পুরো গ্রামে একাই বেঁচে যে ব্যাক্তি

নিউজ ডেস্ক – একটি গ্রাম সম্পূর্ণ হয় কতগুলি গোষ্ঠী সম্প্রদায়কে নিয়ে। যেখানে সকল গোষ্ঠীর সদস্যরা একত্রিত হয়ে চাষাবাদ করে ও জনবসতি গড়ে তোলে। কিন্তু পৃথিবীর মুখে এমন একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে মাত্র অবশিষ্ট রয়েছে একজন মানুষ। গোটা গ্রাম ও এলাকাজুড়ে একজন মানুষই রাজত্ব করে বেড়াচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের গণনা অনুযায়ী গোটা গ্রামে তিনি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন। এমনই একটি জনবসতিহীন গ্রাম হল ব্রাজিলের রঙ্গুনিয়া প্রদেশের আমাজন জঙ্গলে। এবং নিঃসঙ্গ ব্যক্তিটি গোষ্ঠীর নাম হলো নৃগোষ্ঠী। 

ব্যক্তিটির সম্পর্কে জানতে ব্রাজিল সরকার ইন্ডিজেনিয়াস সংস্থা  ফুনাই  রিসার্চ শুরু করে ১৯৯৬ সালে। সংস্থাটি জানিয়েছে, লোকটি দীর্ঘদিন যাবত একা থেকেও সুস্থ রয়েছেন। তিনি শিকার করে পেঁপে ও ভুট্টা চাষ করে দিন কাটায়। লোকটির বর্তমান বয়স ৫০। একাকী বেঁচে থাকা এই ব্যক্তির উপর বহু নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র ও সাংবাদিক পত্র নিবন্ধন প্রকাশিত হলেও কেউ তার সঙ্গে কোন কথা বলতে পারেননি এবং তার ছবিও  সংগ্রহ করতে পারেননি। নিঃসঙ্গ ব্যক্তিটি যে ভাষায় কথা বলে সেই ভাষা বোধগম্য হয়না বিশেষজ্ঞদের। তাই ওই ব্যক্তির নাম কি এবং তিনি কোন গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন সেটি জানাও সম্ভব হয়নি। যার কারণে ব্যক্তিটি উপর একটি ভিডিও তৈরি করা হয়। যেখানে তিনি কোথায় যাচ্ছেন, কি করছেন, অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছি সম্পূর্ণটি ভিডিও করা হয়। কিন্তু তারপরেও সেই ভিডিওতে তার সঠিক অবয়ব স্পষ্ট না হওয়ায় গোটা বিশ্বের কাছে তিনি আজও অধরা। কিন্তু তার জীবনযাপন ও একাকীত্ব সম্পর্কে যখন গোটা বিশ্বের দরবারে প্রকাশ হয় তখন রীতিমত সাড়া পড়ে গিয়েছিল। একজন মানুষ দীর্ঘদিন যাবত কি করে একা কাটাতে পারেন এটি সবার প্রধান প্রশ্ন ছিল। তবে তিনি সারাদিন কুঠার দিয়ে গাছ কাটা থেকে শুরু করে একাধিক জন্তু শিকার করে দিন কাটাতেন।

বিগত কয়েকদিন আগেই ফুনাইয়ের একজন আঞ্চলিক সমন্বয়ক আলতেইর আলগায়ার গার্ডিয়ান সেই ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে বলেন,  “আমরা তাকে পুনরায় দেখতে পেয়ে খুব খুশি এবং বিস্মিত। আমাজনে ১১৩টি নৃগোষ্ঠী বসবাস করছে যারা শিকার করে মূলত শুকর পাখি ও বানর। তবে এদের শিকার পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন।

শিকার পদ্ধতি ভিন্ন মত হওয়ার কারণে ব্রাজিলে গণমাধ্যম তাকে একটি উপাদেয় দিয়েছে যেটি হল দা হোল ইন্ডিয়ান। হোল বা গর্ত করে তার উপর গাছের পাতা বা চট দিয়ে ফাঁদ তৈরি করে স্বীকার করে এই গোষ্ঠীর সদস্যরা। তারা আগে কাঠ দিয়ে নিজেদের  বাড়ি সহ আসবাবপত্র তৈরি করেছিল। যদিও সেই সবের অস্থিস্ত বর্তমানে বিলুপ্ত। 

বিবিসি ও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমাজনের যে অংশে একসময় নিঃসঙ্গ মানুষটির গোষ্ঠী বসবাস করত সেখানে মহাসড়ক নির্মাণ করার জন্য গোষ্ঠীটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।  সেই সময় কালটা ছিল মূলত ১৯৭০-৮০ সালে। যদিও এরপরে গোটা ৬ জন একসঙ্গে বসবাস করত। কিন্তু পুনরায় কৃষকরা ১৯৯৬ সালে তাদের উপর হামলা করায় ৬ জনের মধ্যে মৃত্যু হয় পাঁচজনের। তার কারণে একমাত্র ব্যক্তি বেঁচে ছিল। 

যদিও পরবর্তীতে আমাজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থানে প্রদর্শন করে ফিয়োনা ওয়াটসন নামের এক ব্যক্তি জানিয়েছেন,’এই ব্যক্তির ভয়াবহ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সে পৃথিবীতে একটি বিপদজনক স্থান হিসেবে দেখছেন। যদিও ব্রাজিল সরকারের পক্ষ থেকে এই সকল নিঃসঙ্গ ব্যক্তির এলাকাগুলোকে সংরক্ষণ করা উচিত। কিন্তু বর্তমানে সেই কার্যসিদ্ধি করে উঠতে পারেনি ব্রাজিল সরকার। তবে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির সম্পর্কে বর্তমানেও কিছু খোঁজ চালানো হচ্ছে যাতে আরো অন্য কোন তথ্য পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.