নিজের ছেলের হাতেই মৃত্যু হয়েছিল অর্জুনের। কোন ছেলের হাতে মারা গেছিলেন তিনি?

নিউজ ডেস্কঃ মহাবীর অর্জুন যার বীরত্বের কথা ইতিহাসের পাতায় রয়েছে।অর্জুন বীরত্বের কথা আমরা সবাই জানি কিন্তু অর্জুনের মৃত্যুর কিভাবে হয়েছিল সেটা অনেকের কাছেই অজানা। আরেকটি অজানার বিষয় হল যে অর্জুন নিজের পুত্রের হাতেই মৃত্যু হয়েছিল।তবে কেন নিজের পুত্রের হাতে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল অর্জুনকে? জেনে নিন অর্জুন কিভাবে মারা গিয়েছিলেন এবং কেন?

মহাভারতের যুদ্ধের পরে পাণ্ডবপুত্র যুধিষ্ঠি যখন হস্তিনাপুরের রাজা হন তখন তিনি ঠিক করেন যে তিনি অশ্বমেধ যজ্ঞ করবেন।যজ্ঞের ঘোড়াকে ইচ্ছা মতো ঘুরতে ছেড়ে দেওয়া হল এবং ওই ঘোড়াকে অনুসরন করবেন অর্জুন।যুধিষ্ঠিরের নির্দেশ ছিল যে অর্জুন যাতে যেন বিভিন্ন প্রদেশের রাজাদেরকে মৈত্রী প্রস্তাব দেন।ওই ঘোড়াটি প্রথমে উত্তরের ত্রিগর্তদেশে প্রবেশ করে ওখানকার রাজা সূর্যবর্মা ঘোড়াটিকে আটকায় এবং অর্জুনের মৈত্রীর প্রস্তাব অস্বীকার করেন।এরপরে অর্জুন সূর্যবর্মার সাথে যুদ্ধ করেন এবং এতে সূর্যবর্মা হেরে যান।এরপরে ঘোড়াটি ঢুকল প্রাগজ্যোতিষপুরে যার রাজা ছিলেন বজ্রদত্ত এবং তিনি অর্জুনের মৈত্রী প্রস্তাব স্বীকার করেন।এভাবেই অর্জুন বিভিন্ন প্রদেশে যান বিভিন্ন রাজাদের মৈত্রীর স্বীকার করার জন্যে।যারা তার মৈত্রী স্বীকার করেন না তাদের সাথে যুদ্ধ করেন এবং যারা মৈত্রী স্বীকার করেন তাদের সাথে যুদ্ধ করেন না।অবশেষে অর্জুন যান মনিপুরে।যেখানের সিংহাসনের বসেছিলেন অর্জুন ও চিত্রাঙ্গদার পুত্র বভ্রুবাহন।পিতা এসেছেন বলে বভ্রুবাহন তাকে স্বাগত জানালেন।এটি দেখে অর্জুন বভ্রুবাহন বলেন যে শত্রুকে এভাবে স্বাগত জানানো ক্ষত্রিয়দের ধর্ম নয়।অর্জুন বভ্রুবাহনকে তার সাথে যুদ্ধ করতে বলে।বভ্রুবাহন পিতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চান না।এরপর অর্জুনের আরেকটি স্ত্রী উলুপি বভ্রুবাহনকে ক্ষত্রীয় ধর্ম পালন করার কথা বলেন।অবশেষ বভ্রুবাহন অর্জুনের সাথে যুদ্ধ করতে রাজি হন এবং যুদ্ধ করেন।অর্জুন ও তার পুত্র বভ্রুবাহন যুদ্ধে অর্জুন তার পুত্রের হাত নিহত হন।তবে অর্জুন নিহত হলেও উলুপি সাহায্যে আবার অর্জুন প্রান ফিরে পেয়েছিলেন।    

Leave a Reply

Your email address will not be published.