পেট খারাপ, পাকস্থলীর সমস্যা, গ্যাস,ডায়রিয়ার মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে শরীরে। গাজরের ক্ষতিকর কিছু দিক

নিউজ ডেস্কঃ গাজর একটি খুবই সহজলভ্য এক সবজি যার স্বাদ যেমন সুস্বাদু তেমনি এটি স্বাস্থ্য উপযোগীও বটে ।গাজর খাওয়া যে শরীরের পক্ষে ভালো তা তো আমরা সকলেই শুনেছি আর এর কারণও রয়েছে অনেক ।গাজরে রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, এবং ভিটামিন-বি, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড, ফোলেট, পটাসিয়াম, আয়রন, প্রচুর পরিমানে ফাইবার এবং বিটা ক্যারোটিন যা শরীরে সঠিক পুষ্টির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ।স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা তাদের রোজকার ডায়েটের গাজর অল্প হলেও রাখেন ।

তবে অনেক সময় এই গাজর খাওয়া থেকেই হয়ে যায় মুশকিল। যেহেতু এর পুষ্টিগুণ অপরিসীম এবং এটি খেতেও বেশ ভালো অনেকেই বেশি পরিমাণে গাজর প্রত্যেক দিনের ডায়েটে যোগ করতে শুরু করেন ।কিন্তু যে কোনো জিনিস এর মতই গাজর ও অত্যাধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে দেখা দিতে পারে নানা পার্শপ্রতিক্রিয়া।

যেগুলো নিয়ে আমরা অনেকেই অবহিত নয় ।আসুন জেনে নেই অত্যাধিক পরিমান গাজর থেকে কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে শরীরে ।

১) গাজরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন । শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন এ না পেলেও এই বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি দূর করে সহজে । তবে,  এই বিটা ক্যারোটিন এর পরিমাণ শরীরে খুব বেশি হয়ে গেলে তা আমাদের ত্বকের রঙ পরিবর্তন করে দিতে পারে । ফলে, ত্বকের রঙ হয়ে যায় হলদেটে।

২) গাজরের মধ্যে অসংখ্য পুষ্টিগুণ আছে ঠিক ই তবে, গাজরে কারোর কারোর এলার্জি ও থাকে ।আর তা সম্পর্কে না জেনে বেশি পরিমাণে গাজর খেয়ে ফেললে মারাত্মক রকমের অসুস্থতাও কিন্তু দেখা দিতে পারে ।

৩) আমরা অনেকেই গাজর রান্না না করে কাঁচা গাজর দিয়ে সালাড বানিয়ে খেয়ে থাকি। এটি স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হলেও বেশি পরিমাণ গাজর কিন্তু না খাওয়াই ভালো । বিশেষত ডায়াবেটিস জাতীয় রোগ যদি আপনার থেকে থাকে তবে গাজর খাওয়া থেকে বিরত থাকাই বেশি ভালো ।কারণ,গাজরে মিষ্টির পরিমাণ থাকে বেশি যা শরীরে সুগার বা ডায়াবেটিস জাতীয় সমস্যা তৈরি করতে পারে  ।

৪) প্রতিদিন অল্প পরিমাণ গাজর খাওয়া নিঃসন্দেহে শরীরের পক্ষে ভালো।কিন্তু, এই গাজরের পরিমাণ যদি বেশি হয়ে যায় রোজকার খাদ্যে তবে তা শিশুদের দাঁতের ক্ষতি করে ভীষণভাবে ।অল্প বয়সের বাচ্চাদের দাঁত হয়ে যায় দুর্বল এবং দ্রুত দাঁতের ক্ষয় শুরু হয় ।

৫) প্রচুর পরিমাণে গাজর খেলে আপনার দেহে ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম, দস্তা ইত্যাদি খনিজগুলির শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে।

৬)নিয়মিত অল্প পরিমাণ গাজর খেলে তা  আমাদের হজম শক্তির উন্নতি সাধন করে। কিন্তু,অপরদিকে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গাজর খেয়ে ফেললে তা হজম শক্তির উন্নতি সাধনের বদলে পেট খারাপ, পাকস্থলীর সমস্যা, গ্যাস,ডায়রিয়ার মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে শরীরে  ।

৭)গাজর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায় ঠিকই তবে গর্ভাবস্থায় বেশি পরিমাণ গাজরের রস খাওয়া একবারে উচিত নয়। কারণ এর থেকে মহিলাদের বুকের দুধের স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে যায় অনেক সময় ।ফলে সদ্যজাত বাচ্চার মাতৃদুগ্ধের প্রতি অরুচি দেখা দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.