এতো পরিমানে প্রাকৃতিক তেলের ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও কেন নিজেদের তেল উত্তোলন করেনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র?

নিউজ ডেস্ক  –  বিপুল কোন ভান্ডারের জন্য এক একটি দেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ঠিক সেরকমই বিশাল ভূখন্ডের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের  কাছে রয়েছে বিপুল পরিমাণ তেলের ভান্ডার।  যার কারণে গোটা পৃথিবীর মধ্যে তেলের সম্ভারের জন্য বিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তেলের খনি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৭০ বছর  তেল উত্তোলন করেনি। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়কে কেন্দ্র করে নানান প্রশ্ন জেগেছে মানুষের মনে।  তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ভবিষ্যত পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে এবং আগাম সংকটের থেকে রেহাই পেতে তেল মজুদ করে রাখা হচ্ছে।  এছাড়াও আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ার যুদ্ধের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল সেই সব দেশ থেকে সরিয়ে নিয়েছে বহু আগেই।  

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় ১৯৭০ দশকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।   এছাড়াও ১৯৭৩ সালে আরব- ইসরায়েল যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষ নেওয়ায়  ওপেকের সদস্য ইরাক, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরব আমেরিকাকে তেল রপ্তানি করতে অস্বীকার করে।  যার কারণে সেই সময় তেলের দাম হয়েছিল আকাশছোঁয়া।  অথচ আরব ইসরাইলের  যুদ্ধ মাত্র তিন সপ্তাহ হওয়ার পর সেটি থেমে গেলেও  তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল প্রায় ১৯৭৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত।  কার্যত এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলির আমেরিকাকে তেল সরবরাহ না করায় তেলের দাম চারগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ব্যারেল প্রতি ৩ ডলার থেকে ১২ ডলার।  কার্যত এই সমস্যার সম্মুখীন হতেই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ গড়ে তোলে।  

সকলের অলক্ষ্যে  যুক্তরাষ্ট্র যে তেলের গুহা তৈরি করেছিল সেটি রয়েছে মূলত টেক্সাস এবং লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের মাটির নিচে লবণের স্তরের ভেতরে।   এই খনিতে বর্তমানে তেল মজুদ করা রয়েছে ৬৪ কটি ব্যারেল।  তবে শুধু মাত্র দুটি দেশ নয় এরকম চারটি দেশের যুক্তরাষ্ট্র তেল মজুদ করে রাখার জন্য গহ্বর তৈরি করেছে। সেই দেশ গুলি হল টেক্সাসের ফ্রিপোর্ট, উইনি এবং  লুইজিয়ানয়ের  লেক চার্লস এবং ব্যাটন রুজে। তবে শুধুমাত্র যে গহবর করেই তেল রেখেছে তা নয়।  তেল মজুদ রাখার জন্য মাটির নীচে প্রায় ৩ হাজার ৩০ ফিট  গর্ত খুঁড়ে ভূগর্ভস্থ লবণের স্তরের একটি অংশের লবণ দিয়ে তৈরি করা হয় এই গুহা। এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা গুহার মধ্যে শুধুমাত্র তেল না প্রাকৃতিক গ্যাসও মজুদ করা হয়।  এছাড়াও ভূগর্ভস্থ লবণের রাসায়নিক গঠন এবং ভূতাত্ত্বিক চাপের কারণের জন্য এই গুহা থেকে  তেল বের হতে পারে না। তার জন্য অভিনব প্রক্রিয়া তৈরি করা হয়েছে এই গুহাটি।  

অন্যদিকে আবার রিপোর্ট এর কাছে ব্রায়ান মাউন্ডে যে  গুহা রয়েছে তার মধ্যে ২৫৪ মিলিয়ন কথা ২৫  কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল জমে রয়েছে।  কার্যত আমেরিকার বিপুল পরিমানের তিল থাকার কারণে সেই দেশের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘ আমেরিকা এখন তেলের ব্যাপারে স্বাধীন। আসে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের উপর  ১০০ শতাংশ নির্ভরশীল নয়।  যেখানে বড় বড় শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যপ্রাচ্যে তেলের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ আমেরিকা তার নিজস্ব খনি থেকে তার চাহিদা মতো  ৯০ শতাংশ তেল উৎপাদন করে। যার কারণে এখন বিশ্বের এক নম্বর তেল উৎপাদনকারী দেশ হল আমেরিকা। এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সৌদি আরব’।

Leave a Reply

Your email address will not be published.