সত্যি কি রাবন অধর্মী ছিলেন? নাকি রামায়নে রাবনে চরিত্রের  পিছনে কোনো সত্য লুকিয়ে আছে?

নিউজ ডেস্কঃ রামায়নে রাম যেমন একটি প্রধান চরিত্র ঠিক তেমনি রাবনও একটি প্রধান চরিত্র।তাই রামায়নের কাহিনী বলতে গেলে রামের কথা যেমন উঠে ঠিক তেমনি রাবণের কথাও উঠে।সীতাকে রাবন হরন করার জন্যই তাকে আমরা অধর্মী বলে মনে করে থাকি।তবে সত্যি কি রাবন অধর্মী ছিলেন? নাকি রামায়নে রাবনে চরিত্রের  পিছনে কোনো সত্য লুকিয়ে আছে? জেনে নিন রাবনে হওয়ার আসল সত্য।

রাবন আসলে শিব উপাসক ছিলেন। তবে রাবন রক্ষস হিসাবে যেহেতু জন্ম হয়েছে তাই তাকে আমরা খলনায়ক হিসাবে দেখে থাকি।তবে রাবন কিন্তু আসলে রাক্ষস ছিলেন না।তিনি একটি অভিশাপের ফলে রাক্ষসকুলে জন্ম গ্রহন করেছিলেন।তাহলে জেনে নিন রাবন কেন রাক্ষস কুলে জন্মে ছিলেন?

রাবন ছিলেন বিষ্ণুদেবের দ্বাররক্ষী।প্রজাপতি ব্রাহ্মার চার মানসপুত্র ছিল যাদের নাম সনক, সদানন্দ, সনাতন এবং সনদকুমার।এরা ছিল খুবই জ্ঞানই এবং পণ্ডিত ঋষি তবে তাদের শারীরিক গঠন ছিল শিশুদের মতো।একদা এই চারজন ভগবান বিষ্ণুর দর্শন করার জন্যে যান বৈকুণ্ঠে।তখন ভগবান বিষ্ণুর দুই দ্বার রক্ষী ছিলেন জয় ও বিজয়।আর এই চারজন ভগবান বিষ্ণুর দর্শনে জন্য ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে জয় ও বিজয় তাদেরকে বাঁধা দেয়।আর এরজন্য ঋষিগন তাদের উপর রুষ্ট হয়ে তাদেরকে রাক্ষস হওয়ার অভিশাপ দেন।তারপর জয় ও বিজয় ওই ঋষিদের কাছে ক্ষমা চান এবং ভগবান বিষ্ণুও তাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্যে বলেন।তবে তারা এই অভিশাপকে ফিরতে না পারলেও তারা এই অভিশাপের প্রভাবকে কম করে দেয়।তারা বলে যে জয় ও বিজয় কে তিনবার রাক্ষস কুলে জন্ম নিতে হবে কিন্তু যদি তাদের মৃত্যু ভগবান বিষ্ণু বা তার অবতারের হাতে হয় তাহলে তারা এই অভিশাপের থেকে মুক্তি পাবে।তাই তারা প্রথম জন্মে হিরণ্যকশিপু ও হিরাণ্যাক্ষ হয় আর ভগবান তাদের সংহার করে।পরের জন্মে তারা রাবন ও কুম্ভকর্ণ হিসাবে জন্মগ্রহন করে রামের হাতে তারা বধ হয়।অবশেষে তারা শিশুপাল ও দন্তবক্র রূপে জন্মগ্রহন করে এবং তারা  শ্রীকৃষ্ণ হাতে বধ হয়ে মুক্তিলাভ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.