ভাসমান অবস্থায় রয়েছে পৃথিবীর কোন দেশ!

নিউজ ডেস্ক –  হয় সব থেকে বড় এবং  সব থেকে ছোট এই জিনিসগুলো নিয়ে মানুষের বেশি কৌতুহল থাকে। সেরকমই পৃথিবীর সব থেকে ছোট দেশ এবং ভাসমান দেশ নিয়ে  আলোচনা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যিখানে দুটি পিলারের উপর অবস্থিত ভাসমান ছোট দেশটির নাম হল ভ্যাটিকান সিটি। তবে শুধুমাত্র ভ্যাটিকান সিটি নয় আরো দুটি দেশ রয়েছে যার আয়তন খুবই কম। যেমন –  মোনাকো (2 বর্গ মি) নাউরু (২১ বর্গ কিমি)। তবে ভ্যাটিকান সিটির আয়তন মাত্র ০.৪৪ বর্গ কিমি। তাই ১৯২৯ সালে ল্যাটারান চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে একটি সার্বভৌম জাতি হিসেবে ভ্যাটিকান সিটি ইউরোপের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র নামে পরিচিতি লাভ করেছে।  এই ছোট্ট দেশে বসবাসকারীর সংখ্যা মাত্র হাজার জন।

যেহেতু আটলান্টিক মহাসাগরের উপর এই দেশটি অবস্থিত তাই এই গোটা দেশটা নির্মাণ করা হয়েছে ইস্পাতের দ্বারা। এখানে কোন রকম মাটির অস্তিত্ব পাওয়া যাবে না। দুটি মোটা ইস্পাতের দন্ডের উপরই গোটা দেশ অবস্থান করছে। আর এই দেশে মাত্র একটি বাড়ি দেখা যায় যেটি ওই দেশের রাজপ্রাসাদ। এখানে যেতে হলে ইংল্যান্ডের উত্তর উপকূল থেকে ১০ কিলোমিটার সাগরের গভীরে যেতে হবে। এই দেশের একটি রাজধানী রয়েছে যার নাম HM Fort Roughs। রাজপ্রাসাদের উপরেই সম্মানে বিরাজ করছে এই দেশের পতাকা। 

অনেকের মনের প্রশ্ন আসতে পারে যে সমুদ্রের মধ্যেখানে এমন দেশ তৈরি করবে কে!  আসলে পূর্ব যখন এই ল্যান্ড বা ভূমি তৈরি করা হয়েছিল তখন এটাকে দেশ হিসেবে বা মানুষের থাকার জায়গা হিসেবে নির্মাণ করা হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সেনারা যে কোন মুহূর্তে ইংল্যান্ড আক্রমণ করতে পারে এমনটাই আশঙ্কা হয়েছিল ব্রিটিশ সরকারের। তাই আগেভাগে নিজের দেশ রক্ষার্থে আটলান্টিক মহাসাগরের ১০ কিলোমিটার দূরে উপকূলবর্তী অঞ্চলে ইস্পাত তৈরি একটি ছোট মউনশেল সি ফোর্ট নির্মাণ করেছিলেন তারা। যেখান থেকে শত্রুর যুদ্ধ জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি করা হতো। প্রয়োজনে শত্রু জাহাজে আক্রমণ পরিচালনার কাজও চলত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে অন্যান্য অসংখ্য দুর্গের সঙ্গে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী এটাকেও পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে আনুমানিক ১৯৬৭ সালের ২রা সেপ্টেম্বর   ব্রিটিশ নাগরিক Major Paddz Roy Bates এবং তার পরিবার ওই ল্যান্ডটিকে নিজেদের ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। এরপরই তারা ওটিকে স্বত্বাধিকার দিয়ে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন। এই জায়গাটি আইনত ভাবে স্বাধীনতা স্বীকৃতি না পেলেও কেউ এর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ জানায়নি। এটা এখানে বসবাসর মানুষ ছিলেন মাত্র তিনজন যারা ওই পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং পরবর্তীতে তারাই ওই ছোট রাষ্ট্রের রাজা রানী এবং রাজপুত্র হলেন। 

কালের পরিবর্তনে ভালোই চলছিল ছোট্ট রাষ্ট্রের আধিপত্য। কিন্তু আজমকা ২০০৬ সালের ২৩শে জুন ছোট্ট জায়গাটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। যদিও এই ঘটনা খবর পেতেই ইংল্যান্ডের উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার এসে সি-ল্যান্ডের বসবাসকারীদের  উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছিল এবং ওই জায়গার মেরামত করিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের সরকার। সেক্ষেত্রে পুনরায় জায়গাটি বসবাসের যোগ্য হয়ে উঠলে সি-ল্যান্ডবাসী আবার ফিরে গিয়েছিলেন তাদের ছোট্ট রাষ্ট্রে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.