জঙ্গলে বউ খুঁজে না পেলে সারাজীবন অবিবাহিত কাটাতে হয় ভারতবর্ষের যে রাজ্যে

নিউজ ডেস্ক – ‌পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এক এক প্রথায় বিয়ে রেওয়াজ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী আজও বিয়েকে পবিত্র বন্ধন হিসাবেই মান্যতা দেওয়া হয়।  মুসলিম সম্প্রদায় যেমন তিনবার কবুল কথাটি উচ্চারণ করলেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যান দুই নর-নারী। ঠিক তেমনি অন্যদিকে হিন্দু মতে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এই বিয়ের রীতি। হোম, যজ্ঞ মন্ত্রোচ্চারণ ও অবশেষে সিঁদুর দানের  মাধ্যমেই সম্পন্ন হয় বিয়ে।  

তবে অন্যান্য দেশগুলিতে তাদের মতোই নিয়ম নীতি বানিয়ে বিয়ের কার্য সম্পন্ন করা হয় কিন্তু সেসব নিয়ম নীতির কথা শুনলে বড়ই আজব লাগবে আমাদের কাছে। সারাদেশে পরিক্রমণ করলে দেখা যাবে আফ্রিকার কঙ্গোতে ওলেম্বা উপজাতির বিয়ে নিয়ে রয়েছে অদ্ভুত সব নিয়ম কানুন। এখানে বৌয়ের মূল্য ধরা হয় ৮টা তামার ক্রশ, ৩৫টা মোরগ এবং ৪টা কুকুর। এই দেশের বান্ডা গোত্রের মেয়েরা একটি কাঁচা আস্ত মুরগির বাচ্চা খেয়ে বিয়ের যোগ্যতা দেখায়। সঠিক রীতি অনুযায়ী খেলে বিয়ের যোগ্য বলে গণ্য হয়। পরবর্তী এক বছর সেই কনেকে পরিবার অতি আদর যত্নে রাখে। ইথিওপিয়ায় কোনো মেয়েকে পছন্দ হলে তারা প্রেম নিবেদন করে না সেখানে মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করার রেওয়াজ রয়েছে। 

অন্য দিকে নজর দিলে দেখা যাবে রুয়ান্ডাতে ওয়াটুসি গোত্রের বিয়েতে বর-কনে সবার উপস্থিতিতে মুখোমুখি দাঁড়ায়। বর-কনে উভয়ে কুলির জল একে অন্যের গায়ে ছিটিয়ে দিলে বিয়ে হয়ে গেল। রুয়ান্ডাতে আরেকটি সম্প্রদায়ে বর নিজ হাতে কনের মুখ চুন দিয়ে সাদা করলে বউ হয়ে যায়। ইথিওপিয়ার গাল্লা গোত্রে বিয়ের বর কনেকে কোলে তুলে জল ভরা একটি বড় পাত্রের উপর ফেলে। জোরে আওয়াজ হলে বিয়ে পাকাপোক্ত।

কিন্তু সবচেয়ে মজাদার বিয়ের রীতি দেখা যায় ভারতের কেরলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে। এরতি এককালে ভারতে বহু প্রচলিত ছিল কিন্তু কালের চক্রে বর্তমানে তা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।  কেরলের মথুবান সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী কোন ব্যক্তি বিয়ে করলে তাকে বউ খুঁজতে যেতে হতো জঙ্গলে। শুনলে বড়ই আজব লাগবে ঠিকই কিন্তু বাস্তবে এমন রীতি ছিল বহুকাল আগে। এই রীতি অনুযায়ী বিয়ের কিছুদিন আগে অনেকে বধু বেশে সাজিয়ে তার বন্ধু বান্ধবেরা জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে নেতার নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে তাকে জঙ্গলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে আগলে রাখতো। আর হবু বরের কাজ হতো জঙ্গলের মধ্য থেকেই তার হবু স্ত্রীকে খুঁজে বের করে নিয়ে আসা। এই কার্য সম্পন্ন করতে বেশ কয়েকদিন লেগে যেত বরদের। এরপরই জঙ্গলের মধ্য থেকে বউ খুঁজতে সফল হলে তবেই সেদিনই গোষ্ঠীর সকলের উপস্থিতিতে বর-কনেকে বিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু বউ খুঁজতে অসফল হলেই সেই ব্যক্তিকে সারাজীবন অবিবাহিত কাটাতে হতো। এই রেওয়াজের মাধ্যমে বরের ক্ষমতা ও ধৈর্যশীলতার বিচার  করা হতো। তবে পরিবর্তনশীল সমাজের বর্তমানে একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট হওয়ার দরুন গাছপালা কেটে দেওয়ার জঙ্গলে ঘাটতি দেখা দিয়েছে সারা দেশজুড়ে। তাই কালের গহীনে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এই প্রথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.