জেলে না রেখে কেন খাঁচায় রাখা হত চীনের মানুষদের?

নিউজ ডেস্ক – সচরাচর খাঁচায় বন্দী হতে দেখা যায় জীবজন্তুদের। এই সকল জীবজন্তুদের মানুষ ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজেদের আনন্দ প্রদান করার জন্যই খাঁচায় বন্দি করে। না হলে কার ভালো লাগে আর বদ্ধ জীবন যাপন করতে। মানুষের ইচ্ছাকৃত ফলের সাজা  মানুষ বরাবরই পেয়ে থাকে। একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে যেটি হল নেচার কল রিভেঞ্জ। অর্থাৎ প্রকৃতির ঠিক তার প্রতিশোধ নিয়ে থাকে। এখানেও তার অন্যথা ঘটল না। একটি দেশ রয়েছে যেখানে মানুষ খাঁচায় বসবাস করে। ঠিকই শুনেছেন চারটি লোহার গ্রিল নির্মিত খাঁচায় জীবন যাপন করছে মানুষ। তবে কেন এই খাঁচা জীবনযাপন! আসলে এই দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ রয়েছে যাদের অবস্থা এতটাই খারাপ যে বাড়ি বানাতে না পাড়ায় ভাড়া দিয়ে খাচায় বসবাস করছে তারা। এমন অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায় ড্রাগন সাম্রাজ্যের অর্থাৎ অর্থনীতির দেশ হংকং চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এশিয়া মহাদেশের যে  কয়েকটি বড় অট্টালিকা দেখা যায় তাদের মধ্যে একটি শহরে নরকের জীবন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। 

হংকংয়ে সরকারি নিয়ম মেনেই লাইসেন্স নিয়ে এখানে বসবাস করতে পারে সাধারণ মানুষ। যদিও তার জন্য কিছু আর্থিক মূল্য বিনিময় করতে হয়। এখানে খাঁচায় বসবাস করতে হলে আর্থিক মূল্য হিসেবে দিতে হয় ১৪ থেকে ২৪০০ হংকং ডলার। একটি বহুতল বাড়ির সমগ্রটায় ছোট ছোট কক্ষ করে খাঁচা নির্মিত। প্রত্যেকটি খাঁচায় বসবাস করে ১ জন করে মানুষ। তবে বহুতল নিয়ে নির্মিত বাড়িতে একাধিক ঘর থাকলেও শৌচাগার রয়েছে মাত্র দুটি। এই দুটি শৌচাগার ব্যবহার করতে হয় প্রত্যেকটি খাঁচায় বসবাসরত মানুষদের। ‌ আর্থিক দিক থেকেই অস্বচ্ছল হওয়ার জন্য হতদরিদ্র জীবন যাপন করতে হয় বহু মানুষকে। তবে একজন দুজন নয় একাধিক ব্যক্তির জীবন কেটে আজ বার্ধক্যে পরিণত হয়েছে এই খাঁচাতেই। সেই সকল বার্ধক্যজনিত ব্যক্তিদের বক্তব্য খাঁচায় বসবাস করা মানেই কফিনের ঢুকে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.