সমুদ্রে তলায় আজও সুরক্ষিত রয়েছে যে রহস্যময় শহর

নিউজ ডেস্ক –  কালের পরিবর্তনে ক্রমবর্ধিত সময়ের চক্রে আজ হারাতে বসেছে বহু প্রাচীন নিদর্শন। আজও গবেষকদের কাছে রহস্যময় হয়ে রয়েছে কিছু স্থান। যাদের মধ্যে পড়ে মিশর রহস্য। আজ এমন কিছু রহস্যময়ী স্থান রয়েছে যার স্থাপত্য হারিয়ে যাওয়ায় তার সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করতে বেগ পেতে হচ্ছে গবেষকদের। এছাড়াও তাজমহলের অভ্যন্তরে এমন কিছু ইতিহাস লোকানো রয়েছে যার সম্পর্কে আজও অজ্ঞাত বিশ্ববাসী সহ গবেষকরাও‌। ঠিক সেরকমই একটি রহস্যময় প্রাচীনতম নিদর্শন হল আজলান। কালের গহ্বরে স্থানটি প্রায় হারিয়ে গিয়েছে। 

ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে খোদিত রয়েছে আজলানের কথা। তবে কালের চক্রে ভগ্নপ্রায় হয়ে আজ প্রায় বিলীন হয়ে গিয়েছে সেই স্থানটি। তবুও সেই প্রাচীন যুগের নিদর্শন বা জনজীবন সম্পর্কে খোঁজ করার কাজ আজও চালু রেখেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। গবেষকদের মতে, আজলানের সভ্যতা আজটেক সভ্যতা নামে খ্যাত। প্রাচীন আমেরিকার অন্যতম   উন্নত সভ্যতা বলা হয় আজটেক সভ্যতাকে। মেক্সিকোর আজটেক জাতি গড়ে তুলেছিল এই সভ্যতা। অনেকের কাছেই এটি আটলান্টিক বা ক্যামেলোটের  মতো রহস্যময়ী শহর। কারণ এসব শহরের কোন অস্তিত্ব আজও কেউ খুঁজে পায়নি। শনাক্ত করা যায়নি কোনো অবস্থান। মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চল থেকে আজলান শহরের খোঁজ করা হয়েছে উতাহর মরুভূমি পর্যন্ত। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো চিহ্ন খুঁজে পাননি গবেষকরা। 

আজটেক সম্পর্কে পৌরাণিক ইতিহাসে একটি গল্প কথিত রয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে সেই সময়কার যুগে চিকোমোটযোগ যুগে সাতটি গুহায় বসবাস করত সাতটি উপজাতি। তারা হলেন আকোলহুয়া, চালচা, মেক্সিকা, তেপানেকা, তেলহুইয়া, তেলকালান ও জোচিমিলিকা। তবে ভিন্ন ভাবে ভিন্ন গুহায় অবস্থান করলেও সাত উপজাতির ভাষা ছিল একই। তাই পরবর্তীতে এই উপজাতিগুলি একত্রিত হয়ে আজ আজলান জাতি গঠন করে আজতালান দ্বীপে বসবাস করতে শুরু করেন। সেখানে ১১০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আজলানে বসবাস করেন উপজাতিরা। বর্তমানে বহু গবেষণা করার পরেও আজলান সম্পর্কে কোনো বিশেষ তথ্য না পাওয়া গেলেও যতটুকু ইতিহাস খুড়ে জানা যায় তার সম্পর্কে গবেষকরা জানান আজটেকরা আজলান ছেড়ে একসময়  ম্যাক্সিকোতে চলে গিয়েছিলেন। এর কারণ ছিল আজটেকের চিকোমোজতকরা। এই উপজাতীয় ঈষ্ট দেবতা ছিল হুইতিজিলোপোচলি। তারই নির্দেশানুসারে বলা হয়েছিল চিকোমোজতকরা ছাড়া আর কেউ নিজেকে আজকেট বলে পরিচয় দিতে পারবেন না। সেই কারনে ১০৬৪ খ্রিস্টাব্দের ২৪শে মে শহর ছেড়ে প্রথমে তেনোচিতালানে চলে যায় আজকেটরা। পরবর্তীতে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কারণ প্রতত্নবীদদের কথায় উতাহ মরুভূমির পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখার পর এটি জানা গিয়েছিল যে আজকেটদের প্রথম সভ্যতা গড়ে উঠেছিল আমেরিকায়, পরবর্তীতে অবশ্য তারা মেক্সিকোতে নিজেদের আধিপত্য গড়ে তুলেছিলেন।  তবে খাপছাড়া ভাবে আজকেটদের জনজীবন যাত্রা বিশ্লেষণ করা গেলেও সম্পূর্ণ ভাবে তা খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। কারণ মনে করা হয় আজকেটরা মূলত মেক্সিকানের বংশদূত ছিল। তাই আজকেটদের জনজীবন বিশ্লেষণ করতে গেলে প্রথমে মেক্সিকানদের সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তবে আজলান শহরের কোন অস্তিত্ব খুঁজে না পাওয়ার মূলত কারণ হলো সমুদ্রে তলিয়ে গিয়েছে নয়তো কোন দুর্যোগের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যার কারণে আজ এক রহস্যময়ী  দ্বীপ হয়ে রয়েছে আজলান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.