পঞ্চপাণ্ডবের স্ত্রী হওয়া স্বত্ত্বেও কিভাবে সতী ছিলেন দ্রোপদী? পূর্ব জন্মের কারনেই ৫ স্বামী ছিল। কি এমন হয়েছিল পূর্ব জন্মে?

ভালো করে মহাভারত ঘটালে দেখা যাবে আসলে দ্রোপদী রূপী ইন্দ্রানী দেবরাজ ইন্দ্রের পত্নী ছিলেন। তবে পান্ডব স্ত্রী হওয়ার আগের জন্মে  দ্রৌপদী ‘মোদগলা’ নামক একজন ব্রাহ্মনের কন্যা ছিলেন, তার নাম ছিলো ‘ইন্দ্রসেনা’, তিনি সর্বগুনসম্পন্যা ছিলেন। ইন্দ্রসেনা সর্বোত্তম পতি লাভের আশায় মহাদেবের তপস্যা করেন। মহাদেব দর্শন দিলে তিনি বলেন ” হে প্রভু আমাকে সর্বগুনসম্পন্য পতি দিন। আমার যে স্বামী হবে সে সদাচারী, অত্যন্ত বলশালী, “সর্বশ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর, অতুলনীয় সৌন্দর্যের অধিকারী ও সহনশীল হবে।” মহাদেব এর উত্তরে তাকে বলেন ‘কোনো এক ব্যাক্তি এই সকল দিকে শ্রেষ্ঠ হতে পারে না।’ কিন্তু সেই ব্রাহ্মনকন্যা বলে তার এই বরদানই চাই। তখন মহাদেবে বলেন পরের জন্মে তোমার পঞ্চস্বামী হবে।

আবারও একসময় দেবরাজ ইন্দ্র তার গুরুপদে অধিষ্ঠিত ‘ঋষি বিশ্বরূপের’ বধ করার কারণে তার উপর ব্রহ্মহত্যার পাপ লাগে এবং তার শরীরের তেজ তৎক্ষণাৎ বেড়িয়ে ‘ধর্মরাজের’ মধ্যে চলে যায়। এরপর তিনি এই ঋষি বিশ্বরূপের ভাই ‘বৃত্রাসুরকে’ বধ করলে পুনরায় ব্রহ্মহত্যার পাপে তার তেজ ‘পবনদেবের’ মধ্যে চলে যায়। এরপর “ত্রেতাযুগে দেবরাজ ইন্দ্র যখন ঋষি গৌতমের রূপে অহল্যার সতীত্ব নষ্ট করেন তখন আবার তার তেজ তৎক্ষণাৎ অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের মধ্যে চলে যায়। দ্বাপর যুগে কুন্তি যখন সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে তার মন্ত্র দ্বারা ‘ধর্মরাজ ও পবনদেবের’ এবং মাদ্রি ‘অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের’ আহ্বান করেন তখন তারা দেবরাজ ইন্দ্র দ্বারা প্রাপ্ত তেজ তাদের সন্তান রূপে প্রদান করেন, যার ফলস্বরূপ ‘ যুধিষ্ঠির, ভীম, নকুল ও সহদেবের’ জন্ম হয়। আর অর্জুন তো স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্রেরই শক্তি ছিল। এই ভাবে এক দেবরাজ ইন্দ্র তার পাঁচটি পৃথক অবতার পঞ্চপান্ডব রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। আর মহাদেবের বরদানে সেই পঞ্চপাণ্ডবের স্ত্রী ছিলেন দ্রোপদী। 

পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে শুধুমাত্র অর্জুনই কেন যুদ্ধে পারদর্শী ছিল! এই প্রশ্নের উত্তর হলো – সত্যযুগে ভগবান বিষ্ণু মহর্ষি ‘নর ও নারায়ণ’ রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, “এই মহার্ষি নরই দ্বাপর যুগে অর্জুন রূপে জন্ম নিলেন এবং নারায়ণ হলেন শ্রীকৃষ্ণ।”পঞ্চপান্ডব গনের মাতা কুন্তী ‘মহর্ষি দূর্বাসার’ কাছে এক আশ্চর্য মন্ত্র পেয়েছিলেন, এই মন্ত্র দ্বারা তিনি যে দেবতার আহ্বান করবেন তিনি সেই দেবতার গুনসম্পন্য পুত্র লাভ করবেন। পান্ডু এই বরদানের কথা জানতে পেরে কুন্তিকে সর্বপ্রথম ধর্মরাজ ও তারপর পবন দেবের আহ্বান করতে বলেন। যার ফলস্বরূপ “ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির ও পবনপুত্র ভীমের জন্ম হয়।” ধর্মরাজের পুত্র হওয়ার কারনে যুধিষ্ঠির একজন ধর্মজ্ঞ শাসক ছিলেন এবং পবনপুত্র হওয়ার কারনে ভীম অত্যন্ত বলবান ছিলেন।

দুই পুত্রের জন্মের পর পান্ডু অত্যন্ত উগ্ৰ তপস্যায় দেবরাজ ইন্দ্র কে প্রসন্ন করেন এবং বরদানে এক “শক্তিশালী এবং সর্বগুনসম্পন্য পুত্র চান, পান্ডু বলেন আপনি যেমন দেবশ্রেষ্ঠ তেমন আপনার বরপুত্রও মানব শ্রেষ্ঠ হবে।” দেবরাজ ইন্দ্র তথাস্তু বলে অন্তর্ধান করলে পান্ডু ফিরে এসে কুন্তিকে দেবরাজ ইন্দ্রের আহ্বান করতে বলেন যার ফলস্বরূপ ‘অর্জুনের’ জন্ম হয়।

অর্থাৎ অর্জুন ভগবান বিষ্ণু ও দেবরাজ ইন্দ্রের মিলিত শক্তি ছিল সেই কারনে তার শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হওয়া স্বাভাবিক।

অর্জুন মহান যোদ্ধা হওয়ার সাথে মহান তপস্বীও ছিলেন। তিনি তপস্যা দ্বারা ‘ দেবরাজ ইন্দ্র, মহাদেব এবং মা দুর্গাকে ‘ প্রসন্ন করেছিলেন যার ফলে তার শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। যদিও বরাবরই অর্জুনের সঙ্গী হয়ে ছিলেন শ্রী কৃষ্ণ। কারণ দেবরাজ ইন্দ্রকে শ্রীকৃষ্ণ কথা দিয়েছিলেন, “যতদিন আমার এই রূপ থাকবে ততদিন অর্জুন অপরাজিত থাকবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.