পৃথিবীর কোথায় আজও বেঁচে জিবন্ত ডাইনোসর?

নিউজ ডেস্ক – ছোটদের ঘুম পাড়ানোর জন্য যেসকল গল্প ব্যবহার করা হয় বর্তমানে সেই গল্প বাস্তবে রূপান্তরিত হচ্ছে এমন একটি তথ্যে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে লক নেসে।তবে বাস্তবেই যে এমন জলদস্যু রয়েছে তার প্রমাণ করতে রীতিমতো মরিয়া হয়ে উঠেছে বহু মানুষ। আমাজনের গহনে বর্তমানে যে ডাইনোসরের অস্তিত্ব রয়েছে সেটি ইতিমধ্যে প্রমাণিত করেছে বিজ্ঞানীরা। এই ক্ষেত্রেও আলো দেখছে অনুসন্ধানকারী দল। 

লোকোভাষ্য মতে জানা গিয়েছে লক নেসে এমন বহু মানুষ রয়েছে যারা নিজের স্বচক্ষে দেখেছেন জলদস্যুকে। তাহলে কয়েকটি উদাহরণ বলা যেতেই পারে। ষষ্ঠ শতকে ১৮৭১ সালের অক্টোবর মাসে ডক্টর ম্যাকেঞ্জি নামের এক ব্যক্তি লক নেসের নামের এক ব্যক্তি জলের মধ্যে বিশাল কিছু একটি ভাসতে দেখেছেন। তবে শুধু একটিমাত্র ব্যক্তি নয় ১৯৩৩ সালের ২২শে জুলাই জর্জ স্পাইসার নামের এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রীও সেই একই জিনিস দেখেছেন রাস্তার উপর। সেই দম্পতির বক্তব্য,”একদিন রাস্তার উপর দিয়ে গাড়ি করে সফর করার সময় হঠাৎই এই বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে রাস্তা পারাপার হতে দেখেন তারা। যার আকৃতি ছিল বিশাল। গলার লম্বা অংশ ছিল প্রায় ২৫ ফুটের মতো এবং মাথা ছিল দেহের তুলনায় ছোট”। 

অন্যদিকে সেই বছরের আগস্ট মাসে আর্থার গ্ৰান্ট নামের আরেক ব্যক্তি রাত্রেবেলা লেকের পাশ দিয়ে বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় ছোট মাথা এবং লম্বা গলাওয়ালা একই আকৃতির একটি প্রাণীকে লেকের জলে প্রবেশ করতে দেখেন‌। এখানেই শেষ নয় সেই অজ্ঞাত পরিচিত জলদস্যুটির রহস্যময়ী ইতিহাস। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে স্কটল্যান্ডের ইনভারনেসশায়রের চিফ পুলিশ কনস্টেবল এর উপর একটি চিঠি লিখে বলেন,’ওই সময়ে লকনেস এর জনক থেকে জীবিত বা মৃত ধরার জন্য একদল তদন্তকারীরা রীতিমতো বিশেষভাবে বর্ষা তৈরি করে ১৯৫৪ সালের ডিসেম্বরে কি নৌকা করে লেকের পানিতে অভিযান চালাতে যায়। সেখানে নৌকায় রিডিং অনুযায়ী জলে ৪৭৯ ফুট নিচে একটি বিশাল আকার কিছু দেখতে পায়। কিন্তু সেটি কি ছিল তা সম্পূর্ণ বোঝার আগেই হঠাৎই অদৃশ্য হয়ে যায় সেটি। খানিকক্ষণের নজরে আসতেই ওই জলদস্যুর ৪টি ছবি  ছবি তুলে নেয় নৌকা বাহিনীরা। প্রথমেই ছবি তোলায় কিছু ব্যক্তি সেটিকে বাস্তব বলে মনে করলেও এই ফটো নিয়ে পরবর্তীতে রীতিমতো একাধিক বিতর্ক মনোভাবের সৃষ্টি হয়। কারণ অনেকেই এই ছবিকে বলে প্রমাণিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে ২১শে এপ্রিল বিষয়টি সম্পর্কে একটি মেয়ের নামে পত্রিকায় ছাপা হয়। তবে ছবিটি যে সত্য নয় তার নিয়ে রীতিমতো একপ্রস্থ তরজা হওয়ার পর ১৯৯৯ সালে একটি বইটি প্রকাশিত হয় যে ছবিটি ভুয়ো। বিষয়টি এতটাই কৌতুহলী ছিল যে ফটো ভুয়া প্রমাণিত হওয়ার পরেও জলদস্যুকে খোঁজা বন্ধ করেনি শহরবাসীরা।  

যার কারণে পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার লোক জি ই টেইলর  নামের এক পর্যটক লেকের জলে তোলা ৩ মিনিটের ছবির ভিত্তিতে ১৬ মিলিমিটার রঙিন ফিল্ম ধারণ করেন। এই চলচ্চিত্রটি প্রকাশিত হওয়ার পর ১৯৬১ সালে তার একটি ফিল্ম ছাপা হয় একটি বইতে। তবে এখানেই ক্ষান্ত হয়নি বিষয়টি। ১৯৬০ সানাই অ্যারোনোটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার টিম ডিন্সডেল লেকের জলে একটি অদ্ভুত প্রাণীর পিঠের কুচ দেখতে পারেন যার ৪০ ফটো ভিডিও ধারণ করেন তারা। ছবি নিয়েও যথেষ্ট বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।  অনেকেই মনে করছেন ছবিটি আদৌ কোন প্রাণী নয় সেটি একটি  নৌকার। তবে বারবার একই ছবি নিয়ে একাধিক ও মন্তব্য ঠায় ১৯৯৩ শাল এই ছবিটা আরো ভালো ভাবে পরীক্ষা করে ডিসকভারি কমিউনিকেশনসের একটি তথ্যচিত্রে জানানো হয় যে,”এটি ভুয়ো বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। ২০০৭ সালের ২৬শে মেয়ে ল্যাবরেটরীর কর্মী গর্ডন হোমস লক নেসের জলে যে ভিডিওটি সংগ্রহ করা হয়েছিল সেটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়। ২০১২ সালের ৩রা পরিষ্কার আগস্ট জর্জ এডওয়ার্ডস নামে এক ব্যক্তি লেকের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ছবি প্রকাশ করেন যা ২০১১ সালের ২রা নভেম্বর তোলা হয়েছিল। তবে এই ফটোটি তুলতে রীতিমতো সাধ্য সাধনা করতে হয়েছিল ওই ব্যক্তিকে। কারণ জানা যায় দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে লেকের জলদস্যু কি খুঁজে বেড়িয়েছেন তিনি। যদিও পরবর্তীতে সেখানে সফলতা অর্জন করে জলের উপরের প্রাণীটি পিঠের কুঁজের ছবি নিতে সক্ষম হন। যদিও বিষয়টি সম্পর্কে সেই সময়ও কোন সঠিক ধারণা না পাওয়ায় সেই কৌতুহল থেকে যায় মানুষের মনে। 

১৯৩৪ সালে এডওয়ার্ড মাউন্টেন নামে আরেক ব্যক্তি ২০ জন সঙ্গী এবং ক্যামেরা নিয়ে দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লেকে অনুসন্ধান চালিয়েছেন। কিন্তু আর পাঁচজনের মতো তারা সফল না হয় রীতিমতো নিরাশ হয়ে ফিরেছেন। তবে লেকের জলদস্যুর বিষয়ে রীতিমতো পাগলামি চেপে বসেছিল মানুষ জনের মধ্যে। যার কারণে ১৯৬২-৭২ আসাল পর্যন্ত ১০ বছর ধরে বুর্যো নামে একটি সংগঠন লেকের জলে অনুসন্ধান চালায়। এই অনুসন্ধানের যোগ দিয়েছিল প্রায় কয়েক হাজার ব্যক্তি। কিন্তু তারপরও কিছু হাতে আসেনি তাদের। এরপরের সংখ্যায় ১৯৭২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত রবার্ট রাইনস নামের আরেক ব্যক্তি জলের ভেতরে গিয়ে অনুসন্ধান চালায়। তবে এই ছবিতে যে সকল চিত্র পাওয়া গেছে তা নিয়েও যথেষ্ট বিতর্কিত মনোভাব সৃষ্টি হয়েছিল সেই সময়। তবে এই সকল ব্যক্তিদের অনুসন্ধান চালানোর পর যেসকল চিত্র প্রকাশ্যে এসে ছিল সেগুলি নিয়ে যথারীতি বিতর্কিত মনোভাব সৃষ্টি হয়ে রয়েছে। যার কারণে লক নেসের জলে আদৌ কোনো জলদস্যু রয়েছে কিনা সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারছে না অধিকাংশ মানুষ। তাই বর্তমানেও খোঁজ জারি রেখেছেন তদন্তকারীরা। যদি বিশাল দেহ আকৃতির জলদস্যুটি বর্তমানে থেকে থাকে তাহলে তা কোন না কোন সময় ঠিক খুঁজে পাওয়া যাবে। তবে একদল এমন মনোভাব পোষণ করলেও আরেক দলের বক্তব্য জলদস্যু বিষয়টি সম্পূর্ণ কাল্পনিক এর সঙ্গে বাস্তব জড়িত নেই। তাই যুক্তি তর্কের মধ্য দিয়েই বর্তমানে টিকে রয়েছে জলদস্যুর বিষয়টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.