দক্ষিণ আমেরিকা ও ভেনিজুয়েলার উত্তরীয় উপকূলবর্তী অঞ্চলের মাঝে রয়েছে একটি ছোট্ট রাজ্য গায়ানা। সেখানেই চলত দুষ্কর্ম ভণ্ড সাধুর

নিউজ ডেস্ক –  একুশ দশকের শিক্ষিত সমাজে দাঁড়িয়েও সাধু সন্ন্যাসীর আধ্যাত্বিক সাধু বাবাদের গোঁড়ামির বেড়াজাল থেকে বেরোতে পারেননি বহু সাধারণ মানুষ। যার কারণে রক্ত জল করা উপার্জিত  অর্থের সিংহভাগই চলে যায় এই ভন্ড সাধুদের কাছে। প্রকাশ্যে নিজেদের ভগবানের দুত সাধুবাবা হিসাবে প্রকাশ করলেও রাতের অন্ধকারে সকলের অলক্ষ্যে অবৈধভাবে নারী শরীরের ব্যবসা করে চলেছেন এই ভন্ড সাধুরা। ধর্মপ্রচারের নামে দীর্ঘদিন ধরে নিত্যনতুন নারী সঙ্গীকে নিয়ে দেহ ব্যবসা করতেন রামরহিম। ‌ পরবর্তীতে  সাংবাদিক ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নজরে আসায় সাধুর ভন্ডামী সকলের সামনে প্রকাশ পাওয়ায় কারাগারের পেছনে নিবাস হয়েছিল রামরহিমের। তবে এরকম দৃশ্য আজ থেকে বহু বছর আগে দেখা গিয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকায়। 

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যাবে ১৯৭৮ সালে দক্ষিণ আমেরিকা ও ভেনিজুয়েলার উত্তরীয় উপকূলবর্তী অঞ্চলের মাঝে রয়েছে একটি ছোট্ট রাজ্য গায়ানা। সেখানেই পিপলস টেম্পল নামে এক সংস্থা স্থাপন করে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক সন্ন্যাসী জিম জোনাস। সেখানকার সকল নাগরিকদের অর্থ লোভ বা দেশের মায়া ত্যাগ করার পরামর্শ দিতেন তিনি।  এছাড়াও সকল নাবালিকা মেয়েরা সাবালিকা হলেই তাদের সঙ্গে প্রথম যৌন মিলন করার নিয়ম বানিয়েছিলো এই ভন্ড সাধু। জঙ্গলের মধ্যে  অবস্থিত এই পিপলস টেম্পেলে দীর্ঘদিন ধরে নিজের অরাজকতা চালিয়েছেন জিম জোনস।  কিন্তু সেই সময় বিষয়টি  জানাজানি হতেই বহুকষ্টে সেই টেম্পেলে প্রবেশ করেছিলেন সাংবাদিকরা। এরপরই সকলের সামনে জেমসের নোংরামি তুলে ধরলে বেকায়দায় পড়ে যান ভন্ড সাধু। সেই সময় পিপলস টেম্পল পরিদর্শনে আসেন আইনজীবী লিও রায়ান। সেখানেই স্বভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যবহৃত ড্রাগস, রহস্যজনক মৃত্যু, মাস স্যুইসাইডে প্রস্ততির বিষয়ক আলোচনা করেন এই সফরে‌।

পরবর্তীতে টেম্পেল পরিদর্শন করে ফিরে যাওয়ার সময় তার বিমানবন্দরে অতর্কিত হামলা করে কয়েকজন দুষ্কৃতী। ‌ সেই ঘটনার পরেই জিম জোনস এক হাতিয়ার পেয়ে যান তাঁর ভক্তগণদের ব্রেন ওয়াশ করার জন্য। ‌ সেই সময় সকল গোষ্ঠীর মধ্যে এই মনোভাব ছড়িয়ে দিয়েছিলেন যে রায়ানের মতোই তাদেরকেও বিমান হামলা মতো ভয়াবহভাবে খুন  করে দেওয়া হবে। যার হাত থেকে বাঁচতে এক প্রকার বিশেষ জল খেতে বলেছিলেন জোনস‌। আর সেই পানীয়তেই মেশানো ছিল বিষ। পরবর্তীতে সকল গোষ্ঠী বৃন্দরা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার পরে নিজের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন ভন্ড সাধু জিম জোনস।  কালের নিয়মে গণহত্যার সেই ভয়াবহতা সারা দেশে কালরাত্রি হিসেবে খোদিত। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.