পায়েস থেকে শুরু করে লাড্ডু। গোটা পৃথিবী জুড়ে চাহিদা রয়েছে ভারতীয় যে মিষ্টি গুলির

হাসি-কান্না সুখ-দুঃখ ভারতীয়দের সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মিষ্টি । মিষ্টি এমন একটা জিনিস যার প্রতি দুর্বল নয় এমন মানুষ হয়তো খুবই দুর্লভ। প্রত্যেকটা অনুষ্ঠানে শো-স্টপার এর মতই মিষ্টি মাস্ট । মিষ্টিকে ভারতীয় সংস্কৃতিতে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। তাই ছোট বাচ্চার অন্নপ্রাশন থেকে যেকোনো শুভ অনুষ্ঠানের  সূচনা হয় মিষ্টি দিয়ে। এমনকি পুজোতেও প্রধান উপকরণ কিন্তু সেই মিষ্টিই। কলকাতার রসগোল্লা হোক কিংবা দিল্লিকা লাড্ডু। পৃথিবীর যেকোন প্রান্তেই থাকুক না কেন ভারতীয়রা মিষ্টি কখনো মিস করবে না। পৃথিবীজুড়ে মিষ্টির যোগান দিতে তাই দেশের বাইরে ও মিষ্টির ব্যবসা করছে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা । 

আসুন দেখে নেওয়া যাক ভারতের বিখ্যাত কিছু মিষ্টির তালিকা 

পায়েস : 

জন্মদিন হোক কিংবা বিয়ে । যেকোনো অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ হয় পায়েস দিয়ে । পায়েস অতি প্রাচীন একটি মিষ্টি।  এটি বিভিন্ন ধরণের চাল দিয়ে তৈরি করা হয়, এরমধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল গোবিন্দভোগ চালের পায়েস । পায়েসকে দক্ষিণ ভারতীয় উপভাষায় পায়সুম এবং বাকি ভারতে খির বলা হয়। চিনি , শুকনো ফল , বাদাম , চাল এবং দুধ দিয়ে তৈরি এই অসাধারণ মিষ্টিটি প্রত্যেক বাঙালির প্রিয় খাবার বলাই যায় । 

রস মালাই : 

ভারতের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টি হল রসমালাই।  এটি দেশের প্রায় প্রত্যেকটি রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত । শুধু আকার এবং রং এর পার্থক্য থাকে এই জাতীয় মিষ্টি গুলোয় । কিন্তু ঘন দুধে ভেজানো ছানার মতই মূলত একই ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয় । আবার অনেক সময় জাফরান দিয়ে রং হলুদ করা হয় । কখনো কখনো কিছু কৃত্তিম জিনিস ব্যবহার করে এর স্বাদের কিছুটা হেরফের করা হলেও আসল রসমালাইয়ের স্বাদই সবচেয়ে সেরা । 

সন্দেশ – 

মাছ এবং মিষ্টি দিয়ে যায় বাঙালিকে চেনা । আর এই মিষ্টির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল সন্দেশ।  বাইরে থেকে দেখতে শুকনো হলেও মুখে দিলেই মিলিয়ে যায় এই মিষ্টি । ভারতীয়রা খুশি বা দুঃখের বিশেষ অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে মিষ্টি পাঠায়।  তাই নাম সন্দেশ। এই প্রথা কিন্তু এখনও চলে আসছে । সন্দেশ এর মূল উপকরণ হল ছানা এবং চিনি।  

গাজরের হালুয়া 

শীতকালে এই মিষ্টি বেশি পাওয়া গেলেও বর্তমানে মিষ্টির দোকানগুলোতে প্রায় সবসময়ই গাজরের হালুয়া পাওয়া যায়।  গাজর খুব সূক্ষ্মভাবে গ্রেট করে তারপর দুধ, চিনি এবং জল দিয়ে রান্না করা হয়।  এক চিমটি এলাচ গুঁড়ো দিয়ে এর স্বাদ আরও বাড়িয়ে তোলা হয় । ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এর বিভিন্ন নাম রয়েছে-  যেমন গাজোরের হালুয়া, গজরেলা, গজার পাক এবং গাজরের হালুয়া।

মোদক: 

জানা যায় গণেশ ঠাকুরের প্রিয় মিষ্টি হল মোদক । আবার বাঙালিদের মোদক নামের একটি পদবিও রয়েছে।  এই অসাধারণ মিষ্টিটির দুটি স্তর রয়েছে- ভিতরের স্তরটি নারকেল এবং গুড় দিয়ে তৈরি এবং বাইরের স্তরটি চালের আটা এবং ময়দা মিশ্রিত । হিন্দুধর্মে, মোদক মানে “আনন্দের ছোট অংশ” এবং এটি আধ্যাত্মিকতার একটি চিহ্ন।  গণেশ চতুর্থীর সময় এই মোদক এর চাহিদা থাকে তুঙ্গে । 

শাহী টুকরা : 

এই মিষ্টিটি মূলত হায়দ্রাবাদের উৎপত্তি হয়েছিল শুধুমাত্র পড়ে থাকার রুটি ব্যবহার করার জন্য । রুটি ভেজে ,চিনির সিরাপে ডুবিয়ে তারপর আবার রবদিতে ডুবিয়ে খাওয়া হল একটি পরিতৃপ্ত খাবারের চমৎকার সমাপ্তি।মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাসে এই খাবারটি খুবই জনপ্রিয় ।  নামটিইতেই রাজকীয়তার (শাহী) চিহ্ন রয়েছে ।

ঘেভার

রাজস্থান আমাদের অনেক চমৎকার খাবার দিয়েছে, ঘেভার তার মধ্যে একটি।  ঘি, ময়দা এবং চিনির সিরাপ দিয়ে তৈরি, এটি একটি ডিস্ক আকৃতির মিষ্টি কেক।  উপাদানগুলি দিয়ে  একটি ব্যাটার বানানো হয় এবং তারপরে ঘি দিয়ে সোনালি না হওয়া অবধি ভাজা হয় । ঘেভারের বিশেষত্ব হল মুখে দিলেই একেবারে মিলিয়ে যায় এই মিষ্টিটি । 

নেই উপ্পাম 

এই বিখ্যাত কেরালিয়ান মিষ্টিটি কৃষ্ণজয়ন্তীর সন্ধ্যায় তৈরি করা হয় । মিষ্টি টির দুটি প্রধান উপাদান হল চাল এবং গুড়।  প্রথমে ভেজানো চাল বেটে তারপর তাতে গুড় মেশানো হয়।  অন্যান্য উপাদান হিসেবে  যোগ করা যেতে পারে গ্রেট করা নারকেল ,এলাচ ইত্যাদি ।  তারপরে মিশ্রনটিকে অপ্পাম প্যানে বাদামি না হওয়া পর্যন্ত ভাজা হয় । 

গুলাব জামুন 

সারা ভারতে বিখ্যাত এই গুলাব জামুন। তবে এই মিষ্টিটির উৎপত্তি ফ্রান্সে বলে অনেকে মনে করেন । খোয়া এবং ময়দা দিয়ে তৈরি মিষ্টিটিকে  জামের আকারের এনে বাদামি করে ভাজা হয় । শেষে গোলাপ-সুগন্ধযুক্ত চিনির সিরাপে এগুলি ভিজিয়ে রাখা হয় । তাই মিষ্টিটির নাম গুলাব জামুন। এটি ভারত এবং পার্শ্ববর্তী দেশ যেমন পাকিস্তান (যার জাতীয় মিষ্টি হল গুলাব জাম), বাংলাদেশ, নেপাল, মালদ্বীপ, মায়ানমারের একটি খুব বিখ্যাত মিষ্টি। 

রসগোল্লা – 

পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার সবচেয়ে বিখ্যাত মিষ্টি হল রসগোল্লা । কোন রাজ্য এই মিষ্টির উৎসের ট্যাগ নেবে এই নিয়ে দুটি রাজ্যের মধ্যে বিবাদ লেগেই রয়েছে । ছানা দিয়ে তৈরি এই সাধারণ মিষ্টিটি চিনির রসে ডুবিয়ে রাখা থাকে । মুখে দিলেই মিলিয়ে যায় এই রসগোল্লা । কলকাতার বিখ্যাত রসগোল্লা খেতে দুর দূরান্ত থেকে মানুষ আসে । 

যেকোনো মিষ্টিই বেশি খেলে বাড়ে ক্যালরি । সেই কারণেই মিষ্টি বা ডেজার্টগুলি মেনুতে শেষেই রাখা হয়।  যাতে বেশি খাওয়া না যায় । যাইহোক এই মিষ্টি এমন একটি খাবার যা মনখারাপ থাকলেও মন ভালো করে দিতে পারে । তাই জন্যই  মিষ্টি পৃথিবীর সেরা খাবার। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.