বেশি প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা। ঘুম এড়ানোর সহজ কিছু নিয়ম

নিজস্ব প্রতিনিধি – খাদ্য রসিক বাঙালির খাদ্যের তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে থাকে ভাত। তবে শুধুমাত্র বাঙালি নয় প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষই ভাতকে প্রধান খাদ্য হিসেবে বেছে নেন। তবে ভাত খাওয়ার পরেই ঘুম ঘুম ভাব বড্ড বিরক্ত করে সকলকে। অফিস হোক বা যেকোনো কর্মস্থান ঘুম পেলে অমনোযোগী হয়ে পড়েন বহু মানুষ। তবে এবার ‘বিন বুলায়ে মেহমানের’ মতো ঘুমকে বিদায় জানাতে কয়েকটি কার্যকর উপায় বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, ভাতে প্রধান উপাদান হিসেবে থাকে কার্বোহাইড্রেট। সেই কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ভাত খেলে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা ওঠানামা করে। যেকোনো খাবার খাওয়ার পরেই রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্যানক্রিয়াস ইনসুলিন তৈরি করতে থাকে। যার কারণে ভাত খেলে প্যানক্রিয়াস বেশি ইনসুলিন উৎপন্ন করে। যার কারণে ইনসুলিন বেশি উৎপন্ন হলে শরীরে ঘুমের হরমোন তৈরি হয় আর এই হরমোন মস্তিষ্কে গিয়ে বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিনে পরিণত হয়। এই মেলাটোনিন হলো ঘুমের হরমোন। তাই ভাত খাওয়ার পর ঘুম পাওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। এর ফলে শরীরে হজমের মনোনিবেশ করে।

এর পাশাপাশি উচ্চ কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খেলে হজম করতে অনেক শক্তি খরচ হয়। খুব ভারী খাবার খেলে হজম করতে শরীরের ৬০ থেকে ৭৫ ভাগ শক্তি ব্যবহৃত হয়। এই শক্তি ক্ষয় এর জন্য আমাদের ঘুম পায়। কেবল উচ্চ কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবারের বেলায় নয়  যে কোন প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলেই এটি ঘটে।

ঘুম কিভাবে এড়ানো যায় সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি উপায় জানিয়েছেন। যেমন –

১. বেশি প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা। কারণ অতিরিক্ত প্রোটিন ও ফ্যাট দেহে প্রবেশ করলে তা ভাঙতে শরীরে বেশি শক্তি ব্যয় হয়।

২. তাই দুপুরে খুব বেশি খাওয়া উচিত নয়, হালকা পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।

৩. খাবারের তালিকায় ৫০ শতাংশ সব্জি, ২৫ শতাংশ প্রোটিন এবং ২৫ শতাংশ শর্করা যাতে থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে।

৪. খাদ্যতালিকায় যত স্বাস্থ্যকর খাবার থাকবে ততো রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে শরীরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.