কেন মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করা হবে চাঁদে বাড়ি তৈরি করতে?

নিউজ ডেস্ক –  চাঁদে পৃথিবীর প্রথম পা রেখেছিল নীল আর্মস্ট্রং। এ পরীক্ষা নিয়ে নানা মত পোষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু বর্তমানে এমন একটি তথ্য প্রকাশ করেছে যা শুনলে অবাক হবে গোটা পৃথিবী। বিজ্ঞানীদের মতে চাঁদে বাড়ি তৈরি করা যাবে। আর সেটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে মূলত মানুষের প্রস্রাবের। হ্যাঁ বিষয়টি অবিশ্বাস্যকর হলেও সত্য।

ইউরোপের স্পেস রিসার্চৈর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানুষের ইউরিয়ায় এমন এক ধরনের জৈব পদার্থ রয়েছে যা কংক্রিটকে মজবুত করতে সাহায্য করে।  চাঁদের কংক্রিট হচ্ছে একটি জিওপলিমারের মিশ্রণ। সেই মিশ্রণের সঙ্গে মানুষের ইউরিয়া যোগ করলে সেটি আরও মজবুত হয়। বিজ্ঞানীরা মূলত একটি তৈরি প্রজেক্ট করে এই সত্যতা যাচাই করেছেন। এখানে দেখা গিয়েছে এই ধরনের ইউরিয়া ব্যবহার করলে চাঁদের জমিতে বাড়ি করার সম্ভব।

তবে শুধুমাত্র ইউরোপের স্পেস সাইন্টিস্টরাই নয় এমন ধরনের গবেষণা করে দেখেছেন  ইউএসএ’র বিশেষজ্ঞরা। তারা গবেষণা করে জানিয়েছেন, মানুষের প্রস্রাবের ইউরিয়া নামক জৈব পদার্থ থাকে যা চাঁদের রেগোলিথ  অর্থাৎ চাঁদের ধুলোবালির মধ্যে খুব ভালোভাবে মিশে গিয়ে সেটি আরও শক্ত করে তোলে। এই বিষয়ে ইউএসএ’র  বিজ্ঞানীদের  পাশাপাশি  সেখানকার সহলেখক মার্লিন আরনহফ এমনটা লিখে জানিয়েছেন যে, বিজ্ঞানীরা যে উচ্চমানের নতুনত্ব জিনিস তৈরি করছেন তার থেকে এই প্রক্রিয়াটি অধিক সহজ। কারণ চাঁদের মাটিতে এক ধরনের পাউডার মতো উপাদান থাকে যা লুনার রেগোলিথ হিসাবে পরিচিত। এই উপাদানটি সঙ্গে ইউরিয়া মিশ্রন করলে সেটি কংক্রিটের মতো কাজ করে। সুতরাং সেই ক্ষেত্রে পৃথিবী থেকে চাঁদে কোন ধরনের অবাঞ্চিত উপাদানের প্রয়োজন নেই ইউরিয়া অর্থাৎ প্রস্রাব প্লাস্টিকাইজার হিসাবে কাজ করেন সেটি চাঁদে বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে জলের কাজ করবে। অর্থাৎ পৃথিবীতে বসে বিজ্ঞানীরা যে আবিষ্কার করেছেন সেটি এবার চাঁদের মাটিতে হাতে-কলমে করে দেখাই অবশিষ্ট রয়ে গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.