পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, একদিন পার্বতী মজার ছলেই দুটি নেত্র চেপে ধরেছিলেন মহাদেবের তারপর?

নিউজ ডেস্কঃ ভগবান শিবকে আমরা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সংহারকর্তা বলি।এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সংহারকর্তার দুই চোখ ছাড়াও কপালে রয়েছে একটি তৃতীয় নেত্র।শিবের এই তৃতীয় নেত্র আছে সেটা তো আমরা সবাই জানি কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই এই নেত্র সম্পর্কে বলতে গেলে বিশদে কিছুই জানে না।তাই আজকে আপনাদেরকে দেবাদিদেব মহাদেবের কপালে থাকা এই তৃতীয় নেত্রটি সম্পর্কে কিছু তথ্য যেমন- কেন এই তৃতীয় নেত্র? কি মানে এই নেত্রের? ইত্যাদি  জানাব যা আপনাদের অজানা।তাহলে আর দেরি না করে জেনে নিন দেবাদিদেব মহাদেবের এই  তৃতীয় নেত্রটি সম্পর্কে।

পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী,  একদিন পার্বতী মজার ছলেই দুটি নেত্র চেপে ধরেছিলেন মহাদেবের।যার কারনে এই গোটা বিশ্বে অন্ধকার নেমে এসেছিল।আর এই অন্ধকার দূর করে  পৃথিবীতে আলো দিতে মহাদেব তার তৃতীয় নেত্রটি খুলতে বাধ্য হয়েছিলেন।এই নেত্রটি খোলার ফলেই পৃথিবীতে আলো ও শক্তি ফিরে আসে।তবে শিবের চোখ থেকে উৎপন্ন হওয়া তাপের ফলে পার্বতীর দুই হাত ঘামতে থাকে।আর সেই ঘাম মাটিতে পড়তেই সেখান থেকে জন্ম হয় এক শিশুর।এই শিশুটির নাম হয় অন্ধকা।এই শিশুটিকে দত্তক নেয় এক অসুর।এবং এই শিশুটিকে একটি বর প্রদান করেন ভগবান শিব।তিনি বলেন যে অন্ধকার একমাত্র মৃত্যু হতে পারে যদি সে কখনও এমন কোনও মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হয় যার প্রতি তার আকৃষ্ট হওয়া উচিৎ নয়।এই বরেই বিশ্ব জয় করতে বেরিয়ে পড়ে অন্ধকা।তখন অন্ধকা পার্বতীকে দেখে পার্বতীর রূপে মুগ্ধ হয়ে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পরেন।তখন অন্ধকাকে মেরে ফেলেন শিব।তাই এই তৃতীয় নেত্রটি হল কোনও কামনাকে নিঃশেষ করে দেওয়ার একটি প্রতীক।

এছাড়াও আরেকটি পৌরাণিক  কাহিনী অনুযায়ী, মহাদেব সতীর মৃত্যুর পর শোকাহত হয়ে একটি গুহায় চলে যান এবং সেখানে গিয়ে মহাদেব গভীর ধ্যানে মগ্ন হয়ে যান। আর ওই সময়েই জন্ম হয় পার্বতীর।যিনি ছিলেন সতীরই রূপ।তবে শিবের এই  গভীর ধ্যান ভঙ্গ করতে পারছিলেন না দেবতারা। দেবতারা অনেক চেষ্টা করেও যখন মহাদেবের ধ্যান ভঙ্গ করতে পারছিলেন না তখন তারা প্রেমের দেবতা কামদেবকে মহাদেবের কাছে  পাঠায়।তখন মহাদেবের ধ্যান ভঙ্গ করতে মহাদেবকে কামদেব তিরের আঘাত করেন। মহাদেব তখন তার তৃতীয় নেত্র খুলে কামদেবকে ভস্মে পরিণত করেন।এই তৃতীয় নেত্র জ্ঞানের নেত্র।এবং বলা হয় যে মহাদেব তার এই নেত্রটি দিয়ে দুষ্টকে দমন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.