রাবন ও মেঘনাদের কুলদেবী কে ছিলেন?

নিউজ ডেস্ক: মেঘনাদের ক্ষমতা সম্পর্কে তো আমরা সবাই জানি যে তিনি এতটায় শক্তিশালী ছিলেন যে তাঁকে কোন যুদ্ধে পরাজিত করার মতো ক্ষমতা ছিল না।তবে একটি প্রশ্নই মনের মধ্যে বারবার ঘোরাফেরা করে যে এত শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও মেঘনাদের মৃত্যু কেন হয়েছিল আর এত শক্তিই বা কোথা থেকে পেয়েছিলেন? কি জানা নেই তো? তাহলে আর দেরি না করে জেনেই নেওয়া যাক মেঘনাদের এই রহস্য সম্পর্কে।

নিকুম্ভিলা দেবী ছিলেন রাবণ ও মেঘনাথ এর কুল দেবী।  মেঘনাথ এই দেবীর  সাধনা করেছিলেন।যার ফল স্বরূপ  এমন কিছু শক্তি পেয়েছিলেন মেঘনাথ যা অন্য কেউ চাইলেও পাবেনা। বর্তমানে এই দেবীর মন্দির মধ্যপ্রদেশে বেতুল জেলার মুখ্যালয় থেকে প্রায় 8 কিলোমিটার দূরে বেতুল বাজার গ্রামে অবস্থিত। আর এই স্থানে মেঘনাথ তাদের কুলদেবির সাধনা করেছিলেন। এই জন্য এই স্থানে দেবী নিকুম্ভিলা প্রতিমার সাথে মেঘনাথেরও প্রতিমা রাখা হয়ে থাকে। এবং মনে করা হয় যে মেঘনাথ দেবীর সাধনা করে এখান থেকে পাতালে গিয়েছিলেন। পাতালে যাবার পর মেঘনাথ দৈত্য গুরু শুক্রাচারীর সেবা করায় তার প্রতি প্রসন্ন হন দৈত্য গুরু শুক্রাচারীর। তখন শুক্রাচারীর মেঘনাথকে দীক্ষা দেন এবং মেঘনাথকে বলেন দেবী নিকুম্ভিলার সাধনা করতে এমনকি শুক্রাচারী মেঘনাথকে সমস্ত নিয়ম বিধি শিখিয়ে দেন এবং তাকে এক গুপ্ত মন্ত্র ও বিধি বলে দিলেন। এরপর মেঘনাথ দেবী সাধনা শুরু করে তাকে প্রসন্ন করেন।

প্রসন্ন হওয়ায় দেবী মেঘনাথ কে একটি রথ উপহার দিলেন এবং তার সাথে মেঘনাথকে বলে দেন যে কোন যুদ্ধে যাবার আগে তার অভিষেক এবং মাথাখুলি বলি দিয়ে পূজা করার পর ওই রথে করে গেলে তাকে কেউ পরাজিত করতে পারবেন। কুলদেবীর এই বরের কারণে মেঘনাথকে কেউ পরাজিত করতে পারতেন না। এছাড়াও মেঘনাথ নিকুম্ভিলা দেবীর সাধনা করে অনেক দিব্যশক্তি লাভ করেছিলেন।এই শক্তির দ্বারা একবার শ্রী রাম ও লক্ষণকে মেঘনাথ নাগপাশে বন্দি করেছিলেন। তবে পরের বার যুদ্ধের আগে মেঘনাথ নিকুম্ভিলা দেবীর পূজা করার জন্য যায় তখন হনুমান বিভীষণ কাছ থেকে মেঘনাথএর এই পূজার করার কথা জানতে পারার ফলে হনুমান মেঘনাথের এই পূজা বন্ধ করে দেন।যার ফলে মেঘনাথ ওই যুদ্ধে পরাজিত  হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.