কংস দেবকীর যে ৬টি সদ্যজাত সন্তান হত্যা করেছিলেন আসলে তারা কে বা কারা ছিলেন?

নিউজ ডেস্কঃ আমরা সবাই জানি যে দৈববাণী অনুযায়ী  দেবকী এবং বসুদেবের সন্তানের হাতেই কংসের বধ হবে। আর এই কারনেই  কংস  দেবকীকে এবং বসুদেবকে কারাগারে বন্দী করে রেখেছিলেন।এবং  তাদের যখনই সন্তান জন্ম নেন তখনই কংস ওই সদ্যজাত শিশু হত্যা করেছিল।এইভাবে কংস   দেবকীকে এবং বসুদেবকে ছয়টি সন্তানকে হত্যা করেছিলেন।কিন্তু প্রশ্ন হল যে এই  ছয় আসলে কারা ছিলেন? জানা আছে কি? না জানলে জেনে নিন এই  ছয়জনের সম্পর্কে কি বলছে পুরান।   

পুরান অনুযায়ী, কংসের মৃত্যু পর শ্রীকৃষ্ণের পিতা বসুদেবকে তার ওই মৃত সদ্যজাত ছয় সন্তানকে একবারের জন্য জীবিত দেখতে চান বলে অনুরোধ করেন শ্রীকৃষ্ণকে।পিতা অনুরোধে রাখতে শ্রীকৃষ্ণ যোগমায়া দেবীকে আহ্বান করে তাঁর দাদা বলরাম সাথে চলে গেলেন সুতল লোকে।ওই সময় ওখানকার রাজা ছিলেন বলি।রাজা বলির কাছে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণ এবং বলরাম অনুরোধ করেন যে তাদের মায়ের ছয়জন মৃত সন্তানরা এখানে আছে যাদেরকে পুনরায় জীবিত করে তাদের সাথে নিয়ে যেতে এসেছেন। এই কথা শুনে রাজা বলি বলেন যে সায়ম্ভু মনুর সময় মরীচি নামক এক প্রজাপতি ছিলেন, এবং ঊর্না ছিল  তার স্ত্রী।যার গর্ভে তাঁরা পুনরায় জন্মগ্রহন করেছেন।

দেবতা রূপে তারা প্রত্যেকেই জন্ম গ্রহন করেছেন।তবে যখন প্রজাপতি ব্রহ্মা তার নিজের কন্যার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তার প্রতি ধাবিত হয়েছিল তখন তারা এই ঘটনাটির জন্য ব্রহ্মাকে অনেক কটু কথা বলেছিলেন।যার কারনে প্রজাপতি ব্রহ্মা তাদের উপর ক্রুধ হয়ে অভিশাপ দেন।যার ফলে তাদের অসুর কূলে জন্ম গ্রহণ করতে হয়। তারা প্রত্যেকে হিরণ্যকশিপুর পুত্র রূপে  জন্ম গ্রহন করেন।

এছাড়াও অন্য আরেকটি পুরাণ অনুসারে, কালনেমির পুত্র রূপে জন্ম গ্রহন করেছিলেন তাঁরা।আর এই  কালনেমি ছিলেন আসলে কংসের পূর্বজন্মের রূপ।এই কারনে যাদেরকে এই জন্মে কংস হত্যা করেছিল তারা আসলে কংসই সন্তান ছিল।রাজা বলির কাছে থেকে এইসব কথা শোনার পর কৃষ্ণ তার মাতা দেবকীর কাছে ওই সন্তানদের ফিরে দেওয়ার জন্য তাদের নিয়ে যেতে চান।এরপর  শ্রীকৃষ্ণ এবং বালরামের হাতে রাজা বলি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তবে যে রূপে তাদেরকে পেয়েছিলেন অর্থাৎ সদ্যজাত অবস্থায় সেই রূপেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

তাদের দাদাদের জীবিত অবস্থায় শ্রীকৃষ্ণ এবং বলরাম তার মায়ের কাছে নিয়ে যান।মৃত সন্তানদের  পুনরায় জীবিত অবস্থায় দেখে দেবকী অত্যন্ত খুশি হন এবংতার প্রত্যেককে সন্তান স্নেহ দিয়ে তার  দুগ্ধ পান করান।এরফলে  ওই ছয় দেবতার অভিশাপের মুক্তি ঘটে।তাঁরা পুনরায় অমরত্ব ফিরে পান এবং দেবতা রূপ ধারণ করে আবার দেবলোকে ফিরে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.