ঠোঁট ভালো রাখতে দুধের সর এবং বিট যেভাবে ব্যবহার করবেন

ঠোঁট আমাদের মুখের সৌন্দর্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর তাই তো যেকোনো অনুষ্ঠানে মুখে সমস্ত মেকআপ করা সত্ত্বেও সামান্য লিপস্টিক ছাড়া গোটা সাজ টাই থেকে যায় অসম্পূর্ণ। গোলাপি ঠোঁট যেমন মুখের সৌন্দর্য বাড়ায় তেমনি ,আমাদের মধ্যে এনে দেয় এক আলাদা কনফিডেন্স ও। আর তাই-ই প্রাকৃতিক গোলাপি চাই আমরা সকলেই!  কিন্তু ঠোঁটের অযত্ন, স্মোকিং প্রভৃতি ঠোঁটকে করে তোলে কালচে।এই কালচে ঠোট নিয়ে যদি আপনি বিব্রত হয়ে থাকেন তাহলে আজকে আপনার জন্য রয়েছে সুখবর ।কোনরকম দামি লিপবাম বা লিপস্টিকের ব্যবহার ছাড়াই প্রাকৃতিক ভাবে আপনি পেতে পারেন গোলাপি, নরম ঠোঁট বিট ব্যবহার করে। শুধুমাত্র রান্না করতেই যে এই সবজি ব্যবহৃত হয় তা কিন্তু নয়। জানলে অবাক হবেন, ঠোঁটে প্রাকৃতিক গোলাপি আভা নিয়ে আসতে পারে বিট।

আসুন জেনে নেওয়া যাক ঠোঁটে প্রাকৃতিক গোলাপি আভা ফিরিয়ে আনতে কিভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে বিট।

বিট ও মধু

রাতে ঘুমানোর আগে একটি পাত্রে কিছুটা বিট এর পেস্ট ও মধু মিশিয়ে রেখে দিন তিন মিনিট ।এরপর পেস্ট টি ভালো করে  ঠোঁটের ওপর কিছুক্ষণ হালকা হাতে ঘষে নিয়ে অপেক্ষা করুন 10 মিনিট ।তারপর আস্তে আস্তে ঘষে তুলে দিন এই পেস্ট। কিন্তু জল ব্যবহার করবেন না ভুলেও।রাতে ঘুমিয়ে পড়ুন ওভাবে। পরদিন সকালবেলা ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ঠোঁট ।মাত্র দু সপ্তাহ নিয়মিত এই মিশ্রন ঠোঁটে ব্যবহার করলেই দেখবেন ঠোঁট হয়ে উঠবে প্রাকৃতিক ভাবেই গোলাপি। সেইসাথে মধুর এই নিয়মিত ব্যবহার আপনার ঠোঁটের রাখবে আদ্র ও নরম ।

চিনি, বিট ও অ্যালোভেরা

বাড়িতেই প্রাকৃতিক ভাবে গোলাপি ঠোঁট পেতে বিটের রস দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন লিপ স্ক্রাব ।একটি পাত্রে 2 টেবিল চামচ বিটের রসের সাথে এক চা চামচ বড় দানার চিনি ও এক চা চামচ অ্যালোভেরার জেল মিশিয়ে নিন ভালোভাবে। তবে খেয়াল রাখবেন চিনি যেন গলে না যায় ।মিশ্রণটি হালকা করে ম্যাসাজ করুন ঠোঁটে ।5 মিনিট ম্যাসাজ করার পরে ঠোঁটে মিশ্রণটি থাকতে দিন কুড়ি মিনিট ধরে ।এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ঠোঁট।সপ্তাহে মাত্র দুবার এই স্ক্রাবটি ব্যবহার করলেই ঠোঁট হয়ে উঠবে গোলাপি সেই সাথে ঠোটে থাকা সমস্ত মৃত চামড়াও দূর করবে এটি ।ফলে আপনার ঠোঁট হয়ে উঠবে নরম ।

বিট ও মাখন

আপনাকে যদি বারো মাসই ঠোঁট ফাটার সমস্যায় ভুগতে হয় তবে লিপবাম এর বদলে নিম্নলিখিত মিশ্রণটি ঠোঁটে ব্যবহার করে দেখুন ।একটি পাত্রে পরিমান মত মাখন ও কিছুটা বিটের রস ভালো করে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন কুড়ি মিনিট।এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ঠোঁট। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রত্যেকদিন এটি ব্যবহার করলে আপনার ঠোঁট ফাটার সমস্যা চিরকালের মতো ঠিক হয়ে যাবে সেইসঙ্গে আপনার ঠোঁট প্রাকৃতিক ভাবেই হয়ে উঠবে লাল।ফলে লিপস্টিকের ও আর  দরকার পড়বে না আপনার ।

বিট ও আমন্ড অয়েল

প্রাকৃতিক ভাবে গোলাপি ঠোঁট পাওয়ার আরেকটি সহজ উপায় হল আমন্ড অয়েলের সাথে বিটের রস মিশিয়ে তা ঠোঁটে ব্যবহার করা ।প্রত্যেকদিন রাতে একটি পাত্রে অল্প পরিমাণ আমন্ড অয়েল ও অল্প বিটের রস মিশিয়ে তা তুলোয় করে ভালো করে লাগিয়ে নিন ঠোটে। সারারাত ওভাবেই রেখে সকালবেলা ঠোঁট ধুয়ে ফেলুন জল দিয়ে ।দেখবেন ঠোঁটের কালচে ভাব চলে গেছে কয়েক দিনেই ।

দুধের সর ও বিট

ত্বকের যত্নে দুধের সরের উপকারিতার কথা আমরা সবাই জানি। দুধের সর ত্বককে রাখে নরম ও মসৃণ।এই দুধের সর কিন্তু ঠোঁটের যত্নেও অত্যন্ত ভালো কাজ দেয়।রসের সাথে এক চামচ দুধের সর ভালো করে মিশিয়ে নিয়মিত ঘুমোতে যাওয়ার আগে ঠোঁটে ম্যাসাজ করে নিন।আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এটি। এক মাস নিয়মিত ব্যবহার করলে দেখবেন আপনার ঠোঁট হয়ে উঠেছে সুন্দর ,নরম ও গোলাপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.