স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক কি এক! দুটি রোগের ক্ষেত্রে সিমটম আলাদা হয় কেন?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় স্ট্রো কেমন হার্ট অ্যাটাক দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু অনেক মানুষ সেটি মানতে চান না। অনেকের এমন ভুল ধারণা রয়েছে যে স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক একই জিনিস। তবে এই সকল মানুষের ভুল ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করতে এই দুটি রোগের যে আলাদা সিমটম দেখা দেয় সেটি সবিস্তারে আলোচনা করেছেন একজন চিকিৎসক। এবার এক ঝলক দেখে নেওয়া যাক স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক আসলে কি! 

* হার্ট অ্যাটাক এবং তার লক্ষণ :- হার্ট অ্যাটাকটি হল মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন। অর্থাৎ হার্টের রক্ত সংবহনকারী করোনারি ধমনীতে ফ্যাট জমে গেলে রক্ত সংবহন ব্যাহত হয়। আর সেই কারণে রক্ত ঠিকভাবে চলাচল করতে না পারার কারণে মানুষের শরীরে অক্সিজেনে ঘাটতি দেখা দেয়। আর এই অক্সিজেন কোমতির কারণে হঠাৎ করেই অ্যাটাক চলে আসে। এটাক শুরু হতেই মানুষের বুকের বাঁ দিকে অসহ্য যন্ত্রণা অর্থাৎ ইস্তেমিক পেইন শুরু হতে থাকে। এই যন্ত্রণা মারাত্বক। অনেক রকমের মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন হয়। এর কারণে হার্টে বিভিন্ন স্থানের মাইক্রোকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন অনুযায়ী তার ফলাফল কেমন হবে তা নিরূপণ করা সম্ভব।

রোগের লক্ষণ :-  পরিবারে কারোর হার্টের সমস্যা থাকলে বংশ পরম্পরা সেটি এগোতে থাকে। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বুকের বাঁদিকে চিনচিন ব্যথা এবং অল্প খাটনিতেই হাঁপিয়ে যাওয়া এই রোগের লক্ষণ। আবার কোনো ব্যক্তিদের ব্লাড প্রেসার কিংবা সুগারের সমস্যা থাকলেও তাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত জাংফুড কিংবা অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান করলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। যাদের অ্যাটাক হয় তাদের প্রথমে অঝোরে ঘাম ঝড়তে থাকে। 

রোগীর শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এমনকি ঝিম ধরা ভাব বা বমি বমি ভাব ও সাথে হয়ে থাকে। এরপরই বুকের বাম দিকে অনুভূত ব্যথা বাম কাঁধ হয়ে বাম হাতে চলে আসে। সেই ব্যক্তির পালস খুব তাড়াতাড়ি বা খুব ধীরে হয়ে যায়। এমন রোগীদের  প্রাথমিক চিকিৎসা হিসাবে সবার প্রথমে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে হবে। এক্ষেত্রে এই ধরনের ওষুধ গুঁড়ো করে রোগীকে দিতে হবে। এছাড়াও জিভের তলায় সাবলিঙ্গুয়াল নিটরেট ট্যাবলেট রাখতে হবে। এছাড়াও ক্লপিডোগরেল ও স্টাটিন জাতীয় ওষুধও মুখে গুঁড়ো করে দেওয়া যায়। তাহলে এই ওষুধ রোগীর শরীরে দ্রুত কাজ করতে পারে। যেহেতু অক্সিজেন চলাচলের কারণে স্ট্রোক হয় তাই তাকে দ্রুত অক্সিজেন দিতে হবে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে। তবে যারা অচেতন হয়ে পরে তাদের ক্ষেত্রে সিপিআর দিতে হবে এবং অটোমেটেড ডেফিব্রিলেটর দিয়ে শক দিতে হবে।

*স্ট্রোক :- এবার আসা যাক স্ট্রোকে।  হার্ট অ্যাটাক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হলো স্ট্রোক। রক্ত নালীতে কোলেস্টেরল জমে যাওয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে মানুষের হার্ট অ্যাটাক হয়। অথচ স্ট্রোক হলো সম্পূর্ণ ব্রেইনের সমস্যা। ব্রেইনের রক্তবাহী ধমনী এবং তার শাখা প্রশাখাতে কোনো কারণে রক্ত প্রবাহতে বাধা সৃষ্টি হলে  রক্ত প্রবাহ কমে যায়। অথবা রক্ত প্রবাহী নালি ফেটে গিয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়ে প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে। এই সমস্যার জন্যই দেখা দেয় ব্রেইন স্ট্রোক। হার্ট অ্যাটাকে শরীরের কোন অঙ্গ বিকলাঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু ব্রেন স্টোকে মানুষের শরীরের এক অঙ্গ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  যাকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় প্যারালাইসিস।  অনেক সময় ব্যক্তির মুখের একটা সাইড প্যারালাইজড হতে পারে। ঠোঁট ঝুলে থাকে একদিকে। স্ট্রোকে খুব তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। দুই তিন ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু না করলে খুব একটা ভালো ফল দেয়না। সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে দ্রুত বোঝা যায় মস্তিষ্কের কোন অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত বা স্ট্রোকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.