৭০ জনকে নরকীয়ভাবে হত্যা করার পরেও মাথা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে যে সিরিয়াল কিলারের

নিউজ ডেস্ক –   ইতিহাসের পাতা উল্টালে বহু সিরিয়াল কিলারের নাম সামনে আসে। এমন অনেক সিরিয়াল কিলারের কাহিনী রয়েছে সেগুলো মানুষের সামনে আসলে তাদের হাড়হিম হয়ে যাবে। সেরকম একটি সিরিয়াল কিলার হল ডিয়াগো আলভেস। উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পর্তুগালে হত্যা লীলার আরেক নাম ছিল ডিয়াগো আলভেস। তাহলে একটু বিস্তারিতভাবে বলা যাক এই সিরিয়াল কিলারের বিষয়ে। 

জানা যায়, ১৮১০ সালে  স্পেনের গ্যালিসিয়াতে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ডিয়াগো আলভেস। তবে পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত সংকীর্ণ থাকায় মাত্র ১৯ বছর বয়সে  কাজের তাগিদে ঘর ছেড়ে ছিলেন তিনি।  যেহেতু বয়স খুবই অল্প ছিল তাই সহজেই ধনী ব্যক্তিদের বাড়িতে কাজ পেয়ে যেতেন ডিয়াগো। তবে বেশিদিন কাজ করতে পারেননি তিনি। অন্যের বাড়ি কাজ করা ছেড়ে আজমকা, মদের নেশায় ও জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন এই সিরিয়াল কিলার। Palhava Maria Gertrudes নামের একজন প্রেমিকাও  ছিলো ডিয়াগোর। মনে করা হয় যে Lisbon-এর একটি সারাই কারখানার মালিকের সাহায্যে নিজের শিকার খুঁজতেন ডিয়াগো। তবে এখানে একটা কথা না বললেই নয় যে হতদরিদ্র মানুষদেরই নিজের শিকার বানাতেন এই খুনি। 

প্রথমে রাতের অন্ধকারে দরিদ্র পথচারীদের উপর আক্রমণ করে তাদের ছিনতাই করার পর তাদের চোখ চোখ বেঁধে জল তুর একেবারেই শীর্ষে নিয়ে গিয়ে শারীরিক অত্যাচার করে প্রায় ৭৫ ফুট উপর থেকে নিচে ফেলে দিতেন। এত উচ্চতা থেকে নিজে পড়ে হামে যায় মৃত্যু হতো অসহায় মানুষদের। এইভাবে প্রায় ১৮৩৬ থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত আনুমানিক ৭০ জনের হত্যা করেছিলেন ডিয়াগো। তখনকার সময়ে প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আসেনি কারণ ১৮২০ সালের উদারনৈতিক বিপ্লবের কারণে একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে ছিল পর্তুগাল। লোকেরা আর্থিক অসুবিধার সাথে মোকাবিলা করছিল, এবং কর্তৃপক্ষ দুর্ভাগ্যবশত অনুমান করেছিলেন যে তাদের দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ আত্মহত্যা করছে। তবে কথায় আছে যে চোরের দশ দিন তো গৃহস্থের একদিন। সেরকম এই দিনের পর দিন একই ব্রিজের উপর থেকে মানুষের আত্মহত্যা করা ঘটনাটা নজর কাড়ে প্রশাসনের। 

পরবর্তীতে সরকারের সন্দেহ হতেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সেই ব্রিজ। যার ফলে সমস্যায় পড়েছিলেন ডিয়াগো।  এরপরই নতুন ফন্দি এটেছিলেন তিনি। একটা গুন্ডার দল গঠন করে এবং লোকের বাড়িতে চুরি করে তাদের মেরে ফেলতেন। কিন্তু খুব বেশিদিন চলেনি তার এই কৌশল। এরপরই ১৮৪০ সালে ধরা পড়ে গিয়েছিলেন এবং তার শাস্তি স্বরূপ সাজা হয়েছিল ফাঁসি। 

তবে যেহেতু পর্তুগালে প্রথম সিরিয়াল কিলার ছিলেন ডিয়াগো  তাই  তাকে ফাঁসি দেওয়ার পর লিসবনের Escola Medico Cirurgica এর বিজ্ঞানীরা তার মাথা একটি  ফর্মালডিহাইড ভর্তি জারে সংগ্রহ করে রেখেছিলেন। কারণ বিজ্ঞানীরা অধ্যায়ন করতে চেয়েছিলেন যে এটি কি কারণে একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ আগামী দিনে সিরিয়াল কিলারের পরিণত হয়।  আজও Lisbon University -র Faculty of Medicine ল্যাবে সংগ্রহ করা রয়েছে এমন নিষ্ঠুর খুনির মাথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.