মাতা সীতা চারজনকে অভিশাপ দিয়েছিলেন।কিন্তু কেন?

নিউজ ডেস্কঃ ত্রেতা যুগে শ্রী রামচন্দ্র এবং মাতা সীতা হলেন ভগবান বিষ্ণু এবং মা লক্ষ্মীর অবতার।তাঁরা  রাজা দশরথের মৃত্যুর পর দশরথের পিন্ডদানের জন্য বিহারে অবস্থিত বুদ্ধ গয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে  মাতা সীতা চারজনকে অভিশাপ দিয়েছিলেন।কিন্তু কেন? কি এমন ঘটনা ঘটেছিল যার কারনে অভিশাপ দিয়েছিলেন সীতা? আর কারাই বা তাঁরা যারা আজ পর্যন্ত এই অভিশাপের প্রভাব ভুগছে? 

রাম এবং লক্ষণ বুদ্ধ গয়া গিয়ে দশরথের পিণ্ডদানের সামগ্রীক আনতে যান। তখন দুই ভাইয়ের ফিরতে দেরি হয়।এদিকে রাজা দশরথের পিন্ডদানের সময় পেরিয়ে যাচ্ছিল।তখন হঠাৎ মাতা সীতাকে রাজা দশরথ দর্শন দিয়ে বলেন যে তৎক্ষণাৎ পিন্ডদান করার কথা এবং তাঁর সাথে তিনি বলেন যে তাঁর খুব খিদে পেয়েছে।এই শুনে  সীতা দশরথকে বলেন যে  তার দুই পুত্র পিন্ডদানের সামগ্রীক আনার জন্য বাইরে গেছে।তাই তারা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে যাতে রাম, লক্ষণ এবং সীতা একসাথে পিন্ডদান করতে পারেন।কিন্তু অপেক্ষা করতে চাইলেন না রাজা  দশরথ।তখন রাজা দশরথ  মাতা সীতাকে বলেন যে ফল্গু নদীর তীরে থাকা বালি দিয়ে তার পিন্ডদান করতে।

রাজা দশরথের কথায় শুনে মাতা সিতা সঠিক বিধি বিধান পালন করে রাজা দশরথের পিণ্ড দান করে দিলেন রাম লক্ষণ আসার আগেই।তখন ওখানে ওই সময় উপস্থিত ছিলেন পাঁচজন যারা মাতা সীতাকে পিন্ডদান করতে দেখেছিলেন।এই পাঁচজন হলেন অক্ষয় বট অর্থাৎ বট গাছ,  ফল্গু নদী, একটি গরু, একটি তুলসী গাছ এবং একজন ব্রাহ্মণ।রাম লক্ষন  ফিরে আসে  পিন্ডদানের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন মাতা সীতা তাদেরকে  সময় এর মাহাত্ম্য বুঝিয়ে বললেন যে তিনি পিন্ডদান করে দিয়েছেন। তখন মা সীতা তাঁর কথা সত্যি প্রমাণ করার জন্য ওই সময় উপস্থিত থাকা ওই পাঁচজন সাক্ষীর কাছে রামচন্দ্রকে নিয়ে গেলেন। ওই পাঁচজনের কাছে গিয়ে মাতা সীতা পিণ্ডদানের বিষয়ে সত্যি কথা রামের সামনে বলতে বললেন। তবে তাদের মধ্যে শুধু মাত্র বটগাছ ছাড়া বাকি সবাই কথাটিকে অস্বীকার করলেন। নদী, গরু তুলসী গাছ ও ব্রাহ্মণ তাঁরা একত্রে বলেন যে  সীতা পিণ্ডদান  করেননি। সেইসময় রাম এবং লক্ষণের সামনে  স্বয়ং রাজা দশরথের আত্মা উপস্থিত হলেন এবং তাদেরকে জানালেই যে  সীতা সমস্ত বিধি বিধান পালন করে তার পিন্ডদান করেছেন। তখন মাতা সীতার কথাটি সত্য বলে প্রমাণিত হল।

তখন সীতা ওই চারজনকে মিথ্যে কথার বলার জন্য অভিশাপ দিলেন। ফল্গু নদীকে মাতা সীতা অভিশাপ দিলেন যে গয়াতে নদী কেবল পৃথিবীর নীচ দিয়ে প্রবাহিত হবে। গরুকে অভিশাপ দিলেন তার পূজা সব বাড়িতেই হবে ঠিকই কিন্তু তাকে বাসি খাবার খেতে দেওয়া হবে। তুলসী কে অভিশাপ দিলেন গয়াতে কোন তুলসী গাছ জন্মাবে না।আর অবশেষ ব্রাহ্মণকে অভিশাপ দিলেন যে গোয়াতে ব্রাহ্মণ কখনো সুখী হবে না এবং সবসময় দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে তাকে বাঁচতে হবে।এবং বটগাছ সত্য কথা বলার জন্য সীতা তাকে  আশীর্বাদ দিলেন যে গয়াতে যে পিন্ডদান করতে আসবেন সে বটগাছকেও পিন্ডদান করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.