যেকোনো ফল শক্তি এবং সতেজতার সর্বোত্তম উৎস

জৈষ্ঠ্যের অস্থির গরমে নাজেহাল দেশবাসী। এইসময় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করার সাথে সাথে প্রত্যেকেরই নিজের শরীরকে ঠান্ডা রাখা দরকার ।  স্কুলের ছোট বাচ্চা  থেকে শুরু করে কলেজ স্টুডেন্ট, অফিসগামী থেকে বিক্রেতা, সূর্য সবাইকেই সমানভাবে নির্যাতন করে। যেন কোনো অদৃশ্য স্ট্র দিয়ে দেহের সমস্ত শক্তি শোষণ করে ফেলছে।সুতরাং, মারাত্মক গরমের হাত থেকে কিছুটা রেহাই পেতে একটি ভাল রিফ্রেসার অপরিহার্য যা শরীরকে হাইড্রেটেড এবং তাজা রাখা প্রত্যেকের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গরমে যতটা সম্ভব কার্বনেটেড পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এই পানীয়গুলি শরীরে জলের পরিমাণ নিঃশেষ করে দেয় যা শরীরের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক।  বিভিন্ন দেহ বিভিন্ন পানীয়তে ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।  ফলের রস একজনের জন্য কাজ করতে পারে কিন্তু অন্যের জন্য নয়।  একইভাবে, আখের রস সবার জন্য কাজ নাও করতে পারে।  অতএব, এখানে কিছু সুস্বাদু পানীয় এর একটি তালিকা রয়েছে যা থেকে আপনার পছন্দ মত একটি  বেছে নিতে পারেন।

ফলের রস

যেকোনো ফল শক্তি এবং সতেজতার সর্বোত্তম উৎস।  ফলের রস গরম থেকে মুক্তি দেয়।  বিশেষ করে, আম, তরমুজের মতো গ্রীষ্ম বিশেষ ফল শরীরে তাৎক্ষণিক শীতলতা দিতে পারে!  বিশেষ করে, তরমুজে প্রাকৃতিকভাবে হাইড্রেটিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শরীরকে দীর্ঘ সময়ের জন্য হাইড্রেটেড এবং সতেজ রাখে।  আরেকটি দুর্দান্ত ফলের রস হল মিষ্টি লেবু বা মুসাম্বি।

নিম্বু পানি বা লেমনেড

পাতি লেবুর দাম এখন আকাশ ছোঁয়া ,  গ্রীষ্মে সবচেয়ে বেশি  চাহিদা থাকে  লেমোনেডের। বিশেষ করে এখন, যখন তাপ তরঙ্গ আক্ষরিক অর্থেই প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। পানীয়টি তৈরি করতে সময় লাগে খুবই কম এবং এটি অত্যন্ত সুস্বাদু।  লেবু, চিনি, লবণ এবং জল ব্যবহার করেই প্রস্তুত করা যায় নিম্বু পানি। আরও আকর্ষণীয় ও সুস্বাদু করতে  জিরে গুঁড়ো, ধনে গুঁড়া, কালো মরিচ ইত্যাদি মশলা যোগ করতে পারেন।  পুদিনা পাতা এটিকে আরও  এক ধাপ ভালো স্বাদ এনে দেয় ।

লস্যি 

অনেকেরই এই গরমে প্রথম পছন্দ থাকে এক গ্লাস লস্যি। এক গ্লাস লস্যি শুধু পেটই ভরায় না , হৃদয়ও ভরায় ।  সাধারণত, দই, বরফ এবং চিনি একত্রিত করে এই জিভে জল আনা পানীয়টি তৈরি করা হয়। উপরে দেওয়া থাকে ঘন দুধের মালাই । স্বর্গ সুখ কি সেটা এই মালাই মুখে দিলেই বোঝা যাবে । চামচ দিয়ে মাটির পাত্রে দই, চিনি এবং বরফ ফেটিয়ে লস্যি তৈরি হয়।   তবে এখন আধুনিক গ্রাইন্ডার এবং ব্লেন্ডার ব্যবহার করা হয়। এগুলি অনেক দোকানের ঐতিহ্যবাহী কাঠের পাত্রগুলিকে প্রতিস্থাপন করেছে।  কিন্তু লস্যির স্বাদ খুব একটা বদলায়নি। লস্যি অনেক কিছু দিয়েই এখন কাস্টোমাইস করা হয়। ক্লাসিক থেকে পুদিনা, অ্যাভোকাডো, গোলাপ, আম থেকে কলা, আখরোট লস্যি এবং আরও অনেক কিছু ! 

আখের রস

গ্রীষ্মের আগমনের সাথে সাথেই বিক্রেতারা তাজা আখ নিয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটছেন।  কয়েকটা পুদিনা দিয়ে পরিবেশন করলে এটি আরও নিখুঁত রিফ্রেশার হয়ে ওঠে। আখ অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসাবে ব্যবহৃত হয়।  শুধুমাত্র এনার্জি ড্রিংকই নয় আখের রস প্লাজমা এবং শরীরের তরল তৈরি করতে সাহায্য করে, এবং  ডিহাইড্রেশন এবং নিস্তেজতা মোকাবেলায় সাহায্য করে।  এই গরমে আর কি দরকার!

ডাবের জল 

ভারত এমন একটি ভাগ্যবান দেশ যেখানে ডাবের প্রচুর সরবরাহ রয়েছে।   এক গ্লাস ঠাণ্ডা ডাবের জল তাৎক্ষণিকভাবে একজনের শরীর ঠান্ডা করে আরাম দিতে পারে।  এটি একটি দুর্দান্ত ইলেক্ট্রোলাইট হিসাবেও কাজ করে, তাই যখনই কেউ ডিহাইড্রেটেড বোধ করেন, তখন এক গ্লাস ডাবের জল খেয়ে নিন।  সব চেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায় সরাসরি ডাব থেকে জল খেলে। 

বাটার মিল্ক (চাস)

বাটারমিল্ক বা চাস একটি আশ্চর্যজনক দুধ ভিত্তিক পানীয়।   এটি  হজমে উপকারী।  জিরে গুঁড়ার মত মশলা দিয়ে  এই পানীয়টি তৈরি করা হয়   । এতে সাধারণ দুগ্ধ জাতীয় খাবারের চেয়ে  কম পরিমাণে চর্বি থাকে এবং তাই গ্রীষ্মের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত পানীয়।  এটি ভাজা ভুট্টার সাথে ঠান্ডা পরিবেশন করা হয়।  এটি তাপের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য একটি যথাযথ পানীয় ।   এই পানীয়টি শুধুমাত্র সতেজতা নয়, শক্তিও দেয়। তাই এই গ্রীষ্মের সময় অবশ্যই খেয়ে দেখুন বাটার মিল্ক।

সত্তুর শরবত

সত্তুর শরবত বা ছাতুর সরবত বিহারের একটি জনপ্রিয় পানীয়  যা শরীরকে শীতল রাখে, বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে।  সাধারণ  সমস্ত উপাদান ব্যবহার করে এই পানীয়টি তৈরি করা হয়- যেমন ছাতু, চিনি এবং জল। এটা শুধু রিফ্রেশই নয় বেশ ফিলিংও। এই পানীয়টি বেশ কিছুক্ষন পেট ভার করে রাখতে পারে ।   এটি আগে গ্রামেই বেশি প্রচলিত  ছিল কিন্তু এর ঠাণ্ডা ও ভরাট বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি শহরাঞ্চলেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।  এখন এটি সমগ্র দেশে, বিশেষ করে গরম অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়।  অনেক বিক্রেতা গ্রীষ্মকালে ছাতুর শরবত বিক্রির ব্যবসা শুরু করে।

জল-জিরা

জিরে এবং জল দিয়ে তৈরি করা হয় জল-জিরা।  জিরে ভারতীয় রান্নাঘরের অন্যতম প্রধান উপাদান।  এটিতে প্রাকৃতিক শরীর শীতল করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে।  জিরে ভুনা করে জলে মেশানো হয়।  যারা হজমের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি নিখুঁত পানীয়, বিশেষ করে এই গ্রীষ্মকালে।  জল-জিরা পাউডার স্যাচেটগুলি সারা ভারতে পাওয়া যায় যা এটির প্রস্তুতিকে আরও  সহজ করে তুলেছে । এটিতে বিভিন্ন মশলা মিশ্রিত থাকে যা সাধারণ জল-জিরাকে জিভে সুড়সুড়ি দেওয়ার মত স্বাদ দেয়।

আম পান্না

একটি চমৎকার  টক- মিষ্টি পানীয় যা মহারাষ্ট্রে খুব জনপ্রিয় ।এটি  ভারতের জাতীয় ফল আম দিয়ে তৈরি করা হয় তবে আমটি থাকে কাঁচা। এই রিফ্রেশিং এবং সহজ পানীয়টি কাঁচা আমের পাল্প এর সঙ্গে জিরা এবং পুদিনা পাতা দিয়ে তৈরি করা হয়।  এই পানীয়টি কেবল সতেজই নয়, শক্তিও জোগায়।  আম পান্না অত্যধিক ঘামের কারণে শরীর থেকে সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং আয়রন হারাতে বাধা দেয়।  অতএব, এই গ্রীষ্মে তাপ তরঙ্গকে পরাস্ত করতে, অবশ্যই আম পান্না খান ।

এই অত্যাধিক গরম কাজে বেঘাত ঘটায়। বিশেষ করে যাদের যাতায়াতের জন্য  পাবলিক ট্রান্সপোর্টই একমাত্র  সম্বল ।   তাই এই আবহাওয়ায় ফুটন্ত শরীরকে এবং  গরম   মাথা ঠান্ডা করার জন্য এই রিফ্রেশমেন্টগুলির মধ্যে যেকোনো  একটি তৈরি করার চেষ্টা করা যেতে পারে!

Leave a Reply

Your email address will not be published.