গুহা মানুষ খেয়ে নিতে পারে তা আবার হয় নাকি? কিন্তু প্রাচীনকাল থেকেই এই গুহার ভেতরে মানুষ ঢুকলে আর জীবিত না ফিরতে পারার কারণে

নানারকম রহস্যে মোড়া আমাদের এই পৃথিবী।পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে এমন ই বেশ কিছু অদ্ভুতূড়ে জায়গা যেগুলি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের মনে কৌতুহলের সৃষ্টি করেছিল ।আর এমনই একটি জায়গা হল পশ্চিম তুর্কির পাযুক্কাল শহরে অবস্থিত এক গুহা । আজ পর্যন্ত কোন প্রাণী বা মানুষ এই গুহা  থেকে বেঁচে ফিরতে পারেনি। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও অতীতে গ্রিস এর অন্তর্গত এই গুহাটি তাই মানুষখেকো গুহা নামেই পরিচিত ।

গুহা মানুষ খেয়ে নিতে পারে তা আবার হয় নাকি? কিন্তু প্রাচীনকাল থেকেই এই গুহার ভেতরে মানুষ ঢুকলে আর জীবিত না ফিরতে পারার কারণে এই গুহাকে কেন্দ্র করে নানা গল্পকথা গড়ে উঠেছিল। এমনকি ২০০০ বছর আগে গ্রিক ভৌগোলিক স্ট্রাবোর পুথি তেও এই গুহার কথা জানা যায় । সেই পুথি থেকে জানা যায় প্রাচীন গ্রিক শহর হিয়ারাপোলিসে অবস্থিত এপোলোর মন্দিরের পাশে এই রহস্যময় গুহাটি অবস্থিত ছিল। আর এই গুহার বৈশিষ্ট্য ছিল যে গুহার ভেতর কোন জন্তু জানোয়ার ছুড়ে দেওয়া হলে তা ফিরে আসতো না এমনকি কোন মানুষও যদি ভুল করে গুহার মুখ সামান্যও অতিক্রম করত তাহলে সেও আর কখনো ওখান থেকে ফিরে আসতে পারত না। তবে তার পুথি থেকে আর এক আশ্চর্যজনক ঘটনার কথা জানা যায় । তিনি লিখেছেন যে সাধারণ মানুষ এবং পশু সেখান থেকে ফিরে আসতে না পারলেও পুরোহিতরা এই গুহার ভেতরে ঢুকে আবার বের হয়ে আসতে পারতো, তবে তাদের মুখ অনেক সময় ফুলে উঠে রক্তাক্ত হয়ে যেত। আর তা থেকেই প্রাচীন গ্রীকবাসীর বিশ্বাস ছিল যে গুহাটি পরলোকে যাত্রার পথ এবং সাধারণ মানুষ জীবজন্তু সেখানে গেলে অপদেবতারা তাদের মেরে ফেলে কিন্তু পুরোহিত বা দেবতারা তাদের ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে সেই প্রতিকূল পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে ।

বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের মানসিকতা পাল্টেছে অনেকটাই। ভুত-প্রেত অপদেবতা বিশ্বাসও কেটেছে মানুষের। আর তার থেকেই বর্তমানে মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে যে গুহার ভেতরে সত্যিই কি আছে তা জানার ।বর্তমানে আমেরিকার নিউইয়র্ক কলেজের অধ্যাপক শেলডন বেশ কিছু নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। তার মধ্যে ওই গুহার ভেতরে নিজ থেকে প্রাকৃতিক কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়।সেই কারণেই মানুষ বা জীবজন্তু গুহায় প্রবেশ করলে সেই গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসকষ্টে মারা যেতো।

কিন্তু এখানেও একটি প্রশ্ন থেকে যায়। তাহলে পুরোহিতরা ওই গুহার প্রবেশ করলে কিভাবে নিরাপদে ফিরে আসতো? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান পুরোহিতরা আগে থেকেই গুহার ভেতরে থাকা ক্ষতিকারক গ্যাসের কথা জানত আর সেই কারণে তারা গুহার ভেতরে ঢুকলে দমবন্ধ করে থাকত এবং গুহা থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে নিজেদের শক্তি ও ক্ষমতার কথা প্রচার করত সাধারণ মানুষের মধ্যে ।আর এই ক্ষতিকারক গ্যাসের প্রভাবে তাদের মুখ রক্তাক্ত হয়ে ফুলে উঠতো।

কিন্তু গুহার ভেতরে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর উৎপত্তি কিভাবে তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন । সরেজমিনে দেখা যায় ওই অঞ্চলে রয়েছে প্রচুর উষ্ণ প্রস্রবণ যাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম কার্বনেট । আর এসিডের সাথে বিক্রিয়া ফলে তার থেকে উৎপন্ন হয় কার্বন-ডাই-অক্সাইড। কোন ফাটল থেকে সে কার্বন ডাই অক্সাইড এর বাষ্প ঢুকে যায় গুহার ভেতরে আর তার ফলে গুহার প্রবেশ পথ থেকে একটু এগোলেই মৃত্যু অনিবার্য ।

ভয়ংকর এই গুহার প্রবেশ পথে বর্তমানে তুর্কি সরকার এক লোহার পাত বসিয়ে দিয়েছে যাতে কৌতুহলী কোন মানুষ বা জন্তু সেই গুহায় প্রবেশ করতে না পারে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.