পৃথিবীর কোন স্থানে ৪০০ বছর ধরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে আত্মারা?

নিউজ ডেস্কঃ বর্তমানে এই বিজ্ঞানের যুগে ভূতের অস্তিত্ব কথাটি নেহাতই বেমানান হয়ে উঠেছে।বেশিরভাগ লোক ই বিশ্বাস করেনা ভূতের অস্তিত্ব। আর যারা বিশ্বাস করে তারা প্রায়ই হয়ে ওঠে হাসির খোরাক। কিন্তু মানুষের বিশ্বাস থাকুক বা না থাকুক বিশ্বে এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে গেলে যেকোনো সাহসী মানুষের ও ভয়ে বুক কেঁপে উঠতে বাধ্য দিনে-দুপুরেও ।

এই সমস্ত জায়গায় কখনো শোনা যায় ভয়ঙ্কর আর্তনাদ কখনো বা ঘটতে দেখা যায় নাননা রকম ভুতুড়ে কান্ড ।

এরকমই একটি হাড় হিম করা রহস্যময় জায়গা হল দক্ষিণ রাশিয়ার অন্তর্গত  উত্তর ওসেশিয়ায় অবস্থিত  ডারগাভস নামক শহরটি। অত্যন্ত সুন্দর ছোট্ট এই গ্রামটি  প্রত্নতাত্ত্বিক দের কাছে  অত্যন্ত আকর্ষণীয় কারণ অতি প্রাচীন এই গ্রামটিতে রয়েছে প্রায় একশটি পাথরের সমাধি বিশিষ্ট এক কবরখানা। আর এটি কোন সাধারণ গোরস্থান নয় ,অতীতে এই গ্রামে কেউ মারা গেলে গ্রামবাসীরা মৃতদেহের সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত পছন্দের জামাকাপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র তার সাথে কবর দিত। আর পুরাতন এই সমস্ত কবর থেকেই প্রায়  ৪০০ বছর পূর্বে এই গ্রামে বসবাস করা মানুষের জীবনযাত্রা ও আচার ব্যবহার সম্পর্কে এক স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করা সম্ভব। তবে এ জায়গাটি শুধুমাত্র প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে বিখ্যাত এটা ভাবা ভুল। অতীতের টানে বহু পর্যটক ই এই গ্রাম ভ্রমণ করতে আসেন। সুন্দর এই গ্রামটি পর্যটকদের মন জয় করে নিলেও এই গ্রাম কে কেন্দ্র করে শোনা যায় নানা রহস্যময় ঘটনা। স্থানীয়দের মতে এই গ্রামে প্রায়ই শোনা যায় নানা ভৌতিক আর্তনাদ ও অনুভব করা যায় অতৃপ্ত আত্মাদের উপস্থিতি। স্থানীয়রা মনে করেন এখানে একবার কেউ প্রবেশ করলে সে জীবিত অবস্থায় কোন মতেই বেরিয়ে আসতে পারে না। কারণ হিসাবে তারা মনে করেন এক ভুতুড়ে  শক্তি এই গ্রামটিকে এখনো পর্যন্ত বেষ্টন করে রেখেছে।

কিন্তু  এরকম মনে হওয়ার কারণ কি?আর কেনই বা এই গ্রামে ঘটে ভৌতিক কাণ্ডকারখানা। তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও নানা গল্প কথা শোনা যায় প্রায়ই। তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে এই ভৌতিক ঘটনার  শুরু 18 শতকে। আঠারো শতকে এই গ্রামে প্লেগ হঠাৎ করে মহামারী আকার ধারণ করে। একে একে প্রচুর লোক ক্রমাগত মারা যেতে থাকলে সংক্রমণের ভয়ে এই গ্রামের বাসিন্দারা প্লেগে আক্রান্তদের পাথরের তৈরি  এক  ছোট্ট ঘরে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহ আলাদা করে রেখে দিত। একপ্রকার বিনা চিকিৎসাতেই কষ্ট ও একাকীত্ব নিয়ে এই ছোট পাথরের ঘরেই ক্রমে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে তারা।

অনেকেই মনে করেন এখানে মৃত্যুবরণ করা সেই সমস্ত মানুষদের অতৃপ্ত আত্মা এখনো ঘুরে বেড়ায় এই গ্রামে। এখনো এই গ্রামে প্রবেশ করলে দেখা যায় এই সাদা পাথরের সমাধি গুলির সামনে  একটি করে  কুয়ো। মনে  করা হয়, ওসেশিয়ার লোকেরা  মৃত ব্যক্তিদের   কবর দেওয়ার পর কুয়োতে একটি করে  মুদ্রা ছুড়ে ফেলতো এবং যদি সেটা কুয়োর নিচে কোনো পাথরকে আঘাত করত, তবে মনে করা হতো, মৃত ব্যক্তির আত্মা স্বর্গে পৌঁছে গেছে।তবে ভূত থাকুক বা না থাকুক এই গ্রাম যে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মৃতিচিহ্ন এখনো বহন করে নিয়ে চলেছে তা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.