সাধারন মানুষ লাদেনের জঙ্গি হওয়ার জীবন

নিজস্ব সংবাদদাতা:  ওসামা বিন লাদেন,নামটির সাথে ছোট বড়ো প্রায় সকলেই পরিচিত।এক কথায় শক লাগিয়ে দেওয়ার মতো একটি নাম।একসময়ের মোস্ট ওয়ান্টেড এই সন্ত্রাসবাদীর নাম শুনলেই পিলে চমকে ওঠে অনেকেরই।ওসামা বিন মুহাম্মদ বিন আওয়াদ বিন লাদেন জন্মগ্রহণ করেন সৌদি আরবে।তিনি ছিলেন জঙ্গি গোষ্ঠী আলকায়দার প্রতিষ্ঠাতা।ওসামা  বিন লাদেন বিশেষভাবে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর থেকে। লাদেন অন্য কয়েকজন ইসলামী জঙ্গীর সাথেও হাত মিলিয়েছেন।তিনি ১৯৯৬ সালে একটি এবং ১৯৯৯ সালে আরেকটি ফতোয়া জারি করেন। তার ফতোয়াটি ছিল,ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের উচিত মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক উভয়কেই হত্যা করা যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের প্রতি সব সহায়তা বন্ধ করছে এবং সব মুসলিম দেশ থেকে সামরিক শক্তি অপসারণ করছে।লাদেনের মা আলিয়া ঘানেম প্রথমবার সংবাদ মাধ্যমে নিজের ছেলের বিষয়ে মুখ খোলেন লাদেনের মৃত্যুর পর।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এর সঙ্গে একআলাপচারিতায় মা আলিয়া দেবী তার ছেলে সম্পর্কে বেশ কিছু অজানা তথ্য জানান।

তার বর্ণনায় উঠে আসে না জানা অনেক ছবি। লাদেনের সিরিয়ায় কাটানো শৈশব থেকে শুরু করে আফগানিস্তানে সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে তার মুজাহিদ জীবনের চিত্র উঠে আসে তার বর্ণনায়। দ্য গার্ডিয়ান এ প্রকাশিত হওয়া প্রতিবেদন এ উঠে এসেছে  সৌদি আরবের  আর্থসামাজিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতির মধ্যে ওসামা বিন লাদেনের উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়া।

আলিয়া ঘানেম ১৯৫০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবে আসেন এবং ১৯৫৭ সালে রিয়াদে জন্ম হয় লাদেনের।এর তিন বছর পর তার স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হয় তার।পরে তিনি আবারও বিয়ে করেন লাদেন সম্রাজ্যের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল আত্তাসকে। এর পাশাপাশি তিনি জানান ওসামার বাবা ছিলেন ৫৪ সন্তানের জনক এবং তার স্ত্রী ছিলেন এগারো জন। ওসামার মা জানান, ওসামা যাদের সঙ্গে মিশেছিল তাদের মধ্যে একজন ছিল মুসলিম ব্রাদারহুডের অন্যতম সদস্য আবদুল্লাহ আজ্জাম।কিছু সময় পরে সৌদি আরব থেকে নির্বাসিত করা হয় এই ব্যক্তিকে।কিন্তু ততদিনে এই ব্যক্তি ওসামার আধ্যাত্মিক পরামর্শক হয়ে উঠেছিলেন। এরপর  ১৯৮০ দশকের শুরুতে ওসামা আফগানিস্তানের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন রাশিয়া দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে।

আলিয়া দেবী তার পুত্র ওসামা বিন লাদেন যে একসময় জঙ্গি হয়ে উঠতে পারে,কখনো এমন আশঙ্কা করেছিলেন কিনা প্রশ্নের জবাবে বলেন,তার মাথায় এটা কখনো আসেনি।তিনি যখন বুঝতে পারলেন ওসামা জঙ্গি হয়ে উঠেছিলেন তখন তার অনুভূতি কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন,”আমরা খুব হতাশ হয়ে পড়ছিলাম।” ওসামার মা জানান, ১৯৯৯ সালে পরিবারের লোকজন এর সাথে  ওসামার সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়  কান্দাহারের কাছে একটি ঘাঁটিতে।সেখানে পরিবারের সদস্যরা দুবার গিয়েছিলেন।

 ওসামার সৎভাই আহমেদ বলেন,ওসামার জঙ্গি জীবনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না তাদের মা। ৯/১১ হামলার ১৭ বছর পরও ওসামা হামলায়  জড়িত একথা মেনে নিতে পারেননি মা। এছাড়াও আহমেদ জানান, “মা তাকে (ওসামা) খুব ভালোবাসতেন এবং তাকে কখনো দায়ী করতে চান না। তিনি পরিস্থিতিকে দায়ী করতে চান। তিনি শুধু ছেলের ভালো দিক সম্পর্কে জানেন।আমরা সবদিক দেখেছি। কিন্তু তিনি তার জিহাদি দিক সম্পর্কে কিছুই জানেন না।”আহমেদ বলেন “নিউইয়র্ক থেকে প্রথম যখন হামলার খবর শুনি আমি খুব আঘাত পাই, স্তব্ধ হয়ে যাই। খুব অদ্ভুত ধরনের অনুভূতি ছিল। আমরা শুরু থেকেই, প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জানতাম হামলায় ওসামা জড়িত। ছোট থেকে বড় সবাই লজ্জিত ছিলাম। আমরা সবাই জানতাম আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবার।সব দেশ থেকে পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে চলে এলো।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.