হিন্দু পুরাণে বর্ণিত কাহিনী গুলির মধ্যে ভগবান শিবকে লিঙ্গ রূপে পুজো করার পেছনে রয়েছে এক পৌরাণিক কাহিনী

নিউজ ডেস্কঃ আমরা ভগবান শিবকে সবসময় লিঙ্গরুপে পুজা করি।মন্দিরে বাড়িতে সব জায়গাতেই ভগবান শিবের লিঙ্গরূপে দেখা যায়।কিন্তু কেন শিবকে  লিঙ্গরুপে পুজা করা হয়? জানেন কি এর আসল কারনটি। না জানলে জেনে নিন  শিবকে  লিঙ্গরুপে পুজা করার কারন।

বহু প্রাচীনকাল হতেই আমরা শিবলিঙ্গের পূজা করে আসছি।অনেকেই প্রশ্ন করেন যে শিবলিঙ্গটি আসলে কি? হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী ভগবান শংকর যিনি দেবাদিদেব মহাদেব নামে পরিচিত। তার লিঙ্গকে বোঝানো হয়েছে অর্থাৎ শিবলিঙ্গটি হলো একটি পুরুষ লিঙ্গ।যদি ভালো করে শিব লিঙ্গের গঠন দেখা যায় তাহলে বোঝা যায় শিবলিঙ্গটি একটি অংশের উপর অবস্থিত ওই অংশটিকে যোনি বলা হয় অর্থাৎ একটি যোনির মধ্যে শিবলিঙ্গটি অবস্থিত। শিবলিঙ্গ হলো শিব ও শক্তির মিলিত স্বরূপ।প্রতিটি শিবলিঙ্গ দুটি খণ্ডে বিভক্ত থাকে একটি হলো পুরুষ লিঙ্গ ভগবান শিবের প্রতীক মনে হয় আর দ্বিতীয়টি হল যোনি যা হলো দেবী অর্থাৎ আদিশক্তি মহামায়ার প্রতীক।

হিন্দু পুরাণে বর্ণিত কাহিনী গুলির মধ্যে ভগবান শিবকে লিঙ্গ রূপে পুজো করার পেছনে রয়েছে এক পৌরাণিক কাহিনী। 

বহুকাল আগেকার ঘটনা সপ্তঋষি সহ আরো অনেক ঋষিরা সম্মিলিত হয়ে একটি মহাযজ্ঞের আয়োজন করছেন। যজ্ঞটি সুসম্পন্ন হবার পরে যজ্ঞ থেকে যে সুফল নির্গত হল ঋষিগণ জানতেন না যে এই ফল পাওয়া উচিত।তখন দেবর্ষি নারদ এর আগমন ঘটে তিনি বলেন এই ফলের অধিকারী হলেন ত্রিদেব অর্থাৎ ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর। কিন্তু ত্রিদেবের মধ্যে যে সব থেকে বেশি শক্তিশালী সেই এই ফলটির সর্বপ্রথম অধিকারী।তবে সবথেকে বেশি শক্তিশালী কে তা তিনি জানতেন না।তাই দেবর্ষি নারদ ঋষিদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন আপনাদেরকে নির্বাচন করতে হবে যে কে এই ফলটির যোগ্য অধিকারী। তখন সমস্ত ঋষি দের মধ্যে মহর্ষি ভৃগুকে নির্বাচন করেন এই কাজটি করার উদ্দেশ্যে।মহর্ষি ভৃগু প্রথমে ব্রহ্মালোকে গিয়ে দেখেন মাতা সরস্বতী ও ব্রহ্মা গভীর বেদ চর্চায় মগ্ন আছেন।ওনারা লক্ষ্যই করেন নি যে মহর্ষি ভৃগু এসে উপস্থিত হয়েছেন ব্রহ্মালোকে।এতে প্রচণ্ড রেগে যান এবং ব্রহ্মাকে অভিশাপ দেন যে তিনি যে অপমান বোধ করেছেন এর জন্য পৃথিবীতে ব্রহ্মার কোনো মন্দির থাকবে না এবং ব্রহ্মার কোন পুজো করা হবে না।এরপর মহর্ষি ভৃগু সেই স্থান ত্যাগ করে ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন এবং কৈলাসে গিয়ে উপস্থিত হয়ে দেখেন ভগবান শিব এবং দেবী শক্তি দুজনের দাম্পত্য জীবনের স্বাদ উপভোগ করছেন।মহর্ষি ভৃগু বিনা অনুমতিতে আগমনে ভগবান শিব অত্যন্ত রুষ্ট হন মহর্ষি ভৃগুর উপরে।এতে  তখন মহর্ষি ভৃগুও অত্যন্ত রেগে গেলেন এবং ভগবান শিব কে অভিশাপ দেন যে আজ থেকে  পৃথিবীতে শিবের মূর্তি পূজা করা হবে না শিবকে শুধুমাত্র লিঙ্গ রূপে পূজা করা হবে।এই কারনেই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিবের লিঙ্গ পুজার সূত্রপাত হয় এবং শিবলিঙ্গকেই ভগবান শিবের প্রতীক মানা হয়।অবশেষে বৈকুন্ঠে গিয়ে উপস্থিত হলে মহর্ষি দেখেন ভগবান বিষ্ণু অত্যন্ত শয্যায় নিদ্রায় মগ্ন ছিলেন। মহর্ষি ভৃগু তাকে নিদ্রাভঙ্গ করার চেষ্টা করলেও ভগবান বিষ্ণুর নিদ্রাভঙ্গ হয়নি।তখন তিনি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে ভগবান বিষ্ণুর বুকে ডান পা দিয়ে লাথি মারেন। বিষ্ণুর নিদ্রা ভঙ্গ হলে তিনি সকল বিষয় বুঝতে পারেন।এরপর মহর্ষি ভৃগু ভগবান বিষ্ণুকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভগবান রূপে বিবেচিত করেন এবং যজ্ঞের  সমস্ত ফল  তিনি ভগবান বিষ্ণুকে প্রদান করেন।পুরাণের  এই কাহিনীর জন্যই শিবকে লিঙ্গ রূপে পূজা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.