডেস্কঃ অজানাকে জানার আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরকালের। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষ অজানা অনেক কিছু জানতে পেরেছি ঠিকই, তবে এখনো এমন বেশ কিছু রহস্য  রয়ে গেছে যার সমাধান এখনো বিজ্ঞান করতে পারেনি। ভূত বা আত্মার অস্তিত্ব হল সেরকমই একটি ব্যাপার ।ভূত আছে কি নেই সে নিয়ে তর্ক হতে থাকলেও ভূত নিয়ে আগ্রহ নেই এমন মানুষ কমই আছেন । আর আজ আপনাদের এমনই এক ভৌতিক হোটেলের কথা শোনাবো যার সাথে জড়িয়ে আছে প্রায় 900 বছরের পুরনো ইতিহাস ।

ওয়েলসের মনমাউথশায়ার অঞ্চলের ল্যানফিহাঙ্গেল ক্রুকর্নি গ্রামে অবস্থিত স্কিরিড মাউন্টেইন নামক হোটেল টি ওয়েলসের সবচেয়ে পুরনো স্থাপতিগুলোর মধ্যে একটি।  প্রাচীন এই হোটেলটির উল্লেখ 1100 সালের অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকলেও  আছে। অত্যন্ত প্রাচীন স্থপতি হওয়ায়   হোটেলটি ঠিক কে তৈরি করেছিলেন তা নিয়ে সঠিক কোন তথ্য ইতিহাসের পাতায় পাওয়া যায়নি । তবে প্রথমে এটি ছিল একটি মদের দোকান।পরবর্তীকালে এই মদের দোকান ই পরিণত হয় হোটেলে । তবে অতীতে এই বিল্ডিং এর পুরোটাই যে হোটেল ছিল তা নয়।এর নিচের ফ্লোরটি ব্যবহৃত হতো কোটরুম হিসেবে,জনশ্রুতি আছে সামান্য অপরাধেও মৃত্যুদণ্ডের মত কঠিন শাস্তি দেওয়া হতো বলে কুখ্যাতি ছিল এই কোর্টের । প্রাচীন এই স্কিরিড মাউন্টেইন হোটেল কিন্ত এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের ও সাক্ষী  ।

1400 সালের দিকে ওয়েলসের অধিবাসীরা ইংল্যান্ডের রাজা চতুর্থ হেনরির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে করলে এক ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। জানলে অবাক হবেন  বিদ্রোহ দমনের উদ্দেশ্যে এই হোটেলে  প্রায় ১৮০ জন বিদ্রোহীকে বন্দী করে  ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। মনে করা হয় এরপর থেকেই হোটেল কে ঘিরে নানা রকম ভৌতিক কান্ড ঘটতে শুরু করে । এখনো পর্যন্ত এ হোটেলের কড়িকাঠে ফাঁসির  দড়ির দাগ লক্ষ্য করা যায়।  স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, স্কিরিড মাউন্টেইনে এখনো সেই বিদ্রোহীদের অশরীরী আত্মা বসবাস করে  ।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে তারা আচমকাই হোটেলের বিভিন্ন  কড়িকাঠ থেকে ঝুলতে দেখেছেন অসংখ্য মানুষের লাশ।এছাড়াও অনেকেই জানিয়েছেন যে রাতে ঘুমের মধ্যে যেন মনে হয়েছে কেউ অদৃশ্য দড়ি দিয়ে গলা টিপে ধরছে ।একজন বা দুজন নয় বরং এই হোটেলে রাত কাটানো বহু মানুষই তাদের বিভিন্ন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা পরবর্তীকালে তুলে ধরেছেন । এমনকি আইটিভির ‘এক্সট্রিম ঘোস্ট স্টোরিস’ নামের ডকুমেন্টারি টিভি সিরিজেও স্কিরিড মাউন্টেইনের অতিপ্রাকৃত ঘটনাবলি তুলে আনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.